মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
পরকীয়ায় পল্লবীতে স্বামীর কোপে স্ত্রী খুন, ঘাতক আটক
সূত্রাপুরে গুলি করে পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর পলস্নবীতে স্ত্রীর পরকীয়া জের ধরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষ- স্বামী। ঘটনার পর পুলিশ ঘাতক স্বামী মোঃ হারুনকে গ্রেফতার করেছে। খিলক্ষেতে সড়ক দুঘর্টনায় এক পথচারী নিহত হয়েছে। মোহাম্মদপুরে ছাদ থেকে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে পুরনো ঢাকার সূত্রাপুরে ছিনতাইকারীরা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে গুলি চালিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। বুধবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ১০টায় মিরপুর দুয়ারীপাড়ার বস্নক-খ এর ২ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ি থেকে গৃহবধূ ছবি আক্তারকে (২৪) রক্তাক্ত আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনে তার স্বামী মোঃ হারুন ও খালা রাশেদা বেগম। কর্তব্যরত চিকিৎসক ছবি আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তার উরুতে গাঁথা ধারাল বটিটি চিকিৎসক অপারেশনের মাধ্যমে বের করে আনেন। এ ঘটনায় সন্দেহ দেখা দিলে পুলিশ নিহতের স্বামী হারম্ননকে আটক করে। আটক হারম্নন তার খালাশাশুড়ি রাশেদা বেগমের সামনে বলেন, আমি স্ত্রী ছবিকে মারতে চাইনি। ওকে আমি পঙ্গু বানিয়ে রাখতে চেয়েছি। ও (স্ত্রী) আমার সংসার তছনছ করে দিয়েছে। হারম্নন আরও জানায়, ২ মাস আগে স্ত্রী ছবি পুনরায় স্থানীয় আব্দুল হাই নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে। কর্মস্থলে যাবার সুবাদে স্ত্রী মোবাইলের মাধ্যমে আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। দুই শিশু সনত্মান ইসমাইল (৬) ও ইব্রাহিমকে (৪) পলস্নবী থানাধীন দুয়ারীরপাড়া রেখে আব্দুল হাইয়ের মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়াত। এমনকি দুদিন স্ত্রী গাজীপুরে ওই যুবক আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে রাত কাটিয়েছে। এরপরও আমি স্ত্রীকে প্রচ- ভালবাসি বিধায় এই পথ থেকে সরাতে চেয়েছিলাম। খালাশাশুড়ি রাশেদা বেগমকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি স্ত্রী ছবিকে ফেরাতে চেয়ে ব্যর্থ হন। এ নিয়ে প্রায়ই স্ত্রী ছবির সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। পরে স্ত্রীকে বোঝানোর জন্য একদিন আগে পলস্নবী থানাধীন মিরপুর দুয়ারীপাড়ার বস্নক-খ-এর ২ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ি নিচতলায় খালাশাশুড়ির বাড়িতে স্ত্রী ছবি ও দুই ছেলে নিয়ে বেড়াতে আসি। পরের দিন বুধবার সকাল ৯টায় স্ত্রী ও দুই সনত্মানকে রেখে আমি কর্মস্থল স্থানীয় লেজান ফ্যাশন গামেন্র্টসে যাই। হঠাৎ সন্দেহ হলে সকাল ১০টায় খালাশাশুড়ির বাড়ি ফিরে আসি। এ সময় স্ত্রীকে বাসায় না পেয়ে খালাশাশুড়িকে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান, ছবি পাশর্্ববতর্ী দোকানে ফ্ল্যাঙ্ িলোড করতে গেছে। পরে মোবাইল দোকানে গিয়ে দেখতে পাই স্ত্রী ছবি তার মোবাইলে কার সঙ্গে যেন কথা বলছে। এ সময় তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে অপর প্রানত্মে ওই যুবক আব্দুল অশস্নীল কথা শুনতে পাই। পরে স্ত্রী ছবিকে বাসায় এনে খালাশাশুড়িকে বিষয়টি জানাই। তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রী ছবি ৰিপ্ত হয়ে রান্নাঘর থেকে ধারাল বটি এনে আমার দিকে তেড়ে আসে। পরে খালাশাশুড়ি ও আমি তার হাত থেকে বটি কেড়ে নিই। তারপরও সে আমাকে মারতে এলে আমি ৰিপ্ত হয়ে তাকে পঙ্গু বানিয়ে ঘরে বসিয়ে রেখে খাওয়াব বলে ওই বটি দিয়ে পায়ে কোপ দেই। এক পর্যায়ে বিষয়টি টের পেয়ে তার পা থেকে বটি খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মিরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে অবস্থা অবনতি হলে দুপুর পৌনে ১২টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্ত্রী ছবিকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের সামনে হারম্নন হাউ মাউ করে কেঁদে বলেন, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য এক বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলেন। সে সুযোগে স্ত্রী কাফরম্নল থানাধীন মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের রানা নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি টের পেয়ে তিন মাস পর সেখান থেকে দেশে চলে আসি শুধু স্ত্রী ও সনত্মানের ভালবাসায়। নিহতের খালা রাশেদা বেগম, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বোনজি ছবিকে বুঝিয়ে ওই পথ থেকে সরাতে পারেননি।