মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮
সন্দেহভাজন যুবলীগ নেতা কাজী আলম গ্রেফতার
মেয়র লোকমান হত্যা
নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী, ২৮ নবেম্বর ॥ মেয়র লোকমান হত্যায় জড়িত সন্দেহে যুবলীগ নেতা লিটু হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি কাজী নূরে আলম ওরফে কাজী আলমকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংস্থা বলেছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে এখনই তা বলা যাচ্ছে না। রবিবার রাত ৩টায় সাদা পোশাকধারী একদল পুলিশ শহরের সাটিরপাড়া কুমিল্লা কলোনিসংলগ্ন তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। কাজী আলমের স্ত্রী শিউলী বেগম গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেছেন।
এ দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক মামুনুর রশীদ ম-ল বলেছেন, কাজী আলম গ্রেফতার হয়েছে কি না, তদন্তের স্বার্থে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত সংস্থার অপর একটি সূত্র বলেছে, কাজী আলমসহ আরও ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ মামলায় রিমান্ডে থাকা আসামিদের দেয়া তথ্য মতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। কাজী আলমের বিরুদ্ধের যুবলীগ নেতা লিটু হত্যাসহ জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। কাজী আলম মেয়র লোকমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোবারক হোসেন ওরফে মোবার ছোট বোনের জামাই। মোবা শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। সে মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার ৩ নং আসামি। মোবার ভাইয়ের মেয়ের জামাই হাজী সেলিম লোকমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। মেয়র লোকমান হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে পুলিশ হাজী সেলিমকে গত ১২ নবেম্বর টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করে। ৩ দফায় ১১ দিন রিমান্ড শেষে ২৩ নবেম্বর বুধবার আদালতের নির্দেশে হাজী সেলিমকে নরসিংদী জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
কাজী আলমের পরিবারে আতঙ্ক ॥ কাজী নূরে আলম ওরফে কাজী আলমকে একদল সাদা পোশাকধারী পুলিশ রবিবার রাত ৩টায় শহরের সাটিরপাড়া কুমিলস্না কলোনিসংলগ্ন তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। কিন্তু মেয়র লোকমান হত্যা মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা তার গ্রেফতার নিশ্চিত না করায় কাজী আলম পরিবারে দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যা বললেন ॥ মেয়র লোকমান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক মামুনুর রশীদ ম-ল বলেছেন, রিমান্ডে থাকা আসামি আশরাফুল সরকার, হাজী ফারুক, মাহফুজুর রহমান তাওয়াব ওরফে সবুজ, শাহিন ও নাসির জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত বলে স্বীকার করেছে। তাদের দেয়া তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই চলছে। শীঘ্রই এ মামলায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতার করে আইনামলে নেয়া সম্ভব হবে।
আসামি গ্রেফতার নিয়ে নিহত মেয়র পরিবারের সংশয় ॥ এজাহারবহির্ভূত আসামি গ্রেফতার করে তাদের নিকট থেকে স্বীকারোক্তি আদায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের শোকসনত্মপ্ত পরিবার। লোকমানের ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী সরকারী কলেজের ভিপি শামীম নেওয়াজ বলেছেন, পুলিশ এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতার না করে তদনত্মের নামে এজাহারবহির্ভূত আসামী গ্রেফতার করছে। মেয়র লোকমান হোসেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে খুন হয়েছেন। তাঁর এ খুনের ঘটনায় ডাক ও টেলিযোগযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এজাহারে নাম থাকলেই গ্রেফতার করা হবে না পুলিশ সুপার নরসিংদীর এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আসামিদের বিচার করার দায়িত্ব আদালতের। পুলিশ সুপারের এমন মন্তব্য মামলার তদন্তে ব্যঘাত ঘটতে পারে।