মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১১, ৯ অগ্রহায়ন ১৪১৮
লোকমান হত্যা ॥ চার আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ওয়ারেন্ট জারি
পলাতক ও সন্দেহভাজন আসামিদের বিষয়ে বিমানবন্দর, সীমান্ত পয়েন্টে কড়া সতর্কতা ॥ টিপ্পন ফের ৪ দিনের রিমান্ডে
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে লোকমান হত্যায় জড়িতদের মধ্যে পলাতক এবং সন্দেহভাজন আসামিদের বিষয়ে দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত পয়েন্টে ছবিসহ তারবার্তা পাঠানো হয়েছে। তাদের বিদেশ যাতায়াতের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। লোকমান হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতারের বিষয়টি মামলার এজাহারে কারও নাম থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করছে না। এদিকে গ্রেফতারকৃত মাসুদুর রহমান পঙ্কা ওরফে টিপ্পনকে ফের ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। লোকমানের পরিবারের তরফ থেকে মামলার তদনত্মে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন রাজু প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নরসিংদীর পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী সংস্থা এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, লোকমান হত্যা মামলায় নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যৰ আব্দুর রহমানের ছেলে কবির সরকার, নরসিংদী সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন মোবা ও শিল্পপতি তারেক আহমেদকে গ্রেফতার করতে ইন্টারপোলে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে দুইজন বর্তমানে মালয়েশিয়া, একজন দুবাই এবং বাকি একজন সৌদি আরবে আছেন। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের অবস্থানের ওপর নজরদারি চলছে। প্রয়োজনে তাদের দেশে ফেরত আনার সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনে দ্রুততার সঙ্গে আসামিদের দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন জনকণ্ঠকে জানান, আসামিদের গ্রেফতারে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ৭ আসামি মেয়র লোকমান হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাদের কাছ থেকে গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্যউপাত্ত পাওয়া গেছে। এজাহারকে সামনে রেখে তদনত্ম এগিয়ে চলছে। এজাহারে নাম না থাকলেও হত্যাকা-ে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদেরই গ্রেফতার করা হবে। অন্যথায় কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। আসামি গ্রেফতারের বিষয়টি কারও নাম এজাহারে থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করছে না। বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার জনকণ্ঠকে বলেন, আসামি গ্রেফতারের ৰেত্রে পুলিশের তরফ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কতজনের বিরম্নদ্ধে বা কার কার বিরম্নদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে সে সমর্্পকে তিনি সুস্পষ্টভাবে কিছুই বলেননি।
নরসিংদী থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, মেয়র লোকমান হত্যা মামলার তদনত্মকারী কর্মকর্তা নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মামুনুর রশীদ ম-ল মঙ্গলবার বিকেলে লোকমান হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত টিপ্পনকে ৮ দিনের রিমান্ড শেষে নরসিংদী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিতাই চন্দ্র সাহার আদালতে হাজির করেন। তদনত্মকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানান, টিপ্পনের কাছ থেকে গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। লোকমান হত্যাকা-ে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে টিপ্পনকে আরও ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতে টিপ্পনের আইনজীবী এমএ আওয়াল আদালতের কাছে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল লোকমান হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি নয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে হয়রানি করছে পুলিশ। তিনি তার জামিনের আবেদন জানান। আদালত দু'পক্ষের শুনানি শেষে টিপ্পনকে ফের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উলেস্নখ্য, গত ১৩ নবেম্বর গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুর থেকে পুলিশ টিপ্পনকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে ৮ দিনের রিমান্ডে নেয়।
এদিকে লোকমানের স্ত্রী নুসরাত জাহান বুবলী অভিযোগ করেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন রাজুকে ক্ষমতায় রেখে লোকমান হত্যা মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না। মামলার বাদী লোকমানের ভাই কামরুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত তদন্ত নিয়ে তাদের কোন অভিযোগ নেই। তবে মন্ত্রী তদন্তে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে মামলার বাদীর অভিযোগ।
লোকমানের স্ত্রী ও মামলার বাদীর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নরসিংদী ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মামুনুর রশীদ ম-ল।
অপরদিকে পৌর মেয়র লোকমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় পৌর কর্মচারী সংসদ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। নরসিংদী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ জহির ও কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক সরকার। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১ নবেম্বর রাত ৮টায় দলীয় কার্যালয়ে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা নরসিংদী পৌরসভার মেয়র লোকমান হোসেনের ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত লোকমান হোসেনকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাত ১১টায় লোকমান হোসেনের মৃত্যু হয়।