মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১১, ৯ অগ্রহায়ন ১৪১৮
উৎসব আমেজে ঋষিজের ৩৫ বছর পূর্তি উদ্যাপন
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত গণসঙ্গীত সংগঠন ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী। নানা সময় স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে গানে গানে প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। গণসঙ্গীতের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা। কালের প্রবাহে ১৯৭৬ সালের ২২ নবেম্বর গড়ে ওঠা সংগঠনটি পাড়ি দিল ৩৫ বছর। পঁয়ত্রিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 'মানুষের হাতে রাখো হাত/চোখে চোখ অনেক নতুন বন্ধু হোক' সেস্নাগানে গান, আবৃত্তি, নাচ ও কথায় উৎসবমুখরতায় উদ্যাপিত হয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও বরেণ্য সঙ্গীতজ্ঞ অজিত রায়কে।
সম্মেলক কণ্ঠে 'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে' এবং 'ও আমার দেশের মাটি তোমার' পরে ঠেকাই মাথা' পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। গান দুটি পরিবেশন করে অভু্যদয় সংগঠনের শিল্পীরা। এরপর এ বছর প্রয়াত শিল্প-সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ১৯৮৩ সাল থেকে জাতীয় ৰেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর গুণীজন সংবর্ধনা দিচ্ছে ঋষিজ। এ বছরের ঋষিজ পদক দেয়া হয় শিৰাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. জিলস্নুর রহমান সিদ্দিকীকে। তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন। এছাড়াও ড. জিলস্নুর রহমান সিদ্দিকীর হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মাননার অর্থমূল্য ও সনদপত্র। পরিয়ে দেয়া হয় উত্তরীয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। আরও অংশ নেয় ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, ক্রানত্মি শিল্পীগোষ্ঠী, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও সুর বিহার। তারা গেয়ে শোনায় 'আকাশ ভরা সূর্য তারা', 'মানুষের মাঝে বসবাস করে', 'ভয় কি মরণে রাখিতে সনত্মান', 'আমরা মানুষের জয়গান গাই', 'আমরা মিলেছি আজকে/কোটি কোটি হাতে হাত মেলাবো', 'নতুন দিনে নতুন করে ডাক দিয়েছে' ও 'লৰ লৰ প্রাণের বিনিময়ে পেলাম স্বাধীনতা'। একক কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর, এনায়েত এ মওলা, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বিজন মিস্ত্রি, অনিমা রায় প্রমুখ। আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশ নেন হাসান আরিফ, লায়লা আফরোজ ও রফিকুল ইসলাম। নৃত্য পরিবেশন করেন ওপার বাংলার কলা ভারতী নৃত্যদলের সদস্য শানত্মনু সরকার। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ঝর্ণা আলমগীর।
কাল থেকে শিল্পকলায় পাঁচ দিনব্যাপী কারম্নমেলা ॥ বৃহস্পতিবার থেকে শিল্পকলা একাডেমীতে শুরম্ন হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী কারুমেলা। একই সঙ্গে ওইদিন প্রদান করা হবে শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার। জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। এতে অর্ধশতাধিক কারুশিল্পী তাঁদের শিল্পকর্ম প্রদর্শন করবেন। মেলার উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও আইটিআই প্রেসিডেন্ট রামেন্দু মজুমদার।
মঙ্গলবার দুপুরে বেঙ্গল কাফেতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কারম্নশিল্প পরিষদের সভাপতি মুনীরা এমদাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পী চন্দ্রশেখর সাহা ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছর থেকে শুরম্ন হওয়া এ আয়োজনে এবারে চার কারম্নশিল্পীকে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। তাঁরা হলেন_ নারায়ণগঞ্জের মুহম্মদ আবু তাহের, বান্দরবানের হায় না খুমি, মৌলভীবাজারের লেহাও বিবি ও কুড়িগ্রামের মুহাম্মদ আবদুর রহমান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়া আরও নয়জন কারম্নশিল্পীকে প্রশংসাপত্র দেয়া হবে।