মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১১, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৮
সাম্প্রদায়িক মামলা দিয়ে সরকার আন্দোলন দমাতে চায়
মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সোজা আঙ্গুলে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো যাবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ সরকারের পতন ঘটাতে আঙুল বাঁকা করতে হবে। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাসির উদ্দিন পিন্টুর মুক্তির দাবিতে লালবাগ থানা বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সরকার আন্দোলন দমাতেই বিরোধী দলের নেতাদের নামে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার নতুন মোড়কে দেশে ফের একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। এ কারণেই সরকার সামপ্রদায়িক মামলা দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করতে চায়। কিন্তু সরকারের এই চক্রান্ত সফল হবে না। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। তারপরও তারা ক্ষানত্ম হচ্ছে না। এখন সামপ্রদায়িকতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে বিরোধী দলের ২৬ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, বিরোধী দলকে জনগণের ভোটের অধিকারের আন্দোলন থেকে দূরে রাখা। সরকারের এই ধরনের তৎপরতার জবাব রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে দেয়া হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সরকার এখনকার মতো দমন নির্যাতন চালিয়ে ৩০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল। তার পরিণতি শুভ হয়নি। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল তাদের সাড়ে সাত হাজার মামলা তুলে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫টি দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির কোন মামলাই তারা প্রত্যাহার করেনি। উল্টো নতুন নতুন মামলা দেয়ার চক্রান্ত করছে। মহাজোট সরকার ব্যর্থ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার দেশের গণতন্ত্র অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করেছে। কার্যত নতুন মোড়কে তারা একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সরকারের পতনের জন্য জনগণকে সম্পৃক্ত করে দুর্বার আন্দোলন করতে হবে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে ব্যর্থ সরকার বলে মনত্মব্য করে মির্জা ফখরম্নল বলেন, তারা আজ দেশের গণতন্ত্র অবরম্নদ্ধ করে ফেলেছে। তারা মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করেছে। সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যনত্ম তৎকালীন সরকার দমন নির্যাতন চালিয়ে ৩০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল। তার পরিণতি শুভ হয়নি।
মানববন্ধন কর্মসূচীতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলম, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক প্রমুখ। মানববন্ধনে লালবাগ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেয়।
বুদ্ধিজীবী হত্যায় সহায়তা করেছে দেশীয় কুলাঙ্গাররা ॥ বুদ্ধিজীবী হত্যায় দেশের কিছু কুলাঙ্গার হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে 'শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ' আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলেছে নয় মাস। লাখো শহীদের রক্ত আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এসেছে এই স্বাধীনতা। কিন্তু এটি আজ চলে যেতে বসেছে। তাই আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। সবাইকে দুর্বার আন্দোলনে শরিক হতে হবে। তিনি বলেন, সরকার দেশ ও দেশের মানুষের ভবিষ্যতকে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করে ফেলেছে। মানুষের মৌলিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই।
মহাজোট সরকারকে জাতির জন্য জগদ্দল পাথর হিসেবে আখ্যায়িত করে মির্জা ফখরম্নল বলেন, এ সরকার সংবিধান সংশোধন করে আলস্নাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস মুছে দিয়ে, দেশের ৯৫ ভাগ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আর সংবিধান নিয়ে কথা বললেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এমএ মান্নান জমাদারের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মাহবুব উল্লাহ, জিয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নুরুল আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলম খান প্রমুখ।