মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
প্রধানমন্ত্রী টিপাইমুখ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন
ড্যাবের আলোচনায় মির্জা ফখরুল
স্টাফ রিপোর্টার ॥ 'টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে' সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই বক্তব্য মিথ্যাচার বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথা বলতে ভালবাসেন কিন্তু যখন বলেন তখন সত্য না মিথ্যা বলেন তা নিজেই বুঝেন না। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডা. মিলনের ২১ তম মৃতু্যবার্ষিকী উপলৰে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত 'অবরম্নদ্ধ গণতন্ত্র ও বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, তিন বছর ক্ষমতায় আছেন টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধে কোন কথা বলেননি। টিপাইমুখ বাঁধে আপত্তি জানিয়ে চারদলীয় জোট সরকারের আমলেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তাই সংসদে দেয়া আপনার বক্তব্য সত্য নয়। এটা মিথ্যাচার। এই মিথ্যাচার করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। কারণ জনগণ জানে কারা দেশের স্বার্থের জন্য কাজ করেছে আর কারা স্বার্থ বিকিয়ে দেয়। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলব, দয়া করে আপনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের রেকর্ড দেখুন। সেখানে আছে, খালেদা জিয়া ওই সময়ে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়ে তিন বার চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি আমলের পানিসম্পদমন্ত্রী হাফিজউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের আপত্তির কথা বেশ কয়েকবার ভারতের কাছে তুলে ধরেছিলেন। তখন যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকেও আপত্তি জানানো হয়েছিল, বলা হয়েছিল যৌথ জরিপের কথা।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই তিন বছরে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি পাঠানোর প্রস্তাব করেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এতে সাড়া দেননি।
ফখরুল বলেন, বিএনপিকে আন্দোলন থেকে দূরে সরাতে এখন একের পর এক স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়া হচ্ছে। আমরা সরকারকে স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, বিতর্কিত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালুসহ যত কলাকৌশলই গ্রহণ করম্নন না কেন- বিএনপিকে আন্দোলন থেকে দূরে সরানো যাবে না। আপনাদের আর সময় নেই। সময় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে মেরম্নদ-হীন প্রতিষ্ঠান বলেও আখ্যায়িত করে ফখরম্নল বলেন, সরকারকে তুষ্ট করতে তারা নীলনকশায় কাজ করছে।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশকে দুই ভাগ করার কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আইন সংশোধন করে সরকার যতদিন নির্বাচন না হয়, ততদিন প্রশাসক নিয়োগের বিধান সংযোজন করছে। অথচ সুপ্রীম কোর্টের আদেশ আছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হসত্মানত্মর করবেন।
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউলস্নাহ আমান, আনত্মর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলম, শিৰাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, অধ্যাপক ডা. আবদুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক আবদুস সালাম, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।