মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৪ ফাল্গুন ১৪১৯
বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই অর্থনৈতিক শুমারি শুরু হচ্ছে
প্রাক্কলিত ব্যয় ১৯৪ কোটি টাকা ॥ চলবে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই সরকারী অর্থায়নে অবশেষে শুরু হচ্ছে অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্প। এর মাধ্যমে কৃষির বাইরে সকল অর্থনৈতিক কর্মকা-ের তথ্য সংগ্রহ এবং বেঞ্চমার্ক তথ্য ভা-ার তৈরি করা হবে। আগামী মার্চ থেকে শুরু হয়ে এপ্রিল পর্যন্ত এ শুমারি হবে বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সূত্রে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৩ কোটি ৫২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এ শুমারির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থনৈতিক শুমারির বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার জানান, আগামী ৩১ মার্চ থেকে ্্্্্্্্্ এ শুমারি শুরু হবে। তবে বর্তমানে দুটি পৃথক স্থানে পাইলট শুমারি চলছে। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করেনি কিনা জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব আরস্তু খান বলেন, এর সঙ্গে পদ্মা সেতুর কোন সম্পর্ক নেই। বিবিএস এই শুমারি বাস্তবায়ন করতে আমাদের অর্থ সংগ্রহ করে দিতে অনুরোধ করেছিল। সে মোতাবেক ইআরডি বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করে। কিন্তু তারা বিবিএসে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করার কারণে অর্থনৈতিক শুমারিতে অর্থায়ন করতে পারছে না বলে জানিয়েছে। আমরা বিবিএসকে বিষয়টি অবহিত করেছিলাম।
সূত্র জানায়, কৃষিবহির্র্ভূত সকল অর্থনৈতিক কর্মকা- সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বেঞ্চমার্ক তথ্য ভা-াার তৈরির জন্য বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে কৃষি বহির্র্ভূত অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুমারিতে ১৯৮০’র দশকের মধ্যবর্তী সময়ে জনসংখ্যার কি ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে তা নির্ধারণসহ অক্ষম ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশে দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শুমারি হয়েছিল দুই ধাপে। প্রথম ধাপে ২০০১ সালে শহর এলাকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও খানা হতে শুমারি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দ্বিতীয় ধাপে আর্থিক সীমাবদ্ধতার জন্য ২০০৩ সালে পল্লী এলাকার শুধু প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। ফলে উক্ত শুমারিতে পল্লী এলাকার অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে মাইক্রো লেবেলে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ের সৃষ্টি হয়েছে। যার অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়মিত পড়ছে। গত দুই দশকে বাংলাদেশে অর্থনীতির খাতসমূহের গঠন কাঠামো ও আকার আকৃতির কি ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং অকৃষি খাতসমূহ জাতীয় আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কতটুকু অবদান রাখছে তা নির্ধারণের দশ বার্ষিক পর্যাবৃত্তি অনুসরণ করে চলতি বছর বাংলাদেশের তৃতীয় কৃষিবহির্ভূত অর্থনৈতিক শুমারির আয়োজন করা হয়েছে। ফলে এ প্রকল্পটির মাধ্যমে সময়ের ব্যবধানে অর্থনৈতিক খাতসমূহের কাঠামোগত পরিবর্তন নির্ধারণ, মানসম্পন্ন উপাত্ত ঘাটতি দূরীকরণসহ নমুনা জরিপের পরিকল্পনা-কাঠামো এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক স্থিতিস্থাপক তথ্যাবলী সংগ্রহ ও সংরক্ষণ সম্ভব হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২ লাখ ২৫ হাজার স্থানীয় গণনাকারী ও ৩৪ হাজার সুপারভাইজারের সাময়িক কর্মসংস্থান হবে। ফলে তাদের আয় বাড়বে। এছাড়া জিডিপির আকার বৃদ্ধি পাবে। এতে ইনফরমাল সেক্টর, সার্ভিস সেক্টর এবং অপ্রচলিত ক্ষেত্রসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া কোন এলাকায় কোন ধরনের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প স্থাপনে উপযোগী তা নির্ধারণে সহায়ক হবে। ফলে এলাকাভিত্তিক দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা চেয়ে অনুরোধ করা হলে বিশ্বব্যাংক তা নাকচ করে দিয়েছে। ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি ইআরডিকে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, তাদের আর্থিক সহায়তায় বর্তমানে পরিসংখ্যান পদ্ধতিকে শক্তিশালী করার জন্য এনএসডিএস শীর্ষক একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিসংখ্যান ব্যুরোর নতুন কোন প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে না।
সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কাজের বরাদ্দের ফাইল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন আটকে থাকার যে অভিযোগ রয়েছে তা সঠিক নয়। পরিকল্পনা কমিশন নথি প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দের প্রস্তাব তৈরির কাজ শেষ করে। তবে প্রস্তাব তৈরির জন্য নিয়ম অনুযায়ী যে সমস্ত তথ্য পত্রে সংযোজনী হিসেবে থাকার কথা অনেক সময় সে সব তথ্য থাকে না। তাছাড়া অনেক সময় অসম্পূর্ণ, ক্রটিপূর্ণ এবং ভুল তথ্য পাঠানোর কারণে ও নথি প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরী হতে পারে।