মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১১, ৯ অগ্রহায়ন ১৪১৮
জটিল রোগে আক্রান্ত সাংবাদিক সংস্কৃতি কর্মী দীপংকর ॥ অর্থাভাবে চিকিৎসায় অনিশ্চয়তা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও গবেষক দীপংকর গৌতম গুরুতর অসুস্থ। গত অক্টোবর মাসে তিনি জটিল ব্যাধি ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত হন। পা অসম্ভব ফুলে যাওয়ায় হাঁটতে পারছেন না তিনি। এক সময় সারাদেশ চষে বেড়ানো উদ্যমী এ মানুষটি এখন বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। খরচ বহন করতে না পারায় হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় চলে আসতে হয়েছে তাঁকে। টাকার অভাবে চিকিৎসা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ দীপংকর গৌতম। বহু বছর ধরে এ দুই অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত তিনি। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন। আদিবাসী মানুষের গণসংগ্রামের ইতিহাস, নিম্নবর্ণের মানুষের ভাষা ও ইতিহাস, হিজরা সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা নিয়ে একাধিক মৌলিক গবেষণা গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উদীচী, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদসহ জাতীয় ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের নানামুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাব এডিটরস কাউন্সিলেরও সক্রিয় সদস্য।
কিন্তু বহু প্রতিভার অধিকারী মানুষটি এখন যেন অসহায়। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে হঠাৎ করে পা ফুলে যায় তাঁর। অক্টোবর মাসের শুরম্নর দিকে রাজধানীর পান্থপথের হেলথ এ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানকার চিকিৎসকরা নানা পরীৰার পর জানান, রোগটি ফাইলেরিয়া। তখন থেকেই শুরম্ন হয় চিকিৎসা। বর্তমানে তাঁকে অনেক উচ্চমূল্যের ওষুধ গ্রহণ করতে হচ্ছে। পা ড্রেসিং ও ওষুধে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৫শ' টাকা। এভাবে এক বছর চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎকরা। কিন্তু পরিবারের পৰে এ খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এদিকে সঠিক চিকিৎসা না হলে কিডনি বিকল হয়ে পড়বে। আর তা হলে মৃতু্য অনিবার্য বলে সতর্ক করে দিয়েছেন চিকিৎক। এ অবস্থায় কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না দীপংকর। বিছানায় শুয়ে শুয়ে জণকণ্ঠকে তিনি বলেন, এখন কোন কাজ করতে পারি না। ধার-দেনা অনেক হয়ে গেছে। এর পরও অনুবাদের কাজ করে কোন রকমে চলছি। অর্থের অভাবে আমার মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পথে। পরিবারের ভরণ-পোষণ করে নিজের চিকিৎসা চালানোও আর হয়তো সম্ভব হবে না। তিনি দুঃখ করে বলেন, বহু মানুষের বিপদের দিনে আমি ছুটে গেছি। আজ যখন আমি অসুস্থ তখন অনেক ঘনিষ্ঠজনরাও একবার দেখতে পর্যনত্ম আসেননি। অথচ সকলে এগিয়ে এলে খুব সহজেই চিকিৎসাটি সম্পন্ন হতে পারে। সেরে উঠতে পারেন তিনি। প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা মানুষটি নিজেও চান সকলের মাঝে আগের মতো ফিরে আসতে। তাঁর এ স্বপ্ন কি পূরণ হবে না?