মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১১, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৮
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব শুরু শহীদ মিনারে
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের লাখো শহীদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার চার দশক পূর্ণ হলো এ বছর। চলছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। আর বিজয়ের এ মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে সামনে রেখে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী বিজয় উৎসব। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এবারের উৎসবের সেস্নাগান 'মুক্তিযুদ্ধের শেষ নাই যুদ্ধাপরাধীর ক্ষমা নাই'। এবারের উৎসবে ঢাকার কয়েকটি মঞ্চ থেকে কথা, কবিতা, গান, নাচ, আবৃত্তি ও নাটকের ভাষায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রম্নততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জোর দাবি জানানো হবে। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব চলবে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
পূর্ব দিগন্তের সূর্য যখন অস্তুমিত আর পশ্চিম আকাশে উদিত পূর্ণিমার চাঁদ। এমন সময় 'ভয় কি মরণের রাখিতে সন্তানে' গানের সুরে চলিস্নশটি আলোর মশাল জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নিখোঁজ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের সদস্যরা। এদের মধ্যে ছিলেন_ সারা আরা মাহমুদ, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ মজুমদার, আমেনা খাতুন, শমী কায়সার, অনল রায়হান, জাহিদ রেজা নূর প্রমুখ। উৎসব শুরুর দিনেই প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে স্মরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে বাঙালীর মুক্তিসংগ্রামে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় জোটের অন্তর্ভুক্ত সংগঠনগুলোর শিল্পীদের সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশিত হয় জাতীয় সঙ্গীত। এরপর 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত
লাল' সম্মেলক কণ্ঠে এ গানের সঙ্গে পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য।
উৎসবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন জোটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আহ্কামউল্লাহ। জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, গ্রম্নপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল ঝুনা চৌধুরী, গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শিল্পী ফকির আলমগীর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুফিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও কবি মুহম্মদ সামাদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জোটের সহসভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গত চলিস্নশ বছর ধরে আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী যুদ্ধাপরাধীদের দাবি করে আসছি। গত সংসদ নির্বাচনে এ দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পৰে রায় প্রদান করেছেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল গঠন করেছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন অভিযুক্তের বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু এ বিচার নস্যাত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দেশের শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের রৰার ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেবে। কলঙ্কমুক্ত হবে জাতি, সান্তনা পাবে শহীদের সন্তানেরা।
এবারের পাঁচদিনের উৎসবে নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখরিত থাকবে ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, শিশু একাডেমী, রায়ের বাজারের বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ, মিরপুরের কামাল মজুমদার স্কুল এ্যান্ড কলেজ, বাহাদুর শাহ্মহ পার্ক, দনিয়া বর্ণমালা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও শনিরআখড়া। জোটের অনত্মর্ভুক্ত প্রায় দুই শ' সংগঠন এ বিভিন্ন পরিবেশনা নিয়ে উৎসবে হাজির হবে। বিজয়ের দিন ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হবে বিশেষ শোভাযাত্রা।
ছায়ানটে মণিপুরী নৃত্য ॥ মণিপুরী নাচের ছন্দোময় পরিবেশনার এক রূপময় দৃশ্যায়নের দেখা মিলল মঙ্গলবার ছায়ানট মিলনায়তনে। নৃত্যের এই প্রাচীন ধারাটিকে উপস্থাপন করল ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে আসা সংগঠন 'জগোয় মরূপ'। হেমনত্মের সন্ধ্যায় ছায়ানটের সহযোগিতা এবং ঢাকাবাসী মণিপুরী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে ছায়ানটের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও কথামালায় অংশ নেন বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টর্ের এ্যাডভোকেট এস সি সিন্হা এবং ভারতের সাহিত্য একাডেমীর পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক প্রফেসর এন কুঞ্জমোহন সিংহ।
মুন্সীগঞ্জ ॥ স্টাফ রিপোর্টার মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, বিজয়ের ৪০ বছরপূর্তি উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে আলোচনাসভায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি মোঃ মনিরম্নজ্জামান শরীফের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন পিন্টু, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, রামপাল কলেজের সহয়োগী অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সিনিয়র সদস্য দেলোয়ার হোসেন ।