মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮
উপজেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানদের হাতে
সংসদে রিপোর্ট পেশ
সংসদ রিপোর্টার ॥ উপজেলা পরিষদকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা দেয়া হয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যানদের হাতে। ভাইস-চেয়ারম্যানদেরও ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে উপজেলা পরিষদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কর্তৃত্ব বহাল রাখা হয়েছে। সোমবার বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে সংসদীয় কমিটি সংসদে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। আজ মঙ্গলবার সংসদের সমাপনী দিনে পাস হবে বহুল আলোচিত উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল- ২০১০।
সোমবার জাতীয় সংসদে এই প্রতিবেদন উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন। তবে বেশ ক'জন উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, সংসদে উত্থাপিত বিলে কিছু সংশোধনী আনা হলেও সেখানে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খুব একটা বাড়ানো হয়নি। ইউএনওরা পরিষদের মুখ্য কর্মকর্তা হবেন এবং তারাই সকল আর্থিক কর্মকা- পরিচালনা করবেন।
তাঁদের অভিযোগ, উপজেলা চেয়ারম্যানরা এসিআর (এ্যানুয়াল সিক্রেট রিপোর্ট) লেখার ক্ষমতা চাইলেও তা দেয়া হয়নি। জেলা প্রশাসকরা তাদের এসিআর লিখবে। ফলে পরিষদে আমলাদেরই কর্তৃত্ব থাকবে। আর সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা রাখার বিধানও বহাল থাকছে। ফলে বিল পাস হলেও উপজেলা পরিষদ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
উত্থাপিত বিলের প্রতিবেদনে, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানদের অনাস্থা আনতে বিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সম্মতির প্রস্তাব সংশোধন করে চার পঞ্চমাংশ সদস্যের সম্মতির বিধান রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মামলা হলেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের বিধান পরিবর্তন করে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করার পর অপসারণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত ইসু্যভিত্তিক ১২ কমিটি থেকে বাড়িয়ে ১৭টি করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন করে বন ও পরিবেশ, মুক্তিযোদ্ধা, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা, সংস্কৃতি এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটি গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
বিলের রিপোর্টে বলা হয়, বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধিকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিগুলোর প্রধান হবেন নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যানরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন। তিনি হবেন উপজেলা পরিষদের মুখ্য কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে মূল আইনের বিধান অনুযায়ী নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানকে পরিষদের নির্বাহী প্রধান রাখা হয়েছে।
উলেস্নখ্য, উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮ অধিকতর সংশোধনের জন্য গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সংসদে উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০১০ উত্থাপিত হয়। সংসদে এই বিল উত্থাপনকালে আপত্তি জানান মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তাদের আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি উত্থাপন হলে বেশ কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি জানান উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা। বিল চূড়ানত্ম করার আগে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের মতামত নেয়ার জন্য তারা একাধিকবার লিখিত আবেদন জানান।
এই প্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ কমিটির বৈঠকে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কমিটি তাদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও খুব কম দাবিই শেষ পর্যন্ত আমলে নিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বেশকিছু ক্ষমতা পেয়েছে। বিলে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হলেও উপজেলা পরিষদে আমলাদের কর্তৃত্ব এখনও বহাল থাকছে বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।