মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৪ ফাল্গুন ১৪১৯
খিলক্ষেতে সৎ মায়ের হাতে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র খুন
ঘরে লাশ রেখেই ঘাতকের গা-ঢাকা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর খিলক্ষেতে সৎ মায়ের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছে স্কুলছাত্র শেখ মোহাম্মদ ইসলাম (১২)। ঘটনার পর থেকে নিহতের সৎ মা পারভীন (২৩) লাশ রেখে রুমে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে। এদিকে মিরপুরে অগ্নিদগ্ধ এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী জাহাঙ্গীর সুমনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। অপরদিকে ট্রেনে কাটা পড়ে এক কিশোর নিহত হয়েছে। সোমবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে পুলিশ খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা এলাকার তমুমৃধা রোডের সিরাজুল ইসলাম ওরফে খেজুরের বাসন্তি কুঞ্জ বাড়ির নিচতলার উত্তরপাশের ফ্ল্যাটে তালা খুলে শেখ মোঃ ইসলামের (১২) পচাগলা লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, নিহত ইসলামের মুখম-ল থেতলানো ছিল। সারাশরীরে গরম খুন্তির পোড়া চিহ্ন রয়েছে। শরীরে পচন ধরেছে। ইসলামের পিতা শেখ শাহনেওয়াজের দীর্ঘদিন সৌদি আরবে চাকরি করেন। প্রায় চার বছর আগে ইসলামের মায়ের সঙ্গে তার পিতার ছাড়াছড়ি হয়ে যায়। এরপর শাহনেওয়াজ দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীনকে নিয়ে খিলক্ষেতের ওই বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। তাদের সঙ্গে ইসলামও বসবাস করত। খিলক্ষেত থানার ওসি শামিম হোসেন জনকণ্ঠকে জানান, ইসলামকে গ্রামে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য প্রায়ই শাহনেওয়াজ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীনের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার যে কোন সময় ইসলামকে নির্মমভাবে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা ও মুখম-লে ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পালিয়েছে তার সৎ মা পারভীন। ঘরে তালা লাগিয়ে পারভীনকে তড়িঘড়ি করে বের হতে দেখেছেন প্রতিবেশীরা। পারভীনের গ্রামের বাড়ি সিলেটে। সেখানে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা সাব্বাস আহমেদ বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার কোতোয়ালি থানার রামনগর রাজবাড়ীর ৪৬ নম্বর বসুন্ধরায়। এদিকে রবিবার গভীররাতে পুলিশ মিরপুর থানাধীন মধ্যপাইকপাড়া এলাকা থেকে সানজিদা আক্তার (২৯) নামে এক গৃহবধূকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। সোমবার দুপুর দেড়টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সানজিদা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ঘটনার পর পুলিশ নিহতের স্বামী সুমনকে আটক করে আদালতে পাঠায়। এ ব্যাপারে মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক সানোয়ার হোসেন জানান, নিহত সানজিদা উত্তরখান এলাকায় ব্র্যাকের ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে চাকুরি করত। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর সুমন। সানজিদা সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী। এ জন্য সানজিদা দক্ষিণখান থানাধীন মেইন রোডের ৬৪০ নম্বর বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বামী সুমনকে নিয়ে থাকত। এসআই সানোয়ার হোসেন আরও জানান, সুমন কিছু দিন ধরে সানজিদার কোন খোঁজ খবর নিত না। সানজিদা রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় সুমনের প্রথম স্ত্রী সোমার ৯৬/১ মধ্য পাইকপাড়ার বাসার যায়। এ সময় সানজিদা কলিংবেল টিপে স্বামী সুমনকে তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করতে থাকে। এ সময় সানজিদা সুমনকে বলেন, তুমি আমাকে দক্ষিণখানের বাসায় দিয়ে না গেলে আমি নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেব। সুমন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদাকে নিয়ে বের হতে চাইলে তার প্রথম স্ত্রী সোমা বাধা দেয়। এতে সানজিদা ক্ষোভে দুঃখে নিজের শরীরের কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর দেড়টায় তার মৃত্যু ঘটে। নিহত সানজিদার পিতার নাম শাহজাহান বিশ্বাস। গ্রামের বাড়ি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বিরামপুর গ্রামে। এদিকে সোমবার ভোরে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া রেললাইন থেকে অজ্ঞাত (১২) এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া রেললাইনে তিস্তা ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ওই কিশোর। নিহতের পরনে গোলাপী রঙের গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট ছিল।