মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান সম্পর্কিত সাঈদীর আবেদন খারিজ
যুদ্ধাপরাধীর বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক নিজেকে কেন বিচারকাজ থেকে বিরত রাখেননি, তার ব্যাখ্যা চেয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর করা আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। সোমবার আদেশে ট্রাইবু্যনাল বলেছে, এ ধরনের আবেদন নজিরবিহীন, অবমাননাকর ও হাস্যকর। এর ফলে এখন আর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোন বাধা থাকল না।
আদেশে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের কোন সুনির্দিষ্ট বা ধারণাগত বা অন্য কোন ধরনের অভিযোগ আনা যায়নি। বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ওই ট্রাইবু্যনাল এ আদেশ দেন। আদেশের পর প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার ট্রাইব্যুনালে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মীমাংসা হলো। তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনতে হলে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পর কোন বিচারপতি পৰপাতিত্বমূলক আচরণ করেন না। জামায়াতের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, আমরা ন্যায় বিচার চাই। এর আগে ট্রাইব্যুনালে আমরা বিভিন্ন দেশের নজির তুলে দীর্ঘ শুনানি করেছি। আমরা শুধু ন্যায় বিচার চাই।
ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেছে, বাংলাদেশের আইনী প্রক্রিয়ার ইতিহাসে এ ধরনের আবেদন নজিরবিহীন, যেখানে একজন বিচারপতিকে তাঁর পদে থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বিষয়টি আদালতের জন্য অবমাননাকর। এরপর আদেশে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে বিচারকাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে করা আবেদনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। আদেশে আরও বলা হয়, ওই প্রতিবেদনের নিচে স্বাক্ষরের স্থানে শুধু ট্রাইবু্যনালের চেয়ারম্যানের নামটিই আছে। কিন্তু প্রতিবেদন তৈরি, বিশেস্নষণ, সম্পাদনা, মনত্মব্য প্রদান কিংবা কোন ধরনের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উলেস্নখ নেই। এ জন্য ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা অযৌক্তিক। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে গণ-তদনত্ম কমিশন যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল সেটি কোন গোপনীয় বিষয় নয়।
প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী যে আবেদন করেছে তা কাল্পনিক। যার কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এদিকে জামায়াতের আইনজীবী এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, আমরা এর আগে দীর্ঘ সাবমিশন করেছি। আমরা বিচার চাই। বিচার চাই। ন্যায় বিচার চাই।
ট্রাইবু্যনারের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের দায়িত্ব পালনের বৈধতা চেয়ে করা জামায়াত নেতা সাঈদীর আবেদন খারিজ হওয়ার পর তার দায়িত্ব পালনের ব্যাখ্যা চেয়ে এ আবেদনটি করা হয়। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবিতে দুই দশক আগে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে একটি তদনত্ম কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় নিজামুল হককে নিয়ে আপত্তি তোলে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাঈদী। আগের আবেদনে ট্রাইবু্যনাল বলে, কোন বিচারককে অব্যাহতি দেয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর তারিখ ঠিক রয়েছে।
সাকা।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধীর অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ট্রাইবু্যনাল এবং দুই বিচারপতির বৈধতা নিয়ে মামলা স্থগিতের আবেদনের ওপর শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে। সে জন্য সাকাকে আজ ট্রাইবু্যনালে হাজির করা হবে। এর আগের দিন ট্রাইবু্যনাল সাকার আইনজীবী ও তার পরিবারের সদস্যদের একটি তালিকা দেবার কথা বলেছিল। সাকার উপস্থিতিকে সামনে রেখে ট্রাইবু্যনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।