মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১১, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৮
বিশ্বব্যাংক তথ্য উপাত্ত না দেয়ায় দুদক তদন্ত করতে পারছে না
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত না দেয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করতে পারছে না। মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক ফররুখ আহমেদ এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চেরিটেবল দুর্নীতি মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের এ কর্মকর্তা।
পদ্মা সেতুর বিষয়ে তদন্তে তেমন কোন অগ্রগতি নেই বলে তিনি জানান। বিশ্বব্যাংকসহ পদ্মা সেতুর দরপত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল, তাদের কাছে দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চিঠি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের তরফ থেকে দুদক সেই চিঠির কোন জবাব পায়নি।
সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সম্পর্কে ফররুখ আহমেদ বলেন, যদি দুদকের প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোন দুর্নীতির বিষয়ে তিনি অভিযুক্ত হন, তাহলে বর্তমান আইন কাঠামো অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে কমিশন। মহাপরিচালক বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা এখনও বিশ্বব্যাংকের চিঠির অপেক্ষায় আছি। নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধানের সময় বাড়ানো হচ্ছে। ফররুখ আহমেদ বলেন, জিয়া চেরিটেবিল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হয়েছে। চেয়ারম্যান দেশে ফিরলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে। নতুন করে কাউকে অভিযুক্ত করার সম্ভাবনা নেই। তবে প্রয়োজনে অধিকতর অনুসন্ধান করা হতে পারে। এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাংসদ অলি আহমদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রসঙ্গে ফররুখ আহমেদ বলেন, কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কমিশন অলি আহমদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই।
দুদকের বিভিন্ন মামলার আসামিদের সাজাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার তদন্তে সময় লাগে। আদালতে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। তবে ১৯ কিংবা ২২ বছর পরে আদালতের রায়ে আসামি সাজা পান, এমন নজিরও এই দেশে আছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত নবেম্বরে কমিশনে ৬৬৩টি বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ মধ্যে ১২৮টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য নেয়া হয়েছে এবং ১৩টি অভিযোগ মন্ত্রণালয় বরাবর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পাঠানো হয়। আর ৫২২টি অভিযোগ কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় নথিভুক্ত করা হয়নি। নবেম্বর মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত ৪২টি দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আটটি প্রতিবেদন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে অক্টোবর মাসের ৬৮৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯১টি অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নবেম্বর মাসে জ্ঞাতবহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের অর্থ গোপন, নির্ধারিত সময়ে সম্পদের হিসাব দাখিল না করা, অর্থ আত্মসাত ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ৪৬টি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এ সব মামলায় সরকারী চাকরিজীবী, জনপ্রতিনিধিসহ ৬৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২৫ জন সরকারী চাকরিজীবী, একজন রাজনীতিবিদ, ১৩ জন ব্যবসায়ী ও অন্যান্য রয়েছে ১৬ জন।
বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৪৭৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমাসহ অন্য একজনের বিরম্নদ্ধেও মামলার অনুমোদন পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জন্য ওষুধপত্র অন্য মালামাল ক্রয়ে নিয়মিত দরপত্র ছাড়াই অস্বচ্ছ উপায়ে পরস্পর যোগসাজশে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক কোটি ৪৯ লাখ ২৯০ টাকা আর্থিক ক্ষতি সাধন করার অভিযোগে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বজলে কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধেও মামলার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক ক্যাশিয়ার এখলাস উদ্দিন ও এনসিসি ব্যাংক রাজশাহীর শাখা ব্যবস্থাপক আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলার অনুমোদন দিয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।