মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৪ ফাল্গুন ১৪১৯
সামরিক আমলের অধ্যাদেশ আইনে রূপ নিচ্ছে
বিল পাস
সংসদ রিপোর্টার ॥ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ আইনে রূপ দিতে সোমবার দুটি পৃথক বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারিকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) বিল-২০১৩ এবং ‘১৯৮২ সালের ২৫ মার্চ হইতে ১১ নবেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারিকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) বিল-২০১৩’ নামের পৃথক এই বিল দুটি পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। পরে এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে তাড়াহুড়ো করে বিল দুটি পাসের বিরোধিতা করে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম প্রস্তাব দিলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর রবিবার বিলের রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।
সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর আগে আপীল বিভাগের দুটি রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ১৯ অনুচ্ছেদ বাতিল করায় ১৬৬টি অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরে সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এবং পরে ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত তা মার্জনা করা হয়। পরে অধ্যাদেশগুলো কার্যকর রাখতে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান দুটি পৃথক অধ্যাদেশ জারি করেন। যা গত ২৭ জানুয়ারি চলতি অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদে উত্থাপন করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী অধ্যাদেশ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে তা বিল আকারে সংসদে পাস করতে হবে।
এদিকে বিলের রিপোর্ট দেয়ার সময় প্রত্যেকটি অধ্যাদেশ আলাদাভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংসদীয় কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে আগামীতে উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দিয়েছে। কমিটির মতে, মন্ত্রণালয়গুলো সঠিকভাবে এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় অধ্যাদেশগুলো আলাদা আলাদাভাবে পাস না করে মাত্র দুটি বিলের মাধ্যমে পাস করা হয়েছে।
তবে সামরিক আইন নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি যাতে না হয় সেজন্য সংসদীয় কমিটি বিলে শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছে, সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশ কার্যকর করা হলেও যতটুকু তাদের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শুধু ততটুকু গ্রহণ করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। ওই সময়ের অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন সামরিক শাসন আমলের কৃতকর্মের অনুমোদন ও সমর্থন করা হয়েছে বলে কোনভাবেই বিবেচিত হবে না।