মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৪ ফাল্গুন ১৪১৯
নবীন প্রবীণ ২৭ শিল্পীর চিত্রকলা প্রদর্শনী শিল্পাঙ্গনে
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিল্পানুরাগীদের এক আঙিনায় নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের চিত্রকলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে শিল্পাঙ্গন। ধানম-ির এই গ্যালারিতে চলছে দেশের খ্যাতিমান ও উদীয়মান তরুণ শিল্পীদের যৌথ চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। শিরোনাম ‘মাস্টারস এ্যান্ড আদারস।’ দর্শনার্থীদের বাংলাদেশের চারুকলার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে এই প্রদর্শনী। বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর এ প্রদর্শনীতে আছে ২৭ শিল্পীর চিত্রকর্ম। মূর্ত থেকে বিমূর্ত কিংবা আধা-বিমূর্ত সব ধরার কাজের সমাবেশ ঘটেছে। আর ছবি আঁকার মাধ্যমের ক্ষেত্রেও বহুমুখিতার দেখা মেলে। একসঙ্গে ছবিপ্রেমীরা দেখতে পারছে জলরং, তেলরং, এ্যাক্রোলিক, এচিং, ড্রইং, বাটিক পেইন্টিং ও মিশ্র মাধ্যমের কাজ।
প্রশান্ত কর্মকারের জীবন শিরোনামের ছবিটি সৃজিত হয়েছে মিশ্র মাধ্যমে। সারাদিনের কর্মপ্রবাহ শেষে নদীর এক কোনায় জোটবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে মাঝিবিহীন অনেক নৌকা। আর সব নৌকার মিলিত বন্ধনে তৈরি হয়েছে একটি বৃত্ত। সেই বৃত্তের মাঝখান থেকে উদিত হয়েছে লাল-সবুজের পতাকা। এখানে জাতীয় জীবনের অস্তিত্ব ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে পতাকা। শহীদ কবিরের বস্তির রানী শীর্ষক চিত্রকর্মটি যেন প্রাত্যহিক নগরজীবনের প্রতিচ্ছবি। কোন এক অলস দুপুরে স্নান সেরে চমৎকার ভঙ্গিমায় ভেজা চুলের পানি ঝাড়ছে এক বস্তিবাসী নারী। রশীদ আমিনের বিমূর্ত রীতিতে আঁকা অসীমের সন্ধানে শিরোনামের চিত্রকর্মে রঙের ব্যবহারে পাওয়া যায় প্রশান্তিময়তা। ক্যানভাসে সবুজ জমিনে বৃষ্টি শিরোনামে ছবি এঁকেছেন সোহানা শাহরীন। তুমুল বষর্ণমুখর দিনে প্রকৃতির পথে ভিজে শরীরে হেঁটে চলেছে এক নারী। সে নারীর আশপাশে অস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান আরও কিছু মানব অবয়ব। বসন্তের রূপময়তাকে ক্যানভাসে উপস্থাপন করেছেন হামিদুজ্জামান খান। নারী, নৌকা ও পাখি নিয়ে রেখাভিত্তিক কাইয়ুম চৌধুরী তিনটি ড্রইংনির্ভর চিত্রকর্মও দারুণভাবে দৃষ্টি কাড়ে। আদিবাসী জীবনের ছবি এঁকেছেন কনক চাঁপা চাকমা। সন্ধ্যা শিরোনামে চিত্রকর্মে দৃশ্যমান এক পাহাড়ী নারী। সুঠাম শরীরে সেই নারী সারাদিনের জুমখেতের কাজ ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবমিলিয়ে প্রদর্শনীটি একইসঙ্গে অনন্য ও ব্যতিক্রম। এক আঙিনায় একসঙ্গে দুই প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ দেখার সুযোগ পাচ্ছে দর্শনার্থীরা।
প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া শিল্পীরা হলেন- হাশেম খান, কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন নবী, আবদুস শাকুর, শাহাবুদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, হামিদুজ্জামান খান, বীরেন সোম, রণজিৎ দাস, গোলাম ফারুক বেবুল, আহমেদ নাজির, জামাল আহমেদ, জাভেদ জলিল, কনক চাঁপা চাকমা, কাজী সালাউদ্দীন আহমেদ, মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ ইকবাল, মোঃ মনিরুজ্জামান, প্রশান্ত কর্মকার, রশিদ আমিন, রেজাউন নবী, রফি হক, শহীদ কবির, সোহানা শাহরীন, উত্তম গুহ ও জুনাবুল ইসলাম।
৪৫টি চিত্রকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী। চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
চিত্রশালায় চার দিনব্যাপী চীনা চলচ্চিত্র উৎসব ॥ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হলো চার দিনব্যাপী চীনা চলচ্চিত্র উৎসব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উৎসব উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। চীনা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস, শিল্পকলা একাডেমী ও কনফুসিয়াস ক্লাসরুম যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, চীনা চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বাঙালীর চিরায়ত সংস্কৃতির সঙ্গে চীনের সর্বজনীন সংস্কৃতির মেলবন্ধনের চমৎকার সুযোগ করে দেবে। এর ফলে বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদীয়মান ব্যাঘ্র হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ চীনের সমাজ, সংস্কৃতি, পারিবারিক বন্ধন, অর্থনৈতিক কর্মকা- ও শিল্পায়নসহ জীবন ঘনিষ্ঠ অনেক বিষয়ে জানতে পারবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, কোন দেশের চলচ্চিত্র থেকে সহজেই সেই দেশের জনগণ, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। চীনে ব্যাপক হারে জনপ্রিয় মার্শাল আর্টকে তিনি মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও শাস্তির কৌশল হিসেবে তুলে ধরেন।
চার দিনব্যাপী এ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে ৭টি চীনা চলচ্চিত্র। উৎসবের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘কুংফু’।