মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ৩ বৈশাখ ১৪২০
খালেদা উপভোগ করলেন জাসাসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রথমবারের মতো বর্ষবরণের আয়োজন করল বিএনপি। রবিবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ বর্ষবরণের আয়োজন করা হয়। আর এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। দর্শক সারিতে বসে তিনি আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করলেও কোন বক্তৃতা রাখেননি।
বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যদিও এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করার কথা ছিল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয়তাবাদী সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও নববর্ষ উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় এ বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। এতে হাতে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন সামগ্রী স্থান পায়।
বিএনপির সহসভাপতি সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহসভাপতি রাবেয়া চৌধুরী, মহানগর সভাপতি সুলতানা আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন মেলায় উপস্থিত ছিলেন। সকাল ৮ থেকে শুরু হয় অনুষ্ঠান। চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দর্শক হয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
সন্ধ্যা ৬টায় খালেদা জিয়া জাসাসের এ অনুষ্ঠানে এসে যোগ দেন। তিনি পুরো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন, মনির খান, বাদশা বুলবুল, দিঠি প্রমুখ শিল্পীরা। এ ছাড়া বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত গম্ভীরা গান, বগুড়া ইয়ুথকয়্যারের শিল্পীরাও গান পরিবেশন করেন। সরকারের দুর্নীতি, ব্যর্থতা নিয়ে বিশেষ রম্যনাটক পরিবেশন করেন নাটক ও চলচ্চিত্রের শিল্পীরা।
দলীয় প্রধানের আগমন উপলক্ষে নয়াপল্টনে সড়কে হাজার হাজার নেতাকর্মীর সমাবেশ ঘটে। পুরো সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর পৌঁছলে কাকরাইল থেকে নেতাকর্মীদের ডিঙ্গিয়ে তাকে কার্যালয়ের সামনে মঞ্চের কাছে নিয়ে যেতে নিরাপত্তা কর্মীদের বেগ পেতে হয়। পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তৈরি মঞ্চের সামনে পৌঁছলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জাসাস সভাপতি এম এ মালেক বিরোধীদলীয় নেতাকে অভ্যর্থনা জানান।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগে জাসাসের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার। জাসাস সভাপতি এমএ মালেকের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, শিক্ষা সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আবুল খায়ের ভুঁইয়া এমপি, সহছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহিলা দল সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, জাসাস সাধারণ সম্পাদক মনির খান।
আলোচনাসভায় বিএনপি নেতারা বলেন, বিগত বছরটিতে নানা কারণে আমরা ব্যথিত। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পুলিশ নেতাদের আটক করেছে। দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তছনছ করেছে। সরকার তার চর দিয়ে আমাদের মিছিল-সমাবেশ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গুলি করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়েছে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তারা নতুন বছরকে আশার আলো হিসেবে উল্লেখ করেন। জাসাসের ব্যবস্থাপনায় বিএনপির বাংলা বর্ষবরণের এ আয়োজনে আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তারা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোক জমায়েত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।