মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
ডারবান সম্মেলনে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি উপেক্ষিতই রয়ে গেল
বাংলাদেশ কোন গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারেনি
নিখিল মানখিন ॥ ডারবান সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির কোন গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যঝুঁকির কোন গবেষণা প্রতিবেদন সরকারের হাতে ছিল না বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশের সঙ্গে স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তারই সাৰ্য বহন করে। জলবায়ু পরিবর্তনে নানা ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হলেও তা সীমিত অঞ্চলে ব্যাপৃত থাকে। কিন্তু জলবায়ুর কারণে সৃষ্ট নতুন নতুন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। স্বাস্থ্যঝুঁকির পূর্ণাঙ্গ চিত্র বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে হবে। তা করতে না পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সামগ্রিক ৰয়ৰতির পরিমাণ নিরূপণ করা যাবে না। প্রথমবারের মতো শুরম্ন করলেও জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির চিত্র সমীক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি সংশিস্নষ্টরা। গত বছর মেক্সিকোর কানকুনে অনুষ্ঠিত কপ-১৬ সভাতেও স্বাস্থ্যঝুঁকির কোন প্রতিবেদন নিয়ে যেতে পারেনি বাংলাদেশ।
দৰিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন, যা 'ডারবান জলবায়ৃু সম্মেলন' বলে পরিচিতি পায়। সরকারী প্রতিনিধি দল সেই সম্মেলনে অংশ নেয়। ওই সম্মেলনে বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের বক্তব্যে কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ বৃদ্ধি ও কানকুন সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড কার্যকর করার বিষয়টি উঠে এলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো গুরম্নত্বপূর্ণ দিক উপেৰিত রয়ে যায়। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সরকারী প্রতিনিধি দলের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির কোন গবেষণা প্রতিবেদন ছিল না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চলতি বছরের শুরম্নতে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির চিত্র নিয়ে গবেষণা করার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সেন্টারকে (আইইডিসিআর) দায়িত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় কোন প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশের। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সমন্বয়কারী হলেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সেন্টারের (আইইডিসিআর) উর্ধতন বৈজ্ঞানিক ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি জনকণ্ঠকে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণের জন্য আইইডিসিআর'কে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। নিরূপণের কাজটি শেষ হয়নি। আরও ১ বছর লাগতে পারে। ১০ সদস্যের এ টিম ইতোমধ্যে কাজ করছে। ঝুঁকি নিরূপণের জন্য তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- উচ্চ ভূমি, দ্বীপ (চরাঞ্চলসহ) ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চল। এ কাজে ৯০ দশকের আগের অবস্থা বিবেচনায় আনা হচ্ছে। ওই দশকে কি কি রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল, বর্তমানে সেগুলোর কি অবস্থা, তা পরীৰা-নিরীৰা করে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা কলেরা, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, নিউমোনিয়াসহ মোট ৭টি রোগ চিহ্নিত করেছি। এতদিন ঝুঁকি নিরূপণের কাজ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মুশতাক হোসেন জানান, বিশ্বের কোন দেশেই এ সংক্রানত্ম তথ্য তৈরি করা হয়নি। বিভিন্ন সেক্টরের ওপর অনেক গবেষণা হয়েছে। কিন্তু জলবাযু পরিবর্তনে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিশ্বের কোন দেশই আমলে আনেনি। তবে এ কাজটি খুব দ্রম্নত শেষ করা দরকার বলে মনে করেন ডা. মুশতাক হোসেন।
গত বছর কপ-১৬ সভার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় দৰিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক বৈঠক। ওই বৈঠকে কপ-১৬ সভার জন্য তৈরি করা হয় 'ঢাকা ঘোষণা'। ওই বৈঠকে কপ-১৫ সভায় স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি উপেৰিত হয়েছে বলে বাংলাদেশের পৰ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। এভাবে কপ-১৫-এর পর গত বছর কপ-১৬ সভায়ও বিষয়টি উপেৰিত রয়ে যায়। গত কয়েকদিন আগে শেষ হওয়া ডারবান জলবায়ু সম্মেলনে তা উত্থাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সম্মেলনেও উপেৰিত রয়ে যায়। গত বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত আনত্মর্জাতিক সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রম্নহুল হক অকপটে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, যেখানে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কোন কথাই হচ্ছে না, সেখানে আর্থিক ৰয়ৰতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে না। পরিবেশের সঙ্গে স্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ইতোমধ্যেই পরিলৰিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তারই সাৰ্য বহন করে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কপ-১৫সহ জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত নানা আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি পুরোপুরিভাবে উপেৰিত হয়ে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।