মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১১, ৯ পৌষ ১৪১৮
বোমা তৈরির উপাদানে সয়লাব গোটা আন্ডারগ্রাউন্ড
বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িত বিএনপির সাবেক কয়েক কমিশনার
শংকর কুমার দে ॥ ককটেল, ভয়ঙ্কর গ্রেনেড ও বোমা তৈরির উপাদান বিস্ফোরক দ্রব্যে সয়লাব আন্ডারগ্রাউন্ড। বিদেশ থেকে বৈধপথে কাঁচামাল হিসেবে বিস্ফোরক দ্রব্যের কেমিক্যাল আমদানি করে অবৈধপথে খোলা বাজারে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাচ্ছে ককটেল, গ্রেনেড ও বোমা তৈরির উপাদান বিস্ফোরক দ্রব্যের কাঁচামাল। ককটেল ও বোমা তৈরি করে রক্ত ঝরাচ্ছে, আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। রবিবারের রাজধানীর সহিংস ঘটনায় মতিঝিল, পল্টন, শানত্মিনগরসহ আশপাশ এলাকাসহ ১০টি পয়েন্টে শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এতে আরিফুর রহমান নামে একজন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনারকে বোমা সরবরাহ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় খোঁজা হচ্ছে।
রবিবারের রাজধানীর সহিংস ঘটনার পর পর রাজধানীর তাঁতীবাজারে ৩ ট্রাক আতশবাজির বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার ও ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজধানীর মতিঝিল থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩টি শক্তিশালী তাজা বোমা। পুলিশ ও গোয়েন্দারা বলেছেন, বিস্ফোরক ও বোমা উদ্ধারের কারণে নাশকতা থেকে রৰা পাওয়া গেছে।
দেশে আতশবাজি ও পটকা তৈরির লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন নিষিদ্ধ করে আতশবাজি ও পটকা তৈরি বন্ধ করা গেলেও ককটেল ও বোমা তৈরি বন্ধ করা যায়নি। দিয়াশলাই, সার, সিমেন্ট, ওষুধ, রড, কসমেটিকস্, চামড়া শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে সালফার, পটাশিয়াম ক্লোরেট, আর্সেনিক ডাইসালফাইড, এ্যামোনিয়াম নাইট্রেড, ফসফরাস, এ্যালুমিনিয়াম অঙ্াইডের মতো কেমিক্যাল। এসব কাঁচামাল দিয়েই তৈরি হচ্ছে ককটেল-বোমার বিস্ফোরকদ্রব্য। অনেক শিল্প কারখানা, বিশেষ করে ম্যাচ ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তাদের লাইসেন্সের মাধ্যমে এ ধরনের কাঁচামাল আমদানি করে তা খোলা বাজারে ছেড়ে দিচ্ছে। খোলা বাজারে ছেড়ে দেয়া এসব কাঁচামাল দিয়ে ককটেল-বোমা তৈরি করা হচ্ছে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের অনেকেই উন্নত প্রযুক্তি রপ্ত করে উচ্চ ৰমতাসম্পন্ন শক্তিশালী ককটেল-বোমা তৈরি করছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিগত বছরগুলোতে ব্যাপকভাবে ককটেল, গ্রেনেড ও বোমা ব্যবহার শুরম্ন করে জঙ্গীরা। জঙ্গী দমন করা হলে এসব বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। হরতালের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অতীতের ন্যায় আবারও ককটেল, গ্রেনেড ও বোমার ব্যবহার শুরম্ন হয়েছে। এসব বিস্ফোরক দ্রব্যের মাধ্যমে মানুষজনের জানমালের ব্যাপক ৰতি সাধিত হচ্ছে। কিন্তু বিস্ফোরক দ্রব্যের উৎসের ব্যাপারে তেমন কোন তদনত্ম হয় না। এমনকি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হলেও কারও শাসত্মি হয়েছে এমন নজির খুবই কম। রাজনৈতিক কর্মসূচীতে, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, জঙ্গী তৎপরতা, খুন, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অপরাধী তৎপরতা, রাজনৈতিক আন্দোলনের হরতালের মতো কর্মসূচীতে ভয়ঙ্কর ককটেল-বোমা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত ৰমতায় থাকাকালে দেশের ৬৪ জেলায় বোমা হামলা, আদালতে বোমা হামলা, বিচারক হত্যাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষজনকে হতাহত করেছে।
বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আড়ালে রবিবারের সহিংস ঘটনায় মতিঝিলে বোমায় নিহত হয়েছে আরিফ। বিএনপি দাবি করেছে আরিফ তাদের দলের কর্মী। পুলিশ বলেছে, আরিফ বোমা বহন করছিল। বহন করা বোমাতেই আরিফ মারা গেছে। আরিফুজ্জামান কি বহনকারী ছিল না নিক্ষিপ্ত বোমায় নিহত হয়েছে। তার মৃত্যু রহস্যের জট এখনও খোলেনি। আরিফ হত্যা মামলার তদন্ত খুব শীঘ্রই মহানগর গোয়েন্দা দফতরে ন্যস্ত হচ্ছে।