মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১১, ৯ অগ্রহায়ন ১৪১৮
বঙ্গবন্ধুর পাশ থেকে নামিয়ে ফেলা হলো জিয়ার ছবি
সুপ্রীমকোর্ট বার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশে জিয়াউর রহমানের ছবি টাঙানো হলেও তা আধা ঘণ্টা পরে আবার নামিয়ে ফেলা হয়েছে। বিৰুব্ধ আইনজীবীরা বঙ্গবন্ধুর পাশে জিয়াউর রহমানের ছবি নামিয়ে ফেলেন। ঘটনাটির নিন্দা জানান সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহাবুব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বারের রেজু্যলেশন অনুযায়ী জিয়ার ছবি তোলা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা পারলে আরেকটি রেজু্যলেশনে ছবিটি নামিয়ে ফেলুক। আওয়ামী লীগ সর্মথিত আইনজীবীরা বলেছেন, কোন অবস্থাতেই জিয়াউর রহমানের ছবি বঙ্গবন্ধুর পাশে রাখা যাবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, শ.ম রেজাউল করিমসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীদের উদ্দেশে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর মর্যাদাহানি হয় এমন কিছু করবে না সুপ্রীমকোর্ট বার। আমরা বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা রৰা করে তার ছবির পাশে কারো ছবি টানাবো না। কোনভাবেই বঙ্গবন্ধুর ছবির মর্যাদাহানি করা হবে না।
আওয়ামী সমর্থিত সিনিয়র আইনজীবীরা আসার আগেই বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা জিয়াউর রহমানের ছবি নামিয়ে ফেলে। এরপর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরম্নসহ অন্যরা সুপ্রীমকোর্ট বার সভাপতির কৰের সামনে আসেন। ওই সময় সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন এসে বলেন, আসেন আমরা ভেতরে (সভাপতির কৰে) যাই। তখন মাহবুবে আলম বলেন, আপনার ঐ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে যাব না। এ সময় খন্দকার মাহবুব বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে কারও ছবি টানানো হবে না।
তখন আব্দুল মতিন খসরম্ন 'ইউ আর গ্রেট প্রেসিডেন্ট' বলে খন্দকার মাহবুবকে ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, সভাপতিকে ধন্যবাদ, বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে অন্য কোন ছবি না টানানো হলে আমাদের আপত্তি নেই। পরে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বার সভাপতিকে বলেন, জাতীয় নেতাদের ছবি তুলতে হলে তাজউদ্দীন আহমদসহ আরও কয়েক জাতীয় নেতার ছবি রাখতে হবে। জবাবে মাহবুব হোসেন বলেন, আপনারা ছবি তৈরি করেন। বারে প্রসত্মাব দেন আমরা সব জাতীয় নেতাদের ছবি তুলব।
১৭ নবেম্বর সুপ্রীমকোর্ট বারের সাধারণ সভায় সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষে ভাসানী, ওসমানী ও জিয়ার ছবি টানানোর এই সিদ্ধানত্ম হয়। আওয়ামীপন্থী আইনজীবী এবং এ্যাটর্নি জেনারেল এরপর থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।