মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
শাহাবুদ্দিনের রং তুলিতে 'বিজয়ের চার দশক'
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের রণাঙ্গনের এক সাহসী যোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ। এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এই মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পীর রয়েছে অনন্য ভূমিকা। সেই সময় রং-তুলি ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন রাইফেল। চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে তবেই থেমেছিলেন। এ কারণেই চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিনের চিত্রকর্ম সৃজনে প্রধান প্রেরণার উৎস মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার চলিস্নশ বছরে পদার্পণকে উপলৰ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই শিল্পী রং-তুলির আঁচড়ে নতুন কিছু ছবি এঁকেছেন। তেল রঙে সৃজিত এসব চিত্রকর্মে উদ্ভাসিত হয়েছে গতির ঝড় তোলা গেরিলাদের লড়াই, সংগ্রামী মানুষের নানা অভিব্যক্তি আর যুদ্ধের জঙ্গমতা। বিশাল আকৃতির ক্যানভাসে অাঁকা হয়েছে ছবিগুলো। আর এসব চিত্রকর্ম নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকানত্ম ভট্টশালী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে প্রদর্শনী। স্বাধীনতার চলিস্নশ বছরের গৌরবগাথাকে তুলে ধরা এ প্রদর্শনীর শিরোনাম বিজয়ের চার দশক। প্রদর্শনীটি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের নিবেদন করেছেন শিল্পী। এর উদ্বোধন করবেন মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান ও বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) এ কে খন্দকার। এ ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন সেক্টর কমান্ডারগণ। এ চিত্র প্রদর্শনী উপলক্ষে বুধবার স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয় । এতে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী শাহাবুদ্দিন, প্রদর্শনীর কিউরেটর এবাদুর রহমান ও আয়োজক কমিটির মঈনুল হাসান মিতুল।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী শাহাবুদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। মুক্তিযুদ্ধ আমার হৃদয়ের গহীনে প্রোথিত। এটি একটি অস্ত্র যা আমাকে এই ধরনের ছবি অাঁকতে অনুপ্রাণিত করে। মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডারদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সেক্টর কমান্ডারদের মাধ্যমে আমার এই প্রদর্শনীর আয়োজন।
আর্ট কিউরেটর এবাদুর রহমান শাহাবুদ্দিনের চিত্রকলা প্রসঙ্গে নানা তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, শিল্পী শাহাবুদ্দিন অাঁকেন একেবারে আমাদের বাংলাদেশের ভাষায়। তাঁর অাঁকায় রয়েছে এক অদ্ভুত গতিময়তা, যা আমাদের সামনের দিকে চলতে উজ্জীবিত করে।
আর প্রদর্শনীর আয়োজন সম্পর্কে মঈনুল হাসান মিতুল বলেন, বিজয়ের চার দশক পূর্তি হোক গৌরবময় আর অহঙ্কারের। সেই সময় এবং শিল্পী শাহাবুদ্দিনকে সম্মান জানানোই প্রদর্শনীর মুখ্য উদ্দেশ্য।
১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরম্ন হওয়া ১১ দিনব্যাপী প্রদর্শনী চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যনত্ম। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যনত্ম দর্শনাথর্ীদের জন্য খোলা থাকবে।
বাংলা একাডেমীর বিজয় উৎসব শুরম্ন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদ্্যাপনের মধ্য দিয়ে শুরম্ন হলো বাংলা একাডেমীর বিজয় উৎসবের অনুষ্ঠানমালা। স্বাধীনতার ৪০ বছরে বিজয় উৎসব উপলক্ষে একাডেমীর রবীন্দ্র চত্বরে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিন ছিল বুধবার। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পসত্মবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালা শুরম্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
একাডেমীর রবীন্দ্র চত্বরে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিন সকালে 'শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতিকৃতি অঙ্কন' বিষয়ে আয়োজিত শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দুটি শাখায় অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে একই স্থানে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। 'বুদ্ধিজীবী হত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও আজকের বাংলাদেশ' শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা অহিদ। আলোচনা করেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। সভাপতিত্ব করেন শিৰাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শুরম্ন থেকেই পাকিসত্মান রাষ্ট্র বাঙালী সংস্কৃতিকে শত্রম্ন জ্ঞান করেছে। তাই '৭১ সালে তারা শহীদ মিনারকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, বাংলা একাডেমীতে হামলা চালিয়েছে। বুদ্ধিজীবী হত্যাও তাদের সেই বাঙালী সংস্কৃতিবিরোধী অপতৎপরতারই অংশ। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক অধিকার নেই কিন্তু বাংলাদেশের আমরা এর বিপরীত চিত্র দেখতে পাই। তাই শুধু যুদ্ধাপরাধের দায়ে গুটিকয়েক ব্যক্তির বিচার করলেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের ঋণ শোধ হবে না বরং যুদ্ধাপরাধীদের ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মকা- নির্মূল করতে হবে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, শুধু একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী হত্যা হয়নি বরং ২৫ মার্চের কালরাত্রি থেকে বুদ্ধিজীবী নিধনপর্ব শুরম্ন হয় এবং শুধু রাজধানীবাসী বুদ্ধিজীবীদেরই নয়, সারাদেশের বুদ্ধিজীবীদেরই তারা হত্যার লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তির অপরাধকে আমলে নিলে চলবে না, বরং যে সংগঠিত-ফ্যাসিবাদী শক্তি বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা ও বাসত্মবায়ন করেছে তাকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন বাকশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও আহকামউলস্নাহ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মীনা বড়ুয়া, উমা ইসলাম, আবদুল হালিম খান, সরদার মোঃ রহমাতউলস্না, আজাদ হাফিজ, মাহমুদুজ্জামান বাবু, ঝুমা খন্দকার প্রমুখ।
রবি-চ্যানেল আই বিজয়মেলায় আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সুজেয় শ্যাম বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর চ্যানেল আই-এর আয়োজনে তেজগাঁওয়ের কার্যালয় চত্বরে এবারও অনুষ্ঠিত হবে 'রবি-চ্যানেল আই বিজয় মেলা'। এবার বিজয়মেলায় আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা সুজেয় শ্যাম। এ ছাড়া প্রতিবারের মতো এবারের আয়োজনেও থাকবে বৈচিত্র্যময়তা। বিজয়ের ৪০ বছরকে স্মরণ করতে মেলাকে ঘিরে নেয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।
এ উপলক্ষে বুধবার চ্যানেল আই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আজীবন সম্মাননায় ভূষিত সুজেয় শ্যাম, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ এবং রবির সিএফও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যবৃন্দ। এ সময় বায়েজিত খুরশীদ রিয়াজের কথা ও সূরে স্বাধীনতার ৪০ বছর উপলক্ষে চ্যানেল আই নির্মিত একটি গানের ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন ও এন্ড্রু কিশোর।
এ বছর মেলার উদ্বোধন করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী-কলাকুশলী, নারী মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ, আইনজীবী, দেশ বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিত্র শিল্পীবৃন্দ, সঙ্গীতশিল্পী-সাহিত্যিক, আবৃত্তি শিল্পী, লেখক ও দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।