মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১১, ৯ অগ্রহায়ন ১৪১৮
নামধারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় জাবিতে জনকণ্ঠ সাংবাদিক গুরুতর জখম
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ খেলার মাঠ থেকে বল কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদ করায় জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিবেদক আহমেদ রিয়াদকে পিটিয়ে জখম করেছে নামধারী ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের একটি দোকানে ক্যাডাররা রিয়াদকে পিটিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় রেখে চলে যায়। গুরুতর আহত রিয়াদ বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও দৈনিক জনকণ্ঠের জাবি সংবাদদাতা আহমেদ রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলার অনুশীলন করছিলেন। একই মাঠে ছাত্রলীগের ক্যাডার সজীব কয়েকজনকে নিয়ে ফুটবল খেলার অনুশীলন করছিলেন। কোন ধরনের ঘটনা ছাড়াই এক সময় সজীব ক্রিকেট বলটি এসে নিয়ে যান। প্রথমে বলটি ফেরত চাইলে সজীব দিতে অস্বীকৃতি জানান। কেন বলটি নেয়া হয়েছে আর কেনই বা দেয়া হবে না এমন প্রশ্ন করলে রিয়াদের সঙ্গে সজীবের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সজীব হলে চলে যান। সেখান থেকে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জনকে নিয়ে আসে মাঠে। তখন সজীবের সঙ্গে থাকা একজন সিনিয়র ছাত্রলীগের ক্যাডার রিয়াদকে বলেন সজীবের কাছে মাফ চাইতে হবে। কিন্তু সজীব রিয়াদের জুনিয়র হওয়ায় এবং কোন ধরনের অপরাধ না করায় রিয়াদ ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। তখন মাঠের উত্তর দিক থেকে আরও ১০-১৫ জন ঢুকে রিয়াদকে ধাওয়া করে। পরে মাঠের মধ্যে উপস্থিত ছাত্রলীগের সবাই মিলে রিয়াদকে ধাওয়া করেন। নামধারী সন্ত্রাসী পারভেজ, সজীব, সোহেল, শামীম, রোজেন (ছাত্রদল), পিয়াসের নেতৃত্বে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের একটি দোকানের ভেতর হকিস্টিক, রড, ক্রিকেটের স্ট্যাম্প ও ব্যাট দিয়ে রিয়াদের মাথায়, হাতে, পিঠে, পায়ে, বুকে উপর্যুপরি পিটায়। পিটানোর এক পর্যায়ে রিয়াদ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে রিয়াদের বন্ধুরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা দোকান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ সেন্টারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর রিয়াদের জ্ঞান ফিরে। পরে রিয়াদকে সাভারের এনাম মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার বাঁ হাতে এঙ্রে করা হয়েছে। মাথায় সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেছেন, রিয়াদ আশঙ্কামুক্ত। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
গুরম্নতর আহত রিয়াদকে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরজু মিয়া এনাম মেডিক্যাল সেন্টারে যান। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রক্টর আশ্বসত্ম করে বলেন, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মি দেয়া হবে। যেন ভবিষ্যতে এ রকম বর্বর ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার জায়গায় ঘটতে না পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিনাজপুর থাকায় আজই (মঙ্গলবার) কোন সিদানত্ম নেয়া যায়নি বলে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ জনকণ্ঠকে বলেন, জাহাঙ্গীরনগরে আমাদের ছাত্রলীগের কোন কর্মকা- নেই। যারা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের বিরম্নদ্ধে দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মির আহ্বান জানাই। জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে তারা সন্ত্রাসী করে। এই ঘটনাও তাদেরই অংশ। তারা ফোন করলেও আমরা তাদের ফোন ধরি না।