মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১১, ৯ পৌষ ১৪১৮
সমিতির বাধায় ভেস্তে যাচ্ছে শিক্ষা উন্নয়নের উদ্যোগ
শিক্ষক পদোন্নতি ও শিক্ষা কর্মকমিশন গঠন প্রক্রিয়াও ঝুলে গেছে
বিভাষ বাড়ৈ ॥ খোদ বিসিএস শিক্ষা সমিতির অবৈধ খবরদারি, বাড়াবাড়ি আর বাধার মুখেই একে একে ভেস্তে যেতে বসেছে শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ সব উদ্যোগ। অস্থিরতা বাড়ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদফতর, শিক্ষা বোর্ডসহ পুরো শিক্ষা প্রশাসনে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কোন কাজ শুরম্ন করা হলেই তাতে বাদ সাধছে সমিতি। আবার সমিতির শীর্ষ পদে সরকারসমর্থক ব্যক্তিরা থাকার পরেও রহস্যজনকভাবে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের সাবেক কয়েক নেতার দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ প্রগতিশীল শিৰকরা। সরকারের কাজে বাধা দেয়া নিয়েও ক্ষুব্ধ এই শিক্ষকরা। জানা গেছে, সমিতির বাধার কারণেই ঝুলে গেছে শিৰক নিয়োগে বহু প্রতীক্ষিত শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনের প্রক্রিয়া। মাদ্রাসা অধিদফতর গঠনের কাজ কোনমতে আলোর মুখ দেখলেও শিৰা অধিদফতর বিভাজনের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সমিতির আপত্তি আর বিভক্তির কারণে দুই বছর ধরে ঝুলে আছে শিক্ষকের পদোন্নতি। মামলা আর পাল্টামামলায় জড়িয়ে পড়ছেন সরকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন ব্যাচের শিৰকরা।
শিক্ষায় গত দু'বছরে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এই সঙ্কটের চিত্র। শিৰা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিৰাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুসারে নিয়োগে পৃথক শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরেও অনত্মত ৭ মাস ধরে এ সংক্রান্ত সকল কাজ বন্ধ হয়ে আছে। বিসিএস শিক্ষা সমিতির আপত্তির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমলাদের অবস্থান কমিশনের পক্ষে থাকলেও সমিতির দাপটে তটস্থ তাঁরা। জানা গেছে, অন্তত ৮ মাস আগে শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনের অনুমোদনও দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষা কর্মকমিশনের বর্তমান প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিসিএস শিক্ষা সমিতি। এমনকি সমিতির নেতারা সরকারের এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার লিখিত আবেদনও করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারের এই উদ্যোগে শিৰার উন্নয়নে বহু বছরের দাবি পূরণ হলেও প্রতিষ্ঠানে সমিতির নেতাদের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব হওয়ার আশঙ্কায় এই অবস্থান নেয়া হয়েছে। তবে সমিতির নেতারা বলছেন, এই উদ্যোগের ফলে অন্য ক্যাডারের তুলনায় শিৰা ক্যাডারের বৈষম্য বাড়বে। তাছাড়া এ কমিশনের মাধ্যমে সরকারী শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বেসরকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একই কাতারে নিয়ে আসা গ্রহণযোগ্য হবে না। জানা গেছে, মানসম্মত ও দৰ শিৰক নিয়োগ, স্বচ্ছতা আনয়ন তথা দেশের সার্বিক শিৰার উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে দেশের প্রতিটি শিক্ষানীতি ও রিপোর্টে আলাদা একটি শিৰা কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। যে কমিশন হবে বর্তমান পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) থেকে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান। এটি কেবল শিক্ষক নিয়োগের কাজ করবে। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিৰক নিয়োগের ৰেত্রে পিএসসির ভয়াবহ দীর্ঘসূত্রতার ঝামেলাও থাকবে না। দ্রুত শিৰক সঙ্কটের অবসান হবে। এবার জাতীয় শিৰানীতিতেও এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আলাদা শিৰা কর্মকমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। শিৰাসংশিস্নষ্ট সকল মহলের মতামতকে গুরম্নত্ব দিয়ে এবার দ্রুত কাজে হাতও দিয়েছিল সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনের সারসংক্ষেপ তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শিৰা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটিকে অনুমোদনও দেয়। কিন্তু এরই মধ্যে বিসিএস শিৰা সমিতির প্রকাশ্য বিরোধিতায় পড়েছে প্রক্রিয়া। শিৰাবিদ ও শিৰক নেতৃবৃন্দ ঘটনায় উদ্বিগ্ন। এবার জাতীয় শিৰক দিবসের কর্মসূচীতে দ্রম্নত শিৰা কর্মকমিশন গঠন করে কমিশনের মাধ্যমে শিৰক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে বেসরকারী শিৰক কর্মচারীদের সর্ববৃহৎ জোট জাতীয় শিৰক কর্মচারী ফ্রন্ট। একটি সমিতির কারণে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ায় উদ্বেগ শিৰানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্যসহ শিৰাবিদরা। ৰুব্ধ সরকারী বেসরকারী শিৰক সংগঠনের নেতারা। অবিলম্বে শিৰক নিয়োগে পৃথক এই কর্মকমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, সব খাতের নিয়োগ পিএসসি দেখাশোনা করায় সঙ্কট সৃষ্টি হয় নিয়োগে। পরীক্ষা শেষ করে নিয়োগ সম্পন্ন করতে তিন মাসের স্থলে লেগে যাচ্ছে এক থেকে দেড় বছর। বেসরকারী শিৰক নিয়োগের প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে।
এদিকে সমিতির বাধার মধ্য দিয়ে সম্প্রতি শিৰা অধিদফতর থেকে আলাদা করে মাদ্রাসার জন্য পৃথক অধিদফতর গঠন পরিকল্পনা চূড়ানত্ম হয়েছে। কিন্তু বাধার মুখে বন্ধ হয়ে গেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা অধিদফতরকে আলাদা দুটি অধিদফতরে বিভাজন করে কাজ ভাগ করে দেয়ার পরিকল্পনা। এই মুহূর্তে সরকারী শিৰার অত্যনত্ম আলোচিত বিষয় শিৰকদের পদোন্নতি। সমিতির আপত্তি আর বিভক্তির কারণে দুই বছর ধরে ঝুলে আছে এই উদ্যোগ। এখন এ নিয়ে মামলা আর পাল্টা মামলায় জড়িয়ে পড়ছেন সরকারী শিৰকদের বিভিন্ন ব্যাচের শিৰকরা। শিৰক ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া প্রায় সাতটি ব্যাচের কর্মকর্তারা পদোন্নতির অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছেন। সর্বশেষ গত ১১ ও ১৩ ডিসেম্বর দুই দফায় 'বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হলেও তাতে কোন ফল হয়নি। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। জানা গেছে, পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনকারী বিসিএস ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রসত্মাব পাঠানো হয়েছিল।