মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ৩ বৈশাখ ১৪২০
রক্তপাত, সহিংসতার দায় বিএনপিকে নিতে হবে ॥ নাসিম
১৪ দলের পাঁচ দিনের কর্মসূচী
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে জনমত সৃষ্টি এবং দেশজুড়ে বিএনপি-জামায়াতের অব্যাহত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পাঁচ দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে ১৮ এপ্রিল ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে নারী নেতাদের সঙ্গে সংহতি বৈঠক এবং ২, ৩ ও ৪ মে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১৪ দল। সোমবার দুপুরে ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
বৈঠক শেষে ১৪ দলের পক্ষে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতা কয়েকদিন ধরে বলছেন, দেশে আরও রক্তপাত ও সহিংসতা হবে। তাঁরা এসব কথা কীভাবে বলছেন, তা শুনে আমরা বিস্মিত হই। তাই দেশে আর যদি কোন সহিংসতা হয়, তাহলে এর দায়-দায়িত্ব বিএনপিকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে রক্তপাতের ঘোষণা দিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিতে উস্কানিমূলক কর্মকা- পরিচালনা করছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, রেললাইন উপড়ে ফেলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পুলিশের ওপর নিষ্ঠুর হামলা পরিচালনা করছে। এটা কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নামে-বেনামে একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। তবে ১৪ দল সাম্প্রদায়িকতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচীর মাধ্যমে আরেকটি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। এর আগে ৬ এপ্রিল বিএনপি-জামায়াত হেফাজতের কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। এ নিয়ে জাতি শঙ্কিত ছিল। কিন্তু সরকার তা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে। আগামীতেও হেফাজতের হুমকি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করবে সরকার।
সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে রূপরেখা চেয়েছে ১৪ দলের শরিক দলগুলো। আওয়ামী লীগের রূপরেখার সঙ্গে নিজেদের রূপরেখার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সম্পূর্ণ রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে টিআইবি যে প্রস্তাব দিয়েছে তা আসলে বিএনপির প্রস্তাবেরই সম্প্রসারণ। এ সময় কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ড. ওয়াজেদুল ইসলাম বলেন, বিএনপিই তাদের ফর্মুলা টিআইবিকে দিয়ে উত্থাপন করিয়েছে। তিনি এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তৈরীর আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দল মিলে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তৈরি করে সেটা জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। এ ছাড়া বৈঠকে গণজাগরণ মঞ্চের বিষয়ে ১৪ দলের কয়েক নেতা মন্তব্য করেন। বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে ছাত্রলীগকে গণজাগরণ মঞ্চে অংশ নেয়া উচিত। যেহেতু গণজাগরণ মঞ্চে কোন কমিটি নেই অথবা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নেই তাই মাঝে মধ্যেই তাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এগুলো কাটিয়ে মঞ্চের সাফল্য কামনা করেন কয়েক নেতা।
শুভ নববর্ষ ১৪২০ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে সমগ্র দেশবাসীকে পুনর্বার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দলের সভায় বিপ্লবী বিনোদ বিহারীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সভায় ভুজপুরে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিলে বিএনপি-জামায়াতের সংঘবদ্ধ হামলা, রাজশাহীতে ছাত্রলীগ নেতা রুবেল হত্যা, অওয়ামী লীগের যুহ্মগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফের বাসায় ককটেল নিক্ষেপ এবং খুলনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণকে উদ্দেশ করে বোমা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
জনগণ বিরোধী দলের কর্মসূচী প্রত্যাখ্যান করছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জনগণ যে বিরোধী দলের এসব কর্মকান্ড প্রত্যাখ্যান করছে তার বড় প্রমান হলো পহেলা বৈশাখ। এবারের মতো এত সুন্দরভাবে পহেলা বৈশাখ আগে পালিত হয়নি। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসব উদযাপন করেছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব উল আলম হানিফ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, উপ-দফতর সম্পাদক এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ খালেদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ডা. অসিত বরণ রায়, সাম্যবাদী দলের নেতা আবু হামেদ শাহাবউদ্দিন, লুৎফর রহমান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম, ডা. শাহাদাৎ হোসেন, ডা. শহীদুল্লাহ, গণআজাদী লীগের সভাপতি আলহাজ আব্দুস সামাদ, এস কে সিকদার, আব্দুল জব্বার, মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।