মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৪ ফাল্গুন ১৪১৯
নাশকতার প্রস্তুতি নিতে রোহিঙ্গা-জামায়াত রণকৌশল বদল
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আলীকদমে জঙ্গীদের গোপন আনাগোনা
এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ রামুর বৌদ্ধ জনপদে নারকীয় হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত রোহিঙ্গা জঙ্গীদের জামায়াত-শিবিরের কানেকশন সচেতন মহলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। রামু বৌদ্ধ বিহার ও বড়ুয়াপল্লীতে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও লুটের ঘটনার নীলনক্সা প্রণয়নকারী জঙ্গী নেতা আত্মগোপনে থাকা হাফেজ ছালামত উল্লাহ ও জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক যুদ্ধাপরাধীসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবিতে দেশজুড়ে গণজাগরণমঞ্চে লাখো মানুষ রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অগ্নিশপথ নিচ্ছেন, ঠিক তখনি রাজাকারদের দোসররা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চলছে। দেশে একের পর এক গুপ্ত হামলাসহ জামায়াত-শিবির হরতালের ডাক দিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন করে চলছে। দেশের সাধারণ মানুষ জামায়াত-শিবিরের ওই অযৌক্তিক হরতাল বার বার প্রত্যাখ্যান করায় বর্তমানে তারা নতুন কৌশল নিয়েছে। জামায়াতীরা এবার রোহিঙ্গা জঙ্গী আরএসও’র সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কানেকশন ঠিক রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
জঙ্গীদের জড়ো করার প্রক্রিয়া ॥ গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোহিঙ্গা জঙ্গী ও মৌলবাদী গোষ্ঠী রামুর বৌদ্ধ জনপদে অগ্নিসংযোগ ও নারকীয় হামলা চালিয়ে ১৯টি বৌদ্ধ বিহার ৩০টি বসত গৃহ ধ্বংস করে দেয়ার পর ধরপাকড় এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। মৌলবাদী এনজিও এবং জামায়াতের আহ্বানে ওসব জঙ্গীদের কেউ কেউ ফের নাশকতা সৃষ্টিকল্পে কক্সবাজার ও বান্দরবানে এসে জড়ো হচ্ছে বলে সূত্রে খবর মিলেছে।
জঙ্গী ছালামত আলীকদমে ॥ মিয়ানমারের বুচিদংয়ের চাইম্যংচং এলাকার মৃত হামিদ হোছনের পুত্র ‘আল মোস্তাকবাল’ নামে জঙ্গী সংগঠনের নেতা ও আরএসও’র সেক্রেটারি জঙ্গী ছালামত উল্লাহ বর্তমানে আলীকদমে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। বান্দরবানের আলীকদমের গহীন জঙ্গলে ছালামত উল্লাহর পরিচালনাধীন ৩০ জনের সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জঙ্গীদের ব্যাংক একাউন্ট সিল করার দাবি॥ কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের নামে চলমান ব্যাংক একাউন্টগুলো সিল করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। আত্মগোপনে থাকা জঙ্গী দলপতি ছালামত উল্লাহ ও তার সহযোগী নুর মোহাম্মদ, শফি উল্লাহ ও গ্রেফতার হওয়া আবু ছালেহ ওরফে ছালেহ আহমদের নামে হুন্ডির মাধ্যমে দুবাই, মিসর, সৌদি আরব, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে টাকা আসে।
রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গীদের আনাগোনা ॥ গত কয়েকদিন থেকে উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া আশ্রিত ক্যাম্প ও রোহিঙ্গা বস্তিতে (টাল নামে পরিচিত) অচেনা লোকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক জামায়াত নেতার প্রত্যক্ষ মদদে ওসব জঙ্গী-উগ্রবাদী গোষ্ঠীর লোকজন হঠাৎ ক্যাম্পে যাওয়া আসা দেখে স্থানীয়দের মাঝে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা চলছে। রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরএসও, নিষিদ্ধ ঘোষিত মৌলবাদী সংগঠন আল-হারামাইন এবং ওয়ামির লোকজন শরণার্থী ক্যাম্প ও বস্তিতে মাঝে-মধ্যে বৈঠকও করছে।
নিষিদ্ধ এনজিওর অপতৎপরতা ॥ সরকারীভাবে নিষিদ্ধ সত্ত্বেও গোপনে তিনটি এনজিও’র কর্মীরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।