মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১১, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৮
তিন বছরে বিটিসিএলে ৩৭ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ
মাত্র একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন
ফিরোজ মান্না ॥ বিটিসিএলে গত তিন বছরে একটি মাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি প্রকল্পের কাজে এখন পর্যন্ত হাতই দেয়া হয়নি। অথচ এসব প্রকল্পের নামে বিটিসিএলের ৩৭ কোটি টাকা হরিলুট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিটিসিএলের বোর্ডে কোন প্রকৌশলীকে সদস্য রাখা হয়নি। একজন সদস্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হলেও তিনি কোন বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নেননি। বিটিসিএলের এমডি নিজেই প্রকৌশলী নন। এ জন্যই বিটিসিএলের কোন প্রকল্পের অগ্রগতি নেই। জাইকার অর্থায়নে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন টেলিফোন লাইন স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরুই করা হয়নি। অথচ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে যে কোন সময় ঢাকার টেলিকম ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। অভিযোগ রয়েছে এমনটাই চাচ্ছেন বিটিসিএলের একটি মহল।
বিটিসিএলের উন্নয়নের বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজি উদ্দীন রাজু জনকণ্ঠকে বলেন, গত তিন বছরে ল্যান্ড টেলিফোন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রায় সারাদেশ অপটিক্যাল ফাইবারের আওতায় আনা হয়েছে। থ্রি জি (তৃতীয় প্রজন্মের) মোবাইল চালু করার কাজ চলছে। কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে বিটিসিএলের উন্নয়নে হাতে নেয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে।
বিটিসিএলের এমডি ড. আবু সাঈদ জনকন্ঠকে বলেন, বিটিসিএলের বোর্ড সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উঠতে পারে না। কারণ গ্রামীণ ফোনের সিইও তো প্রকৌশলী নন-তাতে কি গ্রামীণ ফোন চলছে না। এরপরেও বিটিসিএলের বোর্ডে সেনাবাহিনী থেকে সিগন্যাল কোরের একজন সদস্য রয়েছেন এবং ড. জাফর ইকবাল তো টেকনিক্যাল ব্যক্তি। বিটিসিএলের বোর্ড চেয়ারম্যান হচ্ছেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীল কান্তি বোস। সদস্যরা হলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রফিকুল ইসলাম, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সদস্য মাসিহ মালিক চৌধুরী, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জসিম উদ্দীন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, মেজর জেনারেল কাজী ফখরুদ্দীন আহমেদ। এক প্রশ্নের জবাবে বিটিসিএলের এমডি বলেন, বোর্ড মিটিংয়ে যে সব সদস্য যোগদান করেন, তাদের প্রত্যেককে আড়াই হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেয়া হয়। এটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোন অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে কেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। বিটিসিএল তো একটা কোম্পানি। ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে সম্মানী ভাতা ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। সেখানে আমরা মাত্র আড়াই হাজার টাকা দিচ্ছি।
জানা গেছে, প্রকল্পের নামে বিটিসিএল গত তিন বছরে ৩৭ কোটি টাকা হরিলুট করেছে। একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য আর কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি সংস্থাটি। হাতে নেয়া প্রকল্পগুলো বাসত্মবায়ন না হলে ল্যান্ড টেলিকম ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে যে কোন সময়। যত দ্রম্নত সম্ভব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। টেলিযোগাযোগ সচিব বিটিসিএল, সাবমেরিন কেবল কোম্পানি (বিএসসিসিএল) টেলিটক, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস), কেবল কোম্পানিসহ ৫টি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। প্রতিমাসে এক একটি কোম্পানির একাধিক বোর্ড মিটিং করে সম্মানী ভাতাই নিচ্ছেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। ঘন ঘন বোর্ড মিটিং করে টাকা আয় করা ছাড়া কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। এ ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীল কান্তি বোসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন ধরেননি।
এদিকে বিটিসিএল বলেছে, তারা ল্যান্ড টেলিকম সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। তারা টেলিফোনে কলচার্জ প্রতি মিনিট ৩০ পয়সা ,অন্যান্য অপারেটর প্রতি মিনিট ৬৫ পয়সা এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সার্ভিস (এডিএসএল) এর মাসিক সর্বনিম্ন চার্জ ৩শ' টাকা করেছে। এতে সারাদেশে সাশ্রয়ী টেলিযোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করাসহ ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে । এজন্য ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের ভাড়া এমবিপিএস প্রতি ২৭ হাজার থেকে নামিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে একইসঙ্গে টেলিফোন ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তির জন্য প্রায় ৪৭ হাজার লাইন এডিএসএল সার্ভিস আনা হয়েছে। ৬০টি স্থানে অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক ইউনিট (ওএনইউ) এঙ্চেঞ্জ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
টেলিযোগাযোগ সার্ভিসের মান উন্নয়নের জন্য নতুন ২৫টি জেলাকে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সারাদেশের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসকের অফিসসমূহকে উচ্চগতিসম্পন্ন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে 'ই-সেবা' চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে 'ভিডিও কনফারেন্সিং' চালু করা হয়েছে।