মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১১, ৯ পৌষ ১৪১৮
বায়ান্ন বাজার ॥ তিপ্পান্ন গলি
মোরসালিন মিজান ॥ ঘোরতর শীত। এ শীতে কুপোকাত সারাদেশ। দেশের মানুষ। রাজধানীবাসীও বিপদটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। শরীরজুড়ে শীতবস্ত্র তাদের। অনেকের চেহারা পুরোপুরি দেখা যায় না। শুধু কী তাই, ঘরের দরজা-জানালা প্রায় সিলগালা করা। এর পরও সকালে ড্রেসিংটেবিলের গস্নাসে আঙ্গুল ছোঁয়ালে জলের রেখা তৈরি হয়। দেখে বিস্ময় কাটে না।
গত কিছুদিন ধরেই এ অবস্থা। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় দিশেহারা মানুষ। বাতাসে বিরাজমান জলীয়বাষ্প উপরে উঠতে পারছে না। শুকানোর সুযোগ পাচ্ছে না ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ। ফলে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। পৌষের প্রথম দিন শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত আছে এখনও।
গত কয়েক দিনের মতো বৃহস্পতিবারও রাজধানীতে ছিল কনকনে শীত। দিনের খুব অল্প সময় সূর্যের মুখ দেখা গেছে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী। তাঁদের স্বাভাবিক জীবন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। সকালে কর্মস্থলে পৌঁছতে ভুগছেন অধিকাংশ মানুষ। দিনমজুরেরা সঠিক সময়ে কাজে নামতে পারছে না। আর শিশুদের কথা তো বলাই বাহুল্য। তাদের ভোগানত্মি কষ্ট দিচ্ছে বাবা-মাকেও। নিদারুণ শীতে সোনামণিদের প্রাণচাঞ্চল্য যেন হারিয়ে যাচ্ছে। বিচিত্র শীতবস্ত্রে মোড়ানো তাদের মুখ। সে মুখে রা নেই। চোখ শান্ত। এর পরও ঠা-াজনিত নানা রোগে আক্রানত্ম হচ্ছে শিশুরা। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট লেগেই আছে। স্কুলগামী শিশুরাও বহু কষ্টে এক একটি সকাল পার করছে।
এদিকে অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে বেড়ে গেছে শীতবস্ত্রের কেনাবেচা। বৃহস্পতিবার গুলিসত্মান ও বায়তুল মোকাররম মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। প্রতিটি দোকানের সামনে মানুষের ঢল নেমেছে যেন। যে যার মতো করে শীতের কাপড় কিনছিলেন।
তবে যাদের সামান্য কেনাকাটার সামর্থ্য নেই তাদের কষ্ট সত্যিই অবর্ণনীয়। রাজধানীর এখানে ওখানে রাত কাটানো ছিন্নমূল মানুষগুলো যেন মৃতু্যযন্ত্রণা ভোগ করছে। তাঁদের শরীর ঢাকার সাধারণ কাপড় নেই। গরম কাপড় তাই বিলাসিতা যেন। গুলিসত্মন, শাহবাগ, ফার্মগেট, সাইন্স ল্যাবরেটরিসহ বিভিন্ন এলাকার ছিন্নমূলদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এত বড় শীতেও মানবিক মানুষদের দেখা তারা পাচ্ছে না। কখনও কখনও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হলেও বেশিরভাগ মানুষ এর হদিস পাচ্ছে না।
অথচ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য যতই কমে আসবে, শীতের তীব্রতা ততই বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক আরজুমান্দ হাবিব। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো ডিসেম্বরজুড়ে থাকবে শৈত্যপ্রবাহ। জানুয়ারিতে বয়ে যেতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। ওই সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। এমনটি হলে চির দুঃখী মানুষগুলোর বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অবশ্য গরিব বাঁচানোর মিশনে তেমন কাউকে না পাওয়া গেলেও একাত্তরের পরাজিত শত্রম্ন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর মানুষের অভাব নেই। এ সব নরপশুকে বাঁচাতে ইতোমধ্যে বিস্ময়কর কিছু ঘটনা ঘটেছে রাজধানীতে। কোন ধরনের কারণ ছাড়াই বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। ককটেল ছোড়া হয়েছে। মানুষ হত্যা করার এ খেলা বিএনপি-জামায়াতের বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ।
শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে এমন তা-ব সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিলেও অনেকটা নীরব শোক করেছেন তারা। কিন্তু ঘটনাটি ভাবিয়ে তুলেছে সরকারকে। আর তাই এ অরাজকতা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য
তোফায়েল আহমেদ।