মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
ডারবান শীর্ষে বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের অন্য দেশে বসতি গড়ার সুযোগ দাবি করবে বাংলাদেশ
জলবায়ু ঝুঁকি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ডারবান সম্মেলনে বাংলাদেশ জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর বাস্তুচু্যত শরণার্থীদের অন্য দেশে বসতি স্থাপনের সুযোগ প্রদানের জোরালো দাবি জানাবে। মূলত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পৰ থেকেই বাংলাদেশ এ দাবি তুলবে। যাতে সম্মেলনের মূল সিদ্ধান্তে তা স্থান পায়।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বৈঠকের ওপর এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডারবানে জলবায়ু সম্মেলন সামনে রেখে সিভিএফ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্য জলবায়ু দর কষাকষিতে নতুন মাত্রা যোগাবে। উন্নত দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হবে কার্বন সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার। গত ১৪ নবেম্বর ঢাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের তৃতীয় মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এ বৈঠকের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিম-লে সম্মেলনের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ধরনের ফোরামে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপস্থিতি বিরল দৃষ্টান্ত। আর এটা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের বলিষ্ঠ কূটনৈতিক তৎপরতায়। কারণ জাতিসংঘ মহাসচিব তাঁর কার্যসূচী পরিবর্তন করে এ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর এ উপস্থিতি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর দাবির প্রতি জাতিসংঘের একটি প্রচ্ছন্ন সমর্থনই যুগিয়েছে। সম্মেলনে তিনি নিজে শুধু উপস্থিতই থাকেননি, আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। রাজনীতিক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের তৃতীয় বৈঠকে বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কণ্ঠ সমস্ব্বরে উচ্চারিত হয়েছে। আর এ ফোরামে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপস্থিতি বাংলাদেশের সম্মানকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এ সফল আয়োজনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। উলেস্নখ্য, বাংলাদেশ ফোরামের পরবর্তী সভাপতি দেশ মনোনীত হয়েছে। ফোরামের পরবর্তী বৈঠক বসবে কোস্টারিকায়।
ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ একটি উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। তারা মনে করছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের দিকে না তাকিয়ে যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করছে তা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য রোল মডেল হতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের কণ্ঠেও এ বিষয়টি উচ্চারিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কাছে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক উন্নতি লাভ করেছে। যার প্রমাণ হিসেবে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে ২০০৭ সালে ক্ষতি হয়েছে অনেক কম। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে যেখানে চার লাখ মানুষ মারা যায়, সেখানে ২০০৭-এর ঘূর্ণিঝড়ে তা চার হাজারে নেমে আসে।
'ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের' তৃতীয় বৈঠক শেষ হয়েছে ১৪ দফা ঢাকা ঘোষণার মধ্যদিয়ে। এবারের 'ঢাকা ঘোষণায়' বাংলাদেশের মতামতগুলোই বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ডারবান সম্মেলনের আগে একমঞ্চে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়, সিদ্ধানত্ম হয়েছে ডারবান সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো অভিন্ন অবস্থান নেবে এবং ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখবে। যাতে উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং প্রতিশ্রম্নত অর্থ ছাড়ে জোরালো ভূমিকা রাখা যায়।
এই ঢাকা ঘোষণা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষ থেকে ডারবান সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। যেখানে দাবি করা হবে- জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোর জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে দেয়া দীর্ঘ মেয়াদী অঙ্গীকার দ্রম্নত বাসত্মবায়ন করতে হবে। দাবিও করা হবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষমতা তৈরি করতে ক্ষতিগ্রসত্ম দেশগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দের ও প্রযুক্তি সরবরাহের। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত অনুদান বাড়ানোর দাবির পাশাপাশি এই গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডকে শীঘ্রই কার্যকর করার। সেই সঙ্গে গ্রীন ক্লাইমেট তহবিলের অর্থ জলবায়ুর ক্ষতি প্রশমনে ও অভিযোজনে ভারসাম্যপূর্ণ বরাদ্দেরও দাবি জানানো হবে।