মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১১, ৯ পৌষ ১৪১৮
১৮০ প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা পেল যোগাযোগ
দুর্নীতি সহ্য করব না ॥ ও. কাদের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১৮০ প্রকল্প বাসত্মবায়নে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের পৰ থেকে চাহিদা দেখানো হয়েছিল এক হাজার ৪১০ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার সড়ক ভবনে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় জিরো টলারেন্স দেখাবে। আমি কারও কাছে কমিশন চাই না। নিজের পকেট ভারি করারও কোন চিন্তা নেই। তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, কাউকে জনগণের পকেট কাটতেও দেয়া হবে না। আমি জনগণকে স্বস্তি দিতে এসেছি।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন সত্মরের প্রকৌশলী-কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন সড়ক নির্মাণ এ মুহূর্তে সরকারের অগ্রাধিকার নয়। বিদ্যমান সড়ক সংস্কার করে সর্বৰণিক সড়ক নেটওয়ার্ক সচল রাখাই অগ্রাধিকার। তিনি প্রকৌশলীদের পদ-পদবির অহঙ্কারবোধ না দেখিয়ে দেশের কর্মী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি নিজেকে মন্ত্রী মনে করি না। দেশের কর্মী মনে করি।
দেশের সম্পদ ও অর্থ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি না খেলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রকৌশলীদের কাজ করতে হচ্ছে। তিনি সীমিত সম্পদ দিয়ে ব্যাপক চাহিদা দৰতার সঙ্গে মোকাবেলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এ জন্য প্রয়োজন নেতৃত্ব এবং শক্তিশালী টিমওয়ার্ক। মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের টিমের অংশ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাঙ্রে টাকায় দেশ চলে। আশা করি আপনারা বুঝেশুনে চলবেন। কারও বেতনে চলতে সমস্যা হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমরা একই পরিবারের সদস্য হিসেবে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নেব।
আমি বদনামের ভাগিদার হতে চাই না, সুনামের অংশীদার হতে চাই_এমন মনত্মব্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা কাজে ব্যর্থ হলে আমি দায় এড়াতে পারব না। মন্ত্রী হিসেবে আমি ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারি না। ৰমতা দেখাতে চাই না, আপনাদের সহকর্মী হিসেবে থাকতে চাই। ব্রিজ-রাস্তার জন্য যারা দিনের পর দিন কষ্ট করছে তাদের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে না পারলে এটা আমার ব্যর্থতা। আমি ব্যর্থ হতে চাই না। আশা করি জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে আপনারা সঠিক দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রতিশ্রুতি ও শক্তিশালী কমনসেন্স থাকলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা সম্ভব_একথা উলেস্নখ করে মন্ত্রী পুরনো, ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দ্রুত সংস্কারে প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জনস্বার্থে জরুরী জনদুর্ভোগ সমাধানে কাজ করার কথাও বলেন তিনি। ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যারা আদালতে মামলা করেছে, ঠিকাদার হিসেবে তাদের কাজ করার বৈধতা নেই। কারণ তারা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে টেন্ডারে অংশ নেয়। তাই তাদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করতে পারি না। দেশের কাজ জরুরী, কিন্তু অনৈতিকভাবে সে কাজ কেন করব। যারা কাজ করবে তারা প্রশ্নবিদ্ধ বলেই আমি মনে করি বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া ভাল।