মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৩, ২৯ ফাল্গুন ১৪১৯
দশ সিটি কর্পোরেশনকে ‘নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের নির্দেশ
মেয়র আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাহী হবেন সদস্য সচিব
তৌহিদুর রহমান ॥ দেশের ১০ সিটি কর্পোরেশনকে ‘সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। তবে যেসব সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নেই সেসব সিটি কর্পোরেশনের আহ্বায়ক হবেন প্রশাসক। সোমবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অপরদিকে এই কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
যে ১০টি সিটি কর্পোরেশনকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন। এসব সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১০ সিটি কর্পোরেশনকে সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি ও দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা রোধ এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গণসংযোগের মাধ্যমে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে ‘সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তবে মহানগর এলাকায় এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয় স্থানীয় সরকার বিভাগকে। সে অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগ এই নির্দেশনা প্রদান করেছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন শাখা-দুই থেকে পাঠানো এই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা প্রশাসককে আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় সহিংসতা ও নাশকতা রোধ ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করবে। সংসদ সদস্যরা তাঁদের নিজ এলাকায় অবস্থান করলে তাঁরা বিশেষ আমন্ত্রণে এই মহানগর কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন।
সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির সভার কার্যবিবরণীর অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও প্রয়োজন অনুসারে অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, গ্রামগঞ্জে প্রতিটি এলাকায় ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের জন্য দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ, আলেম-ওলামাসহ স্বাধীনতার পক্ষের সব মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষসহ প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে প্রতিটি এলাকায় এই সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করুন, যাতে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি মানুষের জানমালের কোন ক্ষতি করতে না পারে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যেন অক্ষুণœ থাকে। তিনি সারাদেশে এই সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠনে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মহাজোটের সব সংসদ সদস্যকেও নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ মদদে দেশে সন্ত্রাস ও সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সারাদেশে হরতাল ডেকে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু জনসাধারণের সমর্থন না থাকায় সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কয়েকটি স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হরতাল সমর্থনকারী উচ্ছৃঙ্খল জামায়াত-শিবিরকর্মীরা হিংসাত্মক কর্মকা- চালিয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার এবং তদন্তপূর্বক দ্রুত দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সংঘটিত হানাহানি ও নাশকতামূলক কর্মকা-ের চেষ্টা রোধ করে জনজীবনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য স্থানীয় জনসাধারণের সচেতনতা ও সহযোগিতার বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন নিয়ে সন্ত্রাস ও নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পরে দেশে সহিংসতা শুরু করে জামায়াত-শিবির। এ সময় প্রায় ত্রিশ জন সাধারণ মানুষ ও সরকারী দলের নেতাকর্মীরা জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে প্রাণ হারান। আর জামায়াত-শিবিরের গুলিতে মারা যায় ছয় পুলিশ। আর ত্রিশের অধিক মারা যায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। অপরদিকে জাতীয় সংসদে বলা হয় সহিংসতায় সারাদেশে ৬৭ জন মারা গেছেন। প্রাণহানির সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয়। এ প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।