মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৪ ফাল্গুন ১৪১৯
কিশোরগঞ্জে ইসলামী সমমনা দলের সঙ্গে ১৪ দল ও পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ
৩ গুলিবিদ্ধসহ আহত ৫০
নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ, ২৫ ফেব্রুয়ারি ॥ কিশোরগঞ্জে ইসলামী সমমনা ১২ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ১৪ দল ও পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধ এবং ২০ পুলিশসহ অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ সদরের বৌলাইয়ের কামরুল বারীর ছেলে হেলালকে (৩৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশ অন্তত ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
সোমবার শহরের শহীদী মসজিদে আছরের নামাজ শেষে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আছরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের আজান পর্যন্ত শহরের স্টেশন রোড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। সন্ধ্যার পর সংঘর্ষ শহরের একরামপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগ করে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে রাখা হয়। এ সময় ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া এদিন বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার মিছিল থেকে ইসলামী ব্যাংকে হামলা চালানো হয়।
সারাদেশে গত শুক্রবার ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী থাকলেও কিশোরগঞ্জে ইমাম ওলামা পরিষদের সভাপতি শহীদী মসজিদের খতিব মাওলানা আনোয়ার শাহ শুক্রবারের পরিবর্তে সোমবার বিকেল ৩টায় এ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে রবিবার এশার নামাজ আদায়কালে তিনি পূর্বঘোষিত কর্মসূচী বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীরা কর্মসূচীতে যোগ দিতে শহীদী মসজিদের উদ্দেশে রওনা দিলে পুলিশ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে বাধা প্রদান করে। এরপরও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে শহীদী মসজিদে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই মসজিদ এলাকাসহ সারা শহরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আছরের নামাজ আদায়ের পরপরই সেøাগান সহকারে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়ে আন্দোলনকারী কয়েকজনকে বেদম পিটুনি দেয়। এছাড়া শহীদী মসজিদের ভেতর অবরুদ্ধ ইসলামী দলের নেতাকর্মীদের লক্ষ করে তারা ঢিল ছুড়লে মসজিদের কয়েকটি কাঁচ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে সংঘর্ষ শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মসজিদের মাইক থেকে বার বার গুলি না ছোড়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে ঘোষণা আসছিল। মাগরিবের নামাজের সময় শহীদী মসজিদের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এলেও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শহরের অন্যান্য স্থানে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।
অন্যদিকে, বিকেল ৫টার দিকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ আসাদ উল্লাহর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার মিছিল থেকে ইসলামী ব্যাংকে হামলা চালিয়ে সাইনবোর্ড ও জানালার কাঁচ ভাংচুর করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরের সর্বত্র থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।