মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
একাধিক হত্যা মামলায় জড়ানোর জের ধরেই খুন হয় লোকমান
ঘাতক শরীফের স্বীকারোক্তি
নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী, ১৪ ডিসেম্বর ॥ নরসিংদী পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া নাজমুল হাসান শরীফ ওরফে কিলার শরীফ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে শিবপুরের বিএনপি নেতা জসিম হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় সে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। প্রতিটি গ্রেফতারের পেছনে লোকমানের হাত ছিল।
তদন্ত-সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, শরীফ দাবি করেছে, দু'বছর আগে নরসিংদী শহরের বীরপুর মহল্লার ইঞ্জিন রনি খুন হয়। ডিশ ব্যবসার সূত্র ধরে তাকে খুন করা হয়। এ মামলায় তাকে আসামি করা হয়। সে রনির মা-বাবার কাছে গেলে তারা জানায় তাকে তারা আসামি করেনি। মেয়র লোকমান করিয়েছে। পরে সে মেয়রের বাসায় গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। মেয়র বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেয়। পরবর্তী সময়ে মেয়র তাকে ডেকে নিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। এসব কারণে সে লোকমানকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এছাড়া জসিম হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন মোবা এবং ডাক ও টেলিযোগযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর এপিএস মুরাদ তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করে। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে শরীফ লোকমান হত্যাকা-ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী মোবারক হোসেন মোবার সঙ্গে তার ক্ষোভের কথা জানায়। শরীফ পুলিশকে জানায়, লোকমান হত্যাকা-ের বিষয়ে সে নরসিংদী শহরে একাধিকবার মোবারকের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন কৌশল বের করে। শরীফের দাবি অনুযায়ী হত্যাকা-ের জন্য মোবারক হোসেন মোবা, নরসিংদী সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অস্ত্র ব্যবসায়ী নুরম্নল ইসলাম, আশরাফুল সরকার, মুরাদ তাকে একটি জার্মানের তৈরি ৩২ বোরের রিভলবার, ৩০ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল যোগাড় করে দেয়। মোবারকের কথানুযায়ী তার ভাতিজিজামাই টঙ্গীর হাজী সেলিমের নিকট থেকে মোটরসাইকেলটি সে নিয়ে আসে। পরিকল্পনার শেষে হত্যার কয়েক দিন আগে মোবা, নূরম্নল ইসলাম মালয়েশিয়া চলে যায়। এদিকে মোটরসাইকেল দিয়ে শরীফ শহরের বিভিন্ন এলাকা রেকি করতে থাকে এবং মেয়র লোকমান হোসেনকে কিভাবে কোথায় খুন করা যায় সে ফন্দি অাঁটে। শরীফ পুলিশকে জানায়, ১ নবেম্বর রাতে সহযোগী আওলাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সে মোটরসাইকেল নিয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে যায় এবং মোটরসাইকেলটি পাশের একটি খালি জায়গায় রেখে মুখোশ পরতে পরতে আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে লোকমানকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় সে। গুলি খেয়ে লোকমান বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। এরপর আরও ৪টি গুলি করা হয়। এ সময় আশপাশের কয়েকজন তাকে ধাওয়া করলে মোটরসাইকেল ওই স্থানে রেখেই দুটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে কিলিং মিশনে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়।
অপরদিকে খুনী শরীফের দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছে মেয়র লোকমান পরিবার। তারা বলছে, শরীফ হত্যাকারী। মোবারক তাকে ব্যবহার করেছে। মোবারকসহ মামলার অন্য আসামিরা এ হত্যাকা-ে পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনাকারীদের বাঁচানোর কোন ষড়যন্ত্র হলে নরসিংদীসহ দেশবাসী তা মেনে নেবে না। মেয়র লোকমান হত্যা মামলার আসামি নাজমুল হাসান শরীফ, আওলাদ হোসেন রম্নবেল, দেলোয়ার হোসেন শরীফ, সরওয়ার হোসেন পৃথক দুটি মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এ ব্যাপারে নরসিংদীর পুলিশ সুপার খ. মহিদ উদ্দিন জানান, শুরম্ন থেকেই বলে আসছি হত্যাকা-ের নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক কারণ, পূর্ব বিরোধ, আধিপত্যসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখে তদনত্ম কাজ চলছে।
কুলখানি॥ মেয়র লোকমান নিহত হওয়ার ১ মাস ১৩ দিন পর বুধবার তার কুলখানির আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া, মন্দিরে প্রার্থনা ও গণভোজের আয়োজন করে তাঁর পরিবার। এছাড়া শোকাহত জনতা শহরের ৩৯ পয়েন্টে আলাদা আলাদা গণভোজের আয়োজন করে। লে. কর্নেল (অব) নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীক এমপি এ গণভোজে অংশ নেন।