মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৩, ২৯ ফাল্গুন ১৪১৯
ঢাকায় ছাড়িয়েছে দশ লাখ, সারাদেশে নীরবে চলছে
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধে গণস্বাক্ষর কর্মসূচী
মোরসালিন মিজান ॥ সন্দেহ নেই, একটু নীরবে হচ্ছে কাজটা। তবে সাফল্য এত যে, অবাক না হয়ে পারা যায় না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করছেন বিপুল পরিমাণ মানুষ। নিজের নাম সই করার মাধ্যমে গণজাগরণ মঞ্চের ছয় দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন তাঁরা। সমাবেশ, প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ঢাকায় অনেক দিন ধরে এ কর্মসূচী চলছে। দেশের অন্যান্য গণজাগরণ মঞ্চেও চলমান আছে স্বাক্ষর গ্রহণ। বাসা-বাড়ি, অফিস, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও নিজ নিজ উদ্যোগে কর্মসূচী চলছে। নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে সকলেই দ্বিধাহীন চিত্তে উচ্চারণ করছেন- প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির সঙ্গে আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে সংহতি প্রকাশ করছি। সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের রায় ও তা কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করার যে দাবি এখান থেকে উচ্চারিত হয়েছে, তা আমারও প্রাণের দাবি। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী ও দেশবিরোধী দল জামায়াতে ইসলাম এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবির সঙ্গে কায়মনোবাক্যে একাত্মতা ঘোষণা করছি।
একযোগে বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচী চললেও বড় আয়োজনটি শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে। এখানে একটি বুথ খুলে স্বাক্ষর গ্রহণের কাজ চলছে। প্রতিদিন সকালে শুরু হচ্ছে। চলছে রাত ১০টা পর্যন্ত। মঙ্গলবার ছিল হরতালের দিন। এর পরও যথারীতি এসেছে মানুষ। বিকেলের দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, লম্বা টেবিলের দিকে নুয়ে স্বাক্ষর করছেন তাঁরা। স্বাক্ষরকারীদের একজন ইব্রাহীম খলিল বললেন, যুদ্ধটা একাত্তরেই শেষ হতে পারত। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এখনও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। তবে গণজাগরণ মঞ্চ যে আন্দোলনের সূচনা করেছে তা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়তে বড় ভূমিকা রাখবে। এ কারণেই গণস্বাক্ষর কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। নিলুফার নামের আরেক স্বাক্ষরকারী বললেন, যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই জামায়াত-শিবিরকে ঘৃণা করে আসছি। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই আমিও। গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে সে কথাটিই বলতে এসেছি। স্বাক্ষর গ্রহণের কাজে এদিনও ব্যস্ত ছিলেন আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা ব্লগার এ্যান্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরা। রনি, হিমেল, পলাশ, পিকলু, দেওয়ানসহ বেশ কয়েকজন নিয়মিত সময় দিচ্ছেন এখানে। পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও বুয়েটের শিক্ষার্থী পলাশ জানালেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত শুধু ঢাকায় দশ লাখের বেশি স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন স্বাক্ষরপত্র ঢাকায় আসছে বলে জানান তিনি। উদ্যোগটি সম্পর্কে মূল উদ্যোক্তা ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, আমরা বহুভাবে আমাদের দাবির কথা সরকারের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সেগুলোর একটি গণস্বাক্ষর। এক্ষেত্রেও আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি জনগণের। আগামী ২২ মার্চ স্বাক্ষর গ্রহণ শেষ হবে। সে সময়ের মধ্যে স্বাক্ষরের পরিমাণ কয়েকগুণ হবে বলে আশা করছি আমরা। স্বাক্ষরগুলো ২৬ মার্চ জাতীয় সংসদের স্পীকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে যে গণরায় প্রতিফলিত হবে সেটির প্রতি জাতীয় সংসদ ও সরকার সম্মান দেখাবে বলে আশা করছি আমরা।