মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১১, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৮
সৈয়দপুরে মৃতের সংখ্যা তিন জনে উন্নীত
উরসের বিষাক্ত খিচুড়ি
নিজস্ব সংবাদদাতা, নীলফামারী, ১৩ ডিসেম্বর ॥ নিষিদ্ধ পলিথিনে ভরা উরসের খিচুড়ি খেয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর, রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার ২ হাজার আক্রান্তের মধ্যে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো তিনজনে। মঙ্গলবার সকালে রংপুর মেডিক্যালে মারা যান সৈয়দপুর উপজেলার কাছারীপাড়া গ্রামের রিক্সাচালক আক্কাস মাহমুদ ওরফে আকা (৪৫) ও সোমবার রাতে বদরগঞ্জ উপজেলার হাসপাতালে মারা যায় ওই উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ৫ বছরের মেয়ে সুরভী । একই দিন সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যালে মারা গিয়েছিল আইসঢাল গ্রামের আবু জাফর আহমেদ বুদারুর ৯ বছরের শিশুপুত্র সেলিম। এদিকে সৈয়দপুরের এ ঘটনা তদন্তের জন্য ঢাকার আইসিডিডিআরবির একটি প্রতিনিধিদল সৈয়দপুরে আসছেন। এ ঘটনায় যারা মারা গেছে সেসব মৃতদেহের ময়নাতদনত্ম করা হয়েছে।
মঙ্গলবার নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আব্দুল মজিদ জানান, এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের পৰে একটি তদনত্ম টিম গঠন করা হয়েছে। সৈয়দপুর ৫০ শযা্যা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ষষ্ঠীচরণ চক্রবর্তীকে প্রধান করে ৪ সদস্যোর এই তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি পীর সাহেবের উরসে যে খিচুড়ি সরবরাহ করা হয়েছিল তা দীর্ঘক্ষণ নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে থাকায় বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে এ নিয়ে আরও তদন্তের জন্য ঢাকার আইসিডিডিআরবির একটি প্রতিনিধিদল সৈয়দপুরে আসছেন। তারা আক্রানত্ম রোগীর মলের নমুনা সংগ্রহ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবেন।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের পর লাশের ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং শীঘ্রই তা ঢাকায় পাঠানো হবে পরীৰা করার জন্য।
সিভিল সার্জন আরও জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুর, রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠছে। তবে যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক তাদের রংপুর মেডিক্যালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত গ্রামে মেডিক্যাল টিম ছাড়াও একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনারকলি মাহবুব জানান, এখন পরিস্থিতি অনেকটা ভাল মনে হচ্ছে। কারণ, রোগীরা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে শুরম্ন করেছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা (ডিএমও) আনোয়ার হোসেন জানান, রেল শ্রমিক লীগের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। আক্রানত্ম রোগীদের জন্য তারা অনেক সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। এ হাসপাতালে আমরা ১০০ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। তাদের ওষুধপত্র, খাদ্য সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও রেল হাসপাতালে সংশিস্নষ্টদের বাইরে অন্য কাউকে চিকিৎসা দেয়ার বিধান নেই তবুও মানবিক কারণে ওই আক্রান্ত রোগীদের প্রথমবারের মতো এখানে ভর্তি করা হয়।