মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮
মিরপুরে গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত, আশুলিয়ায় ৩ খুন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর মিরপুরে ডাকাতির অভিযোগে জনতার গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। আশুলিয়ায় জোড়া খুনসহ তিনটি নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়কের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। একই সময় আরেক কিশোরের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই থানা এলাকায় আরেক যুবক আত্মহত্যা করেছে। গুলশানে নির্মাণাধীন ১২তলা ভবনের লিফটে এক শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সবুজবাগে সড়ক দুঘর্টনায় এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। মিরপুরে ৫তলা থেকে পড়ে এক বৃদ্ধা মারা গেছে। এদিকে রাজারবাগে পুলিশ লাইনের গেটের সামনে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় মিরপুরের সেনপাড়ার আস্থা ভবনের তৃতীয় তলার হোমল্যান্ড এজেন্সির অফিসে তিন ডাকাত অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে মালামাল লুট করে। এ সময় ওই অফিসের কর্মকর্তা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে জনতা ডাকাতদের ধাওয়া করে। এ সময় স্থানীয়রা এক ডাকাতকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ জনতার কবল থেকে মোঃ শাহাবুদ্দিন (২৫) নামে ওই ডাকাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা ৬টায় শাহাবুদ্দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অন্য ডাকাতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহত শাহাবুদ্দিনের গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জে। সে মিরপুরের পল্লবী এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে সোমবার ভোরে পুলিশ আশুলিয়া থানাধীন ঘৌশবাগ এলাকার বাইপাইল নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়কের রাস্তার পাশে এপিসি এর পূর্বপাশে অজ্ঞাত (৩৫) এক যুবকের গুলিবিদ্ধ হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে। এর অদূরে একই রাসত্মার ডিএটিপি গেটের পশ্চিমপাশে অজ্ঞাত (৩০) আরেক যুবকের গুলিবিদ্ধ হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ তাদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদনত্মের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, দুই জনের লাশের কপালে ও মাথার পেছনের ও চোখের ওপর গুলির ছিদ্র চিহ্ন রয়েছে। দুটি লাশই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল। হত্যাকারী রাতে যে কোন সময় ওই দুই যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তাদের লাশ হাত-পা বেঁধে মহাসড়কের রাসত্মার দুই পাশে ফেলে গেছে। কারণ গুলির নিশানা দেখে বুঝা যাচ্ছে হত্যাকারীরা পেশাদার। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার এসআই জাহিদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে অন্য কোথাও হত্যার পর গাড়ি থেকে লাশ দুটি এই মহাসড়কে ফেলে গেছে। তাছাড়া দুজনই একে অপরের পরিচিত হতে পারেন। নিহতের এক জনের পরনে নীলচেক লুঙ্গি ও সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি এবং অন্যজনের সাদা চেক লুঙ্গি ও স্যান্ডো গেঞ্জি ছিল। এদিকে একই সময়ে পুুলিশ আশুলিয়া থানাধীন দিয়াবাড়ি সিন্দুরিয়ার কাঁচা বাজার এলাকার সাহেব আলীর অনাবাদি জমির ওপর থেকে মসত্মকবিহীন অজ্ঞাত (১৮) এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদনত্মের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, কে বা কারা অজ্ঞাত ওই কিশোরকে জবাই করে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে তার মাথাবিহীন লাশ এখানে ফেলে যায়। তবে কিশোরের মাথা এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরনে চেক শার্ট, কালো প্যান্ট ছিল। অন্যদিকে একইদিন দুপুরে পুলিশ আশুলিয়া থানাধীন পলাশবাড়ী এলাকার আব্দুল কাদেরের ভাড়াটিয়া বাড়ির এক কৰ থেকে আরিফ হোসেন (২২) নামে এক যুবকের ঝুলনত্ম লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, ৭/৮ মাস যাবত সেই ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। সে কি কাজ করত, তা কেউ বলতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক অথবা প্রেমঘটিত কারণে আরিফ অভিমান করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতের পিতার নাম কছিম উদ্দিন তালুকদার। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার হোসেনপুর গ্রামে।
তিন লাশ উদ্ধার এদিকে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টায় মিরপুর থানাধীন পূর্ব মণিপুরী পাড়ায় কমলা হালদার (৮২) নামে এক বৃদ্ধ পঞ্চম তলা থেকে নিচে পড়ে গুরম্নতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টায় তার মৃতু্য হয়। একই দিন দুপুর পৌনে ১২টায় পুলিশ গুলশান ১ নম্বরের ৭ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর হাউজের ইন্সু্যরেন্স ডেভেলপমেন্টের সাভেলা গার্ডেন নামে নির্মিত ১২তলা ভবনের লিফট থেকে লুৎফর রহমান (৩৫) নামে এক শ্রমিকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। ওই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কতর্ৃপৰ সিদ্দিক রোজারিও পুুলিশকে জানায়, রবিবার রাত ১২টায় শ্রমিক লুৎফর টিভি দেখতে আসে। এত রাতে কি শ্রমিক লুৎফরকে জিজ্ঞেস করলে সে কাজ আছে বলে জানায়। এ সময় নিরাপত্তারৰী মজনু মিয়া তাকে ঘুমাতে যেতে বলে। পরের দিন সোমবার সকালে তার লাশ লিফটে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। তবে পুলিশ জানায়, শ্রমিক লুৎফরের মৃতু্য ঘটনাটি যথেষ্ট সন্দেহ থাকায় তার লাশের ময়নাতদনত্মের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদনত্ম চলছে। নিহতের পিতার নাম মৃত গোলাম হোসেন। গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের হরিনাথপুর দিপুলবাড়িতে। অন্যদিকে এদিন ভোরে সবুজবাগ থানাধীন বৌদ্ধমন্দিরের সামনে মহাসড়কের রাসত্মা পার হচ্ছিলেন অজ্ঞাত (৩৫) এক পথচারী। এ সময় দ্রম্নতগামী একটি বাস ওই পথচারীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃতু্য ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। নিহতের পরনে সাদা-কালো চেক ফুলহাতা শার্ট ও কমলা রঙের শর্ট প্যান্ট ছিল।
ছিনতাইয়ের শিকার পুলিশ সদস্য ॥ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় পল্টনথানাধীন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ৩ নম্বর গেটের সামনের রাস্তায় পুলিশ কনস্টেবল মোঃ মোতালেব হোসেন (৩০) বাসের জন্য অপেৰা করছিলেন। মোতালেব জাতিসংঘ মিশনে সুদানে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য পুলিশ লাইন থেকে বের হয়ে হেঁটে সেখানে যান। এ সময় একটি ট্যাক্সি ক্যাব যোগে ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তাকে গতিরোধ করে।
পরে ছিনতাইকারীরা কনস্টেবল মোতালেবের মাথায় ও ডান হাতে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় ট্যাক্সিযাগে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।