মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১১, ৯ পৌষ ১৪১৮
বঙ্গবন্ধুর প্রতিশ্রুতি রাখতে ত্রিপুরা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা সফরে যাচ্ছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ত্রিপুরাবাসীকে। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি পূরণের আগেই ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন জাতির জনক। ত্রিপুরার মানুষকে দেয়া বঙ্গবন্ধুর সেই প্রতিশ্রুতি এবার রৰা করতে যাচ্ছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তবে ঠিক কবে প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরা যাচ্ছেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদিও ঢাকার একটি বেসরকারী বার্তা সংস্থা বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অরম্নণোদয় সাহার বক্তব্য উল্লেখ করে জানায়, প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তনে অংশ নিতে সম্মতি জানিয়েছেন। আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ও গবর্নর ডি ওয়াই পাটিলের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর ত্রিপুরা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কবে তিনি এই সফরে যাচ্ছেন তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে তাঁকে সম্মানসূচক ডি লিট (ডক্টরেট অব লিটারেচার) ডিগ্রী প্রদান করা হতে পারে। এদিকে বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনটিতে আরও জানানো হয়, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারীও অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ঢাকা সফর শেষে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার আগরতলায় পৌঁছে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিপুরা সফরের ব্যাপারে আগ্রহী। দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। সে সময় তিনি আরও বলেছিলেন, শেখ হাসিনা সম্মত হলে তিনিই হবেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সফরে আসা প্রথম বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফর বাণিজ্যসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে শেখ হাসিনার এ সফরে সম্মতি দেয়ার পর তাঁকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা। এই সফরে তিনি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি একাত্তরে ত্রিপুরায় মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও ঘুরে দেখতে পারেন। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে দেড় লাখেরও বেশি বাংলাদেশী ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানে ১৬ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের। এ ছাড়াও ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের ৮৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানত্ম রয়েছে। ভাষা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও দুই অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। যা পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও আগামী কিছুদিনের মধ্যেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে ।