মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৩, ২৯ ফাল্গুন ১৪১৯
বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ॥ রাজীব সিক্রি
বিডিনিউজ ॥ বাংলাদেশকে ‘ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব রাজীব সিক্রি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাহায্য ও সমর্থন ছাড়া আমরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যেতে পারব না। আমাদের ‘পূর্বমুখী নীতি’র সফলতার জন্য বাংলাদেশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজীব সিক্রি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) হিসেবে অবসর নিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী বীণা সিক্রি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন। মঙ্গলবার কলকাতায় ‘বিমসটেক : অগ্রগতির পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন সিক্রি।
চীনকে ‘সম্প্রসারণবাদী’ ও পাকিস্তানকে ‘গোলযোগ ও হুমকির নিরবচ্ছিন্ন উৎস’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও এর সৃষ্ট সমস্যার কারণে সার্কে কোন অগ্রগতি হচ্ছে না। ভারতের জন্য পশ্চিমের চেয়ে পূবে কৌশলগত অবস্থান গড়ে তোলার সুযোগ অনেক বেশি।
দুদিনের এই সেমিনারে কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ীরা যোগ দিয়েছেন। বিমসটেক সদস্য দেশের কনসাল জেনারেলরাও এতে অংশ নিচ্ছেন এবং তারা একটা করে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন অধ্যয়ন কেন্দ্র (সিএসআইআরডি) ও পররাষ্ট্র নীতি অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট (আইএফপিএস) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সিক্রি বলেন, ভারতকে অবশ্যই বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চল আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
সিক্রি বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার চেয়ে আঞ্চলিক ফোরামে আলোচনা করতেই বাংলাদেশ অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকে বলে মনে হয়।
দেখা যাচ্ছে, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সম্পর্ক তৈরির চেয়ে আঞ্চলিক কাঠামোতে সম্পর্ক তৈরিতে স্বস্তি অনুভব করে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, এটা কেন হচ্ছে তা আমরা বুঝি। কিন্তু ভারতের উচিত বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো বুঝে তা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে আর মুখোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশকে সন্তুষ্ট করতে হলে দেশটি যা চায় তা দিল্লীকে দিতে হবে। কেন আমরা এখনই তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারছি না? এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
জে আর মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে অর্থপূর্ণ উপায়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রশমন করেছে।
কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের সভাপতিত্বে এক অধিবেশনের উপস্থাপনার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ভারতের এই সামরিক কর্মকর্তা আরও বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ট্রানজিট আশা করে, তাহলে বাংলাদেশকে অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান বিক্রম সরকার বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিরোধিতায় যেই হোক না কেন কোন যৌক্তিকতা নেই।
অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় সরকার আরও বলেন, আমাদের কিছুই হারাতে হবে না বরং আমরা লাভবান হব। আমি বুঝি না কেন কেউ কেউ এই চুক্তির বিরোধিতা করছে।