মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮
সৌমিত্র শর্মিলার অনবদ্য অভিনয়ে শ্রুতিনাটক লাইফ আনএন্ডিং
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রংময় এক জীবনের মানুষ ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর জীবনের পরতে পরতে রয়েছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। আর তাঁর সৃষ্টিকর্ম তো একইসঙ্গে অবিনাশী ও কালজয়ী। সর্ববিধ মানব অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে তাঁর সৃষ্টিকর্মে। আর রবীন্দ্রনাথের এই ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যকর্ম সৃষ্টির সমন্বিত গল্পের শ্রুতিনাটক লাইফ আন এন্ডিং। সোমবার হেমন্তের সন্ধ্যায় র্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে মঞ্চস্থ হয় এই শ্রুতিনাটকটি। কথা, ছবি ও সুরের যূথবদ্ধ প্রয়াসে নির্মিত এ নাটক মুগ্ধ করে দর্শকদের।
এ নাটকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও শর্মিলা ঠাকুরের অভিনয়। এতে তাঁদের অনবদ্য সংলাপ প্রৰেপণ ও অভিব্যক্তির অনন্য প্রকাশে ভিন্নমাত্রা সৃষ্টি হয় নাটকটিতে। রবীন্দ্রনাথের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আর রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের বিভিন্ন নারী চরিত্রে রূপ দিয়েছেন শর্মিলা ঠাকুর। এই দুই গুণী শিল্পীর সঙ্গে কলকাতার মঞ্চনাটক এবং বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা জগন্নাথ গুহের ইংরেজীতে ধারা বর্ণনা। অভিনয়ের সঙ্গে ছবির উপস্থাপনা এবং গান ও সুরে সুরে এগিয়ে চলে নাটকের কাহিনী। উঠে আসে ভারতবর্ষ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা, তাঁর প্রকৃতি প্রেমের কথা এবং কবির কিছু সাহিত্যকর্ম সৃষ্টির নেপথ্য ইতিহাস। বাংলা ও ইংরেজী ভাষার সমন্বিত উপস্থাপনা ছিল নাটকে। এ শ্রুতিনাটকের নাট্যরূপ এবং নির্দেশনা দিয়েছেন সৌমিত্র মিত্র। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আব্রাহাম মজুমদার। সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিল কলকাতা মিউজিক একাডেমির চেম্বার অর্কেস্ট্রা। বিশ্বকবির সার্ধশততম জন্মবর্ষ উপলক্ষে এই শ্রুতিনাটক প্রদর্শনী হয়। সিটি ব্যাংক লিমিটেডের সহযোগিতায় প্রদর্শনীর আয়োজন করে এঙ্ক্যালিবার এন্টারটেইনমেন্ট। আর পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল এয়ারটেল বাংলাদেশ।
আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা : ক্যামেরায় গণআন্দোলন' ॥ প্রেৰাপট ঊনসত্তরের গণঅভু্যত্থান। রাজপথে বিক্ষুব্ধ জনতার উত্তাল মিছিল। অজস্র মানুষের পদভারে প্রকম্পিত রাজপথ। দৃঢ় পদৰেপে মিছিল এগিয়ে চলছে সম্মুখ পানে। একেবারে সামনের সারিতে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে সেস্নাগান ধরেছে দুরন্ত এক কিশোর। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দী করতে ক্যামেরায় সাটার চাপলেন বরেণ্য আলোকচিত্রী রশীদ তালুকদার। দুর্লভ এই আলোকচিত্রটি আজ গর্বিত বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। এ আলোকচিত্রের গল্পটি এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হলো না। মিছিল চলাকালে হঠাৎ করে গর্জে উঠল রাইফেল। চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল পরিচয়হীন সেই দুরন্তত্ম বালক। এমন অসংখ্য আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত হয় এ জাতির স্বাধীনতা। যার শুরম্ন বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। বায়ান্ন থেকে একাত্তর পুরোটাই একটা ইতিহাস। এ জাতির অসম বীরত্বগাথা। আর এই ইতিহাসের অনন্য এক সাৰী আলোকচিত্রী রশীদ তালুকদার। তাঁর ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দী হয়েছে এমন অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা। যেখানে উদ্ভাসিত হয়েছে জাতির ইতিহাসের নানা অধ্যায়।
রশীদ তালুকদারের তোলা এমন অর্ধশতাধিক ছবি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শুরম্ন হলো আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা : ক্যামেরায় গণআন্দোলন'। সোমবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজনে আলোচনা করেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ড. শহীদুল আলম, শিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাদুঘরের ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরী।
রশীদ তালুকদার সম্পর্কে বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন বিশ্বমানের আলোকচিত্রী। তাঁর ছবিতে বক্তব্য আছে, শিল্পবোধ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা তিনি ইতিহাসের সাৰী। সাহসী এ মানুষটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। একাত্তরে বিশ্বমানের অনেক আলোকচিত্রী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেসময় তাঁরা অনেক ছবি তুলেছেন। তবে রশীদ তালুকদারের তোলা ছবির সঙ্গে কোথায় যেন একটা পার্থক্য রয়েছে। একদিকে মিছিল, অন্যদিকে তাক করা রাইফেল। এ দুয়ের মধ্যখানে ক্যামেরা হাতে সাহসী রশীদ তালুকদার। অথচ এমন একজন মানুষকে আমরা তাঁর যোগ্য সম্মান জানাতে পারিনি। এ ব্যর্থতা আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে। তবে এটাও ঠিক একজন শিল্পী বেঁচে থাকে তাঁর কাজের মধ্যে।
বক্তারা আরও বলেন, তিনি ফটোগ্রাফিতে তরম্নণদের প্রবলভাবে উৎসাহিত করতেন। তিনি নতুনদের তৈরি করতে নানাভাবে সহায়তা করতেন। কোথায় কমদামে ফ্লিম পাওয়া যাবে। কোথায় অল্প টাকায় ফ্লিম ডেভলপ করা যাবে এগুলো তিনি তাদের চিনিয়ে দিতেন। এমন সব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি তরম্নণদের সাহায্য করতেন।
প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আলোকচিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- রেললাইনে ব্যারিকেড, হরতালে রাসত্মায় ব্যারিকেড, বিধ্বসত্ম শহীদ মিনার তার সামনে গলাধরে দুই বালক, কাঁটাতারে বন্দী মানুষ, ১৯৬৮সালে ছায়ানটের বর্ষবরণ, শহীদ আসাদ, শহীদ মতিউর, সত্তরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়, কারামুক্ত মুজিব, বিশেষ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতারা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণসহ মিছিল মিটিংয়ের অনেক দুর্লভ আলোকচিত্র। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া এসব ছবি ঐতিহাসিক সেসব ঘটনার প্রামাণ্য দলিল। ছবির বিষয়বস্তু, আলো-আধারী আর রশীদ তালুকদারের ক্যারিশমা ছবিগুলোকে আরও অনন্য করে তুলেছে। এ যেন ক্যামেরার ফ্রেমবন্দী জাতির বীরত্বগাথার উপাখ্যান।