মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের ঘাতক গ্রেফতার
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা, গৌরনদী, ২৮ নবেম্বর ॥ বরিশালের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্কুলশিক্ষককে হত্যাকারী বখাটে রুপম চন্দ্র দে ওরফে রুপাকে (১৮) পুলিশ সোমবার সকালে যশোরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করেছে। তার কাছ থেকে রক্তমাখা চাকু উদ্ধার করা হয়। রুপম পালিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী উদয়ন এলিগেন্স পরিবহনে রওনা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতর উপস্থিতিতে বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে থাকা উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমান সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেন, নগরীর রুপাতলীর এ.ওয়াহেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাত আলীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত রুপম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য রুপম রবিবার রাতে ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী উদয়ন এলিগেন্স পরিবহনে রওনা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ শাহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রবিবার রাতে বেনাপোলের উদ্দেশে রওনা হয়। পুলিশ সোমবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে যশোরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ডে বসে এলিগেন্স পরিবহনে তলস্নাশি চালিয়ে খুনী রুপমকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশ রুপমের ব্যাগ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি, জিডি প্রত্যাহারের জন্য কাউনিয়া থানার ওসির বরাবরের একটি আবেদনপত্র ও নিজের লেখা কবিতার খাতা উদ্ধার করেছে।
সাংবাদিকদের সামনে রম্নপম বলে, স্যারের (জিন্নাত আলীর) মেয়ে তাজরীন জিন্নাত সুপ্তির সঙ্গে আমার সাড়ে তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক বছর থেকে সে (সুপ্তি) আমাকে এড়িয়ে চলতে থাকে। এরপর বিভিন্ন সময়ে আমি রাস্তাঘাটে বসে তার (সুপ্তির) সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। এ ঘটনা সুপ্তি স্যারকে জানালে তিনি (জিন্নাত আলী) আমার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর থেকে পুলিশ বিভিন্ন সময় আমার বাড়িতে অভিযান চালায়। উপায়ন্তুর না পেয়ে আমি তখন ঢাকায় চলে যাই। গত ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে আমি বাড়িতে এলে পুলিশ আবার আমার বাসায় অভিযান চালায়। ওই দিনই আমি পুনরায় ঢাকায় চলে যাই। এর পর সুপ্তিকে ফোন করে সাধারণ ডায়েরিটি প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু সে (সুপ্তি) আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়। কয়েকদিন আগে স্যারকে (জিন্নাত আলীকে) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জিডিটি প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করলে তিনি আমাকে বাসায় যেতে বলেন। তাঁর কথা অনুযায়ী গত ২৫ নবেম্বর থানায় জিডি প্রত্যাহারের একটি লিখিত আবেদন নিয়ে আমি স্যারের বাসায় যাই। কিন্তু স্যারে জিডি না উঠিয়ে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। ঘরের বাইরে বের হয়ে আসার সময়ে স্যার পুলিশকে ফোন করতে চাইলে আমি তার পেটে চাকু ঢুকিয়ে দেই। এতেই যে স্যার মারা যাবেন বুঝতে পারিনি।
এদিকে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর রম্নপাতলী সড়কে নিহত শিক্ষক জিন্নাত আলীর নিজ কর্মস্থল এ.ওয়াহেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এবং সাড়ে ১১টায় জেলা স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন। এছাড়াও জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্ট নিজ কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।