মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮
গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় নতুন সংগঠন সিডিএইচআর
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আহ্বায়ক, মাহমুদুর রহমান মান্না সদস্য সচিব
স্টাফ রিপোর্টার ॥ 'সিটিজেনস ফর ডেমোক্র্যাসি এ্যান্ড হিউম্যান রাইটস' (সিডিএইচআর) নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে সোমবার। সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক আহ্বায়ক এবং সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এ সংগঠনের সদস্য সচিব মনোনীত হয়েছেন। সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলৰে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রৰা এবং তাকে সংহত ও বিকশিত করার লৰ্যে সিডিএইচআর গঠন করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন বলেও জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়াও ২০ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয় । কমিটির সদস্যরা হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ড কালীন শিৰক ড. দিলারা চৌধুরী, কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰক ড. পিয়াস করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, পাহাড়ী পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰক অধ্যাপক শরীফুল্লাহ ভূইয়া, অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, স্থপতি মোবাশ্বের হাসান, সমকাল পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য পদত্যাগকারী আহ্বায়ক এসএম আকরাম, সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার, কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু, চৰু চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতি কর্মী আশফাহ হক লোপা, সাংবাদিক মাহবুব কামাল, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর।
সংবাদ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, 'গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য নাগরিক আন্দোলন' আজ আত্মপ্রকাশ করছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রৰা ও বিকাশের তাগিদ থেকে। যে স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আশাবাদ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, তার পুনরম্নচ্চারণ ও বাসত্মবায়নে সংগঠিত নাগরিক উদ্যোগের গুরম্নত্ব বিবেচনা করে দেশের বর্তমান প্রেৰাপটে এ আত্মপ্রকাশ জরম্নরী হয়ে পড়েছে। মান্না আরও বলেন, আমরা মনে করি, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সাংবিধানিক যাত্রা শুরম্ন হয়েছিল গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সাম্য ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লৰ্য থেকে। সে যাত্রায় বাংলাদেশ যা কিছু অর্জন করেছে, তার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ছিল প্রধান। অন্যদিকে এ দেশে যখনই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে বা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে ব্যর্থ হয়েছে, তখন তার সুযোগে নানা ধরনের অগণতান্ত্রিক শক্তি ৰমতা দখল করেছে, দেশে ঘটেছে নানা ধরনের বিপর্যয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সার্বিক বিবেচনায় আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের আগামী দিনের অগ্রযাত্রার জন্য সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু সেই নেতৃত্বকে হতে হবে আরও অনেক উদার, দায়িত্বশীল এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন। আমরা মনে করি যে, বিকাশমান গণতান্ত্রিক একটি দেশ হিসেবে এ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরাজমান দুর্বলতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজকেও তার দায়িত্ব জোরালো ও নির্মোহভাবে পালন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, শাসকশ্রেণীকে নিঃশঙ্কচিত্তে তার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কর্তব্য ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেয়া, এ লৰ্যে সংগঠিত চাপ সৃষ্টি করা ও তা অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা নাগরিক সমাজের গুরম্নত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। মান্না বলেন, অতীতে নাগরিক সমাজ বিভিন্নভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছে। তবে বর্তমান বৈরী বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও বিশেষ করে দেশীয় পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আরও বেশি সংগঠিত, সুনির্দিষ্ট এবং অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন অনিবার্য হয়ে পড়েছে বলে আমরা মনে করি। নাগরিকদের এ ভূমিকা পালন করতে হবে সম্পূর্ণ দলনিরপেৰভাবে, দলীয় সঙ্কীর্ণ স্বার্থের উর্ধে উঠে, নিখাদ দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনা থেকে এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে। 'নাগরিক আন্দোলন'-এর আত্মপ্রকাশ এ উপলব্ধি থেকেই।
লিখিত বক্তব্যে মান্না আরও বলেন, 'নাগরিক আন্দোলন' মনে করে, গণতন্ত্র ও সুশাসনের বর্তমান অধিকাংশ সমস্যাকে রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সাংবিধানিক চুক্তির ভিত্তিতে বিশেস্নষণ করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের পৰ থেকে এ চুক্তি পালন করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু অতীতের বিভিন্ন সরকারের মতো বর্তমান সরকারও সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। সরকার যেভাবে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিৰা ও স্বাস্থ্যসেবা_ নাগরিকদের এ পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, যেভাবে নাগরিকদের জীবন ও জীবিকার অধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে এবং তাদের মৌলিক মানবাধিকারগুলো অবজ্ঞা করে চলেছে, তার বিরম্নদ্ধে সম্মিলিত, সংগঠিত ও সক্রিয় প্রতিবাদ আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শিল্প-বিনিয়োগ- কর্মসংস্থান খাতে ব্যর্থতা, আইনবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন, গুম খুন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি, শাসক দলের জন্য একতরফা দায়মুক্তি, ভিন্ন মতকে রম্নদ্ধকরণ, জ্বালানি সঙ্কট, নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে নিদারম্নণ ঔদাস্য, সরকার কর্তৃক অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আর এসব উপদ্রব প্রতিরোধ করার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে 'বিরোধী দল'ও ব্যর্থ হয়ে চলেছে বলে আমরা মনে করি।
মান্না বলেন, দেশের এমন এক পরিস্থিতিতে আরও বেশি করে জনগণের কথা বলতে হবে, জনগণকে বহু কিছু জানাতে হবে এবং রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে জনগণের চিনত্মাচেতনা ও প্রত্যাশার নৈকট্য সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে। 'নাগরিক আন্দোলন' সংশিস্নষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ করে সেই লৰ্যে কাজ করে যাবে। একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, জনকল্যাণমূলক ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লৰ্যে গবেষণা, গোলটেবিল, সেমিনার, বিবৃতির পাশাপাশি প্রয়োজনে গণশুনানি, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দলনিরপেৰভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মান্না 'নাগরিক আন্দোলন'-এর প্রতিষ্ঠালগ্নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই তা তো নয়। গণতন্ত্র আছে বলেই তো আমরা কথা বলতে পারছি। আমাদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্র বিকশিত করা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার। তবে তা আগের রূপরেখায় হবে না, নতুন রূপরেখা তৈরি করা হবে। সবাই মিলে আলোচনা করে তা ঠিক করতে হবে। এ সময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে উচ্চ আদালতের দেয়া রায় এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে না লিখে তা ঝুলিয়ে রাখায় বিচারকদের সমালোচনা করেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে (ডিসিসি) প্রশাসনিকভাবে বিভক্তির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রফিক-উল-হক বলেন, আগে ভাগাভাগি হোক তো। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা উচিত হয়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে রফিক-উল-হক বলেন, বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিরোধী দলের সংসদে যাওয়া উচিত বলেও আমরা মনে করি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যারিস্টার রফিক-উল-হককে সহায়তা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্না, সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড দিলারা চৌধুরী, শাহদীন মালিক, আসিফ নজরুল ও নূরুল কবীর।