মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৪ ফাল্গুন ১৪১৯
উইকিপিডিয়া ও গিনেস বুকে শাহবাগ আন্দোলন
অনলাইনে সার্চ দিলেই আন্দোলনের সব খবর ॥ জামায়াতীদের ভুয়া উইকিলিক্্স
ফিরোজ মান্না ॥ এবার শাহবাগ আন্দোলন উইকিপিডিয়া ও গিনেস বুকে স্থান পেয়েছে। আন্তর্জাতিক তথ্যকোষ উইকিপিডিয়ায় শাহবাগ ‘প্রোটেস্ট’ নামে রয়েছে। যে কেউ শাহবাগ আন্দোলনের সব খবর বিশ্ব তথ্যকোষ উইকিপিয়াতে ঢুকলেই পেয়ে যাবেন। একই সঙ্গে কোন দেশেই টানা ২১ দিন এ রকম আন্দোলন হয়নি। এ কারণে শাহবাগের আন্দোলনটি গিনেজ বুকে গুরুত্বের সঙ্গে জায়গা দখল করে নিয়েছে। এতে বিশ্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিশ্বজুড়ে আরও একবার প্রতিফলন ঘটল। এটাকে তরুণ প্রজন্মের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাইবারযোদ্ধারা বলেন, শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে টানা ২১ দিনের আন্দোলনের প্রতিদিনের ঘটনা প্রবাহ (http://en.wikipedia.org/wiki/2013_Shahbag_Protest) শিরোনামে তথ্য আপলোড করা হয়।
উইকিপিডিয়া কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ব তথ্যকোষ শাহবাগের আন্দোলনের সব খবর তারা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে অনলাইনে শাহবাগ প্রোটেস্ট লিখে সার্চ দিলেই শাহবাগের আন্দোলনের সব খবর পাওয়া যাবে। যে কেউ যখন তখন শাহবাগের আন্দোলন কেমন করে হয়েছে তা দেখতে পারবেন। এই আন্দোলনের মূল দাবি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ধর্মভিক্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার। শাহবাগ আন্দোলনে ছিল নানা মাত্রা। প্রতিটি মাত্রাই গিনেজ বুকে স্থান পাওয়ার মতো। কিন্তু এত কিছুর পরেও গিনেসবুক কর্তৃপক্ষ শাহবাগ আন্দোলনের কোন কিছুই তাদের পেজে দেয়নি। পরে সাইবারযোদ্ধারা বার বার গিনেস বুক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো পর তাদের ফ্যান পেজে শাহবাগ আন্দোলনের বিষয়গুলো স্থান দিয়েছে। যদিও লেবাননে একসঙ্গে ২ হাজার ৯৫৯টি মোমবাতি জ্বলে উঠার বিষয়টি গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান দিয়েছে। অথচ শাহবাগে একসঙ্গে লাখ লাখ মোমবাতি জ্বলে উঠলেও তারা এটিকে নিজ উদ্যোগে স্থান দেয়নি। সাইবারযোদ্ধা এবং ৭৭ হাজার সহযোদ্ধাদের অনুরোধে অবশেষে গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষ শাহবাগ আন্দোলনের বেশ কিছু বিষয় তাদের পেজে স্থান দিয়েছে। ৭৭ হাজার সাইবার সদস্যর গিনেস বুকের পেজে গিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলনের ছবি শেয়ার করে। তারা ৮ ঘণ্টায় ২ হাজার ছবি শেয়ার করে গিনেস বুকের পেজে। এরপর গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ অনেকটা বাধ্য হয়ে অফিসিয়ালি ঘোষণা করেছেন শাহবাগের আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে তারা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ফেসবুকের এই ঠিকানায় গিনেস বুকে শাহবাগের আন্দোলনের যে বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে তা জানা যাবে। (https://www.facebook.com/photo.php?v=10151405228268632) এই ঠিকানার সঙ্গে লিংক স্থাপন করেও তথ্য পাওয়া যাবে। শাহবাগের আন্দোলনের বিষয়টি উইকিপিডিয়া ও গিনেস বুকে নাম ওঠায় জামায়াত-শিবিরের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের মাত্রা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জামায়াত-শিবির ‘উইকিলিকস বাংলাদেশ’ নামে (http://wikileaksbangladesh.org/) ভুয়া একটি ওয়েবসাইট খুলে দাবি করছে যে, এটি জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জের ‘উইকিলিকস’। উইকিলিকসের মূল জায়গা থেকে কনফার্ম করা হয়েছে এটা ‘ফেক’। এই ওয়েবসাইটের সঙ্গে জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জের উইকিলিকসের কোন সম্পর্ক নেই। ভুয়া উইকিলিকস থেকে নানা রকম মিথ্য অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। জামায়াত-শিবির যে ইসলামে বিশ্বাসী না, এটা তার আরেকটি প্রমাণ। নিজেরা জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জের উইকিলিকসের নাম ব্যবহার করে মিথাচার করে যাচ্ছে। ইসলামে মিথ্যাবাদীর কোন স্থান নেই। সেই মিথ্যাবাদীরা হচ্ছে জামায়াত-শিবির। সাইবারযোদ্ধারা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, খুনী, নারী নির্যাতনকারী, অন্যের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের চিরতরে বয়কট করার জন্য।
সাইবারযোদ্ধারা একটি পোস্টে রিখেছেন, তরুণ জামায়াত ও শিবিরকর্মীদের বুঝতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ চলাচলের এ যুগে ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি এখন জরাজীর্ণ ও পুরনো। আপনাদের রাজনীতি কোনদিনও মানুষের কল্যাণে আসবে না। কেবল জঙ্গী তৈরি করা ছাড়া আপনাদের আর কোন কাজ নেই। মাঝে মধ্যে সাপের খোলস বদল করলেই হবে না। অন্যের ঘারে পা রেখে চলতে চলতে আপনারা নুলা হয়ে যাবেন। বিদেশীদের ওপর ভর করে বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব হবে না। দেশের মানুষ আপনাদের স্বরূপ এখন চিনে ফেলেছে। আপনাদের নেতা গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী, আলীম, কাদের মোল্লা, বাচ্চু রাজাকার। তাদের কোন সন্তানদের জামায়াত-শিবির, জেএমবি, হিযবুত তাহরীর অর্থাৎ কোন জঙ্গী দলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করেননি। বরং তাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন নিরাপদ, পাশ্চাত্য ইংরেজী শিক্ষার, উন্নত পেশা জীবন। জামায়াত-শিবিরের তরুণরা আর কত নিজের পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরে নিজের ও জাতির এবং স্বদেশের ক্ষতি করবেন। আপনাদের নেতাদের সন্তানরা যদি বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নত শিক্ষা নিতে পারে-তাহলে আপনারা কেন জঙ্গী শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন। এখন সময় আছে ভাল পথে চলে আসার। জয় বাংলা।
সাইবারযোদ্ধারা আরও একটি পোস্টে লিখেছেন, আমেরিকা, ইউরোপ সারাজীবন কূটনীতি করে আসছে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র মানুষের ওপর। তারা কি বুঝতে পারে না ধর্মান্ধ জামায়াত-শিবিরের কর্মকা-? অবশ্যই তাদের সব জানা আছে। গাজায় মুসলমানদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে। যারা এই হত্যা চালাচ্ছে বছরের পর বছর তাদের আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে। এদিকে আমাদের মুসলমান নামক হায়েনাগুলোকে হৃষ্টপুষ্ট করছে একই কায়দায়। মুসলমান মুসলমানের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে মুসলিম বিশ্বকে ধ্বংসের কাজে প্রতিনিয়ত ইন্ধন দিচ্ছে। উভয় দিক দিয়েই ইহুদীরা লাভবান হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের ছানাপোনার সেই ইহুদীদের টাকায় লালিতপালিত হচ্ছে। মুসলিম বিশ্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে কিছু না বুঝেই। জামায়াত-শিবির জঙ্গী, তারা জিহাদের কথা বলে মুসলমানদের হত্যা করছে। যেখানে মুসলমান হিসেবে তাদের ইহুদীদেরর বিরুদ্ধে লড়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ গরিব দেশ, দারিদ্র্যের মানুষগুলোর ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা এবং বিবেক-বিচার বুদ্ধি কেড়ে নিচ্ছে। ইহুদীদের কূটনীতির শিকার হচ্ছে এই দেশ।