মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১১, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৮
কুমিল্লা মহানগরীতে কম্বিং অপারেশন কাল থেকে
নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ১৩ ডিসেম্বর ॥ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে কম্বিং অপারেশন শুরু হচ্ছে। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ প্রায় ২১ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে। আর নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি বা ওয়েব ক্যামেরা বসানো হবে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নিজস্ব পর্যবেক্ষকও নিয়োগ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কুসিক নির্বাচনকে একটি গ্রহণযাগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কুমিলস্না পুরাতন জেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় জেলা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ আবদুল বাতেন এসব কথা বলেন। মতবিনিময়কালে ৯ জন সহকারী রিটানিং অফিসারসহ নির্বাচন সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে রিটানিং অফিসার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন কমিশন তাই করবে। আগামীকাল ১৫ ডিসেম্বর থেকে সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান শুরু হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করছে প্রশাসন। এ অনুযায়ী কম্বিং অপারেশনে তাদের বিরম্নদ্ধে অভিযান চালানো হবে। নির্বাচনের এক সপ্তাহ পূর্বে বৈধ অস্ত্রধারীদের অস্ত্র থানায় জমা দিতে হবে। নির্বাচনের সময় কুমিলস্নার সীমানত্মবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৫০০ সদস্য ছাড়াও অতিরিক্ত প্রায় ৬০০ র্যাব মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে পুলিশ ও আনসারের সদস্য থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে র্যাবের ৮ সদস্যের একটি দল কাজ করবে। এ ছাড়াও বাড়তি নিরাপত্তা দিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে পুলিশ ও র্যাবের বিশেষ মোবাইল টিম। আগামীকাল ১৫ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যনত্ম ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টিম দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। ৩ থেকে ৭ জানুয়ারি ২৭ জন নির্বাহী ও ৯ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, নবগঠিত এ সিটি কর্পোরেশনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় ইসি। তাই যে কোনো ধরনের কারচুপি এড়ানোর জন্য সিসি টিভি বা ওয়েব ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন সিসিটিভির মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রকে আমরা সরাসরি পর্যবেক্ষণে রাখব। আর ওয়েব ক্যামেরা দিয়ে গোপন কক্ষ ব্যতীত পুরো ভোটগ্রহণকে রেকর্ড করা হবে। কোন জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজনে পরে রেকর্ডকৃত ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আফজল আর সাক্কুকে ঘিরে নানা হিসাব ॥ এদিকে কুমিল্লা সিটি মহানগরবাসীর দৃষ্টি আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি। কে হচ্ছেন কুমিল্লা সিটির প্রথম মেয়র। এমনই আলোচনা এখন নির্বাচন এলাকা থেকে কুমিলস্নার প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত বিসত্মৃত। ১৫ ডিসেম্বর প্রাথর্ীদের প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের গণসংযোগ ও প্রচারে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়াবে।
নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে রাজনীতির পট তত দ্রম্নত পরিবর্তন হচ্ছে। ভোটের হিসাব-নিকাশও পাল্টাচ্ছে। তাই ভোটের অঙ্ক মেলাতে মেয়র প্রাথর্ীদের অনেকটা গলদঘর্ম অবস্থা। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জন করলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রাথর্ী সাবেক পৌর মেয়র মনিরুল হক সাক্কু এখন নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচনী মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। এদিকে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলের বষর্ীয়ান নেতা অধ্যক্ষ আফজল খানকে সমর্থন জানানো হলেও দলের দুই সাবেক ছাত্রনেতা নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম ও আনিসুর রহমান মিঠু মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যনত্ম নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকার সিদ্ধানত্মে অনড় রয়েছেন তারা দুইজন। তারপরও ভোটার, সমর্থক, দলীয় নেতাকমর্ীদের আলোচনা-সমালোচনা ও উৎকণ্ঠা আফজল খান ও মনিরুল হক সাক্কুকে ঘিরেই। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ১৫ ও ২৩ নবেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় ইভিএম বাতিল ও সেনা মোতায়েন না করলে কুসিক নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত যখন জেলা নেতাদের জানানো হয় তখন এতে বিএনপির সমর্থনপ্রাপ্ত মেয়র প্রার্থী হাজী ইয়াছিন এবং সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কু উপস্থিত ছিলেন।