মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ৩ বৈশাখ ১৪২০
তাজরীনে হতাহতদের ক্ষতিপূরণে নারাজ ওয়ালমার্ট
তবে হংকংয়ের লি এ্যান্ড ফুং রাজি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা ওয়াল-মার্ট ও সিয়ার্স হোল্ডিং কর্পোরেশন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মতি জানিয়েছে হংকংয়ের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান লি এ্যান্ড ফুং লিমিটেড। ব্লুমবার্গ বিজনেস উইকের এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে কাজ করছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ওয়ার্কার্স রাইটস কনসোর্টিয়ামের। এ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক স্কট নোভা জানিয়েছেন, তাজরীনে যেসব প্রতিষ্ঠানের পোশাক উৎপাদন হতো- শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে সেসব প্রতিষ্ঠানের ডাকা জেনেভা সম্মেলনে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়ালমার্ট ও সিয়ার্স। এই বৈঠকে অংশগ্রহণ না করে তারা এটাই বোঝাতে চাইছে যে, তাজরীনে কর্মরত শ্রমিকদের মৃত্যুকে তারা সমর্থন করে এবং এ ধরনের মৃত্যু তাদের মাথাব্যথার বিষয় নয়।
শ্রমিক নেত্রী নোভা বলেন, ‘সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে যে ক্ষতিপূরণ আসবে তা তাজরীন অগ্নিকা-ে নিহত ১১২ ও আহত ১০০ শ্রমিকের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
আমস্টার্ডামভিত্তিক অধিকার সংগঠন ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইনের উদ্ধৃতি দিয়ে নোভা জানান, ‘তাজরীনে ১ হাজার ১শ’ শ্রমিক কাজ করলেও অগ্নিকা-ের সময় কারখানায় ৬শ’র মতো শ্রমিক অবস্থান করছিলেন।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ নবেম্বর তাজরীন ডিজাইন লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ১১২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও তাজরীন পুনর্গঠনে সহায়তা করার জন্য ওয়ালমার্টসহ পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি চাপ আসে। ওই অগ্নিকা-ে ওয়ালমার্ট ও সিয়ার্সের জন্য তৈরি করা পোশাকও ভস্মীভূত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে দুটি প্রতিষ্ঠানই দাবি করে, পরিবেশক কোম্পানিগুলো তাদের পূর্বানুমতি ছাড়াই তাজরীন থেকে পোশাক সরবরাহ করেছে। সিয়ার্স ও ওয়ালমার্টের সরাসরি কোন শ্রমিক বাংলাদেশে কাজ করে না। তাই আইনত এ দুটি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়।
শ্রম অধিকার সংগঠন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, ‘এই বৈঠকে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক ই-মেইল বিবৃতিতে সিয়ার্সের মুখপাত্র হাওয়ার্ড রাইফস বলেন, ‘জেনেভার এই বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিশ্বের অন্যান্য পোশাক পরিবেশক কোম্পানিগুলোকে অগ্নি-নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
অন্যদিকে ওয়ালমার্টের মুখপাত্র কেভিন গার্ডনার জেনেভার বৈঠকে উপস্থিত অথবা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর দেননি। তবে অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে বলে জানায় ওয়ালমার্ট।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ালমার্ট জানায়, ‘বাংলাদেশের পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার জন্য গত ৯ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারী সংগঠন ‘ইনস্টিটিউট অব সাসটেনেবল কমিউনিটিজ’কে ১৬ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়ালমার্ট।’
ক্ষতির তুলনায় এই সামান্য পরিমাণ অনুদানকে ‘মূল্যহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন শ্রমিক নেত্রী স্কট নোভা। তবে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ হাজার ২৮০ মার্কিন ডলার (প্রায় এক লাখ টাকা) অনুদান দিতে সম্মত হয়েছে হংকংয়ের লি এন্ড ফুং। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের শিশুসন্তানদের শিক্ষার জন্য একটি ‘শিক্ষা তহবিল’ প্রতিষ্ঠারও ঘোষণা দিয়েছে হংকংয়ের প্রতিষ্ঠানটি।