মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১১, ৯ অগ্রহায়ন ১৪১৮
বিমানবহরে নতুন বোয়িং, শাহজালালে নামছে আজ
পালকির পর অরুণ আলো
ফিরোজ মান্না ॥ পালকির পর এবার বিমানবহরে যোগ হচ্ছে অরুণ আলো। বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর আজ রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সিয়াটল থেকে টানা ১৬ ঘণ্টা আকাশে উড়ে সোজা বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবে অরুণ আলো। নতুন এই উড়োজাহাজটি আনতে বিমানের এক ডজনের বেশি কর্মকর্তা সিয়াটলে অবস্থান করছেন কয়েকদিন আগে থেকে। শাহজালালে উড়োজাহাজটিকে বিমানের উর্ধতন কর্মকর্তারা স্বাগত জানাবে। এ নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে আনন্দ-উৎসব বিরাজ করছে। বিমানবহরে একের পর এক আধুনিক প্রজন্মের উড়োজাহাজ যোগ হওয়ায় এয়ারলাইন্সটি বিশ্বমানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিমান নতুন উড়োজাহাজের মাধ্যমে ব্যবসা সফল এয়ারলাইন্সে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমান সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় নতুন উড়োজাহাজ বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই উড়োজাহাজটির আগমনকে কেন্দ্র করে হাতে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। এবার বিমান দুটি বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ 'পালকি' ও অরুণ আলো নিয়ে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বন্ধ রম্নট চালু এবং নতুন রুট বাড়ানোর কাজ করছে কর্তৃপৰ । ইউরোপের বিভিন্ন রুটে বিমান বিরতিহীনভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এই উড়োজাহাজের মাধ্যমে বিমান আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছে। পালকি এখন পরীৰামূলকভাবে ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা ও ঢাকা-রোম-ঢাকা নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। আরও কয়েকটি গন্তব্যে পালকি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-ম্যানচেস্টার-ঢাকা ও ঢাকা-মিলান-ঢাকা। আজকে আরেকটি উড়োজাহাজ এলে তখন রুট সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। বন্ধ থাকা দিল্লী, জাপান, প্যারিস, এথেন্স, জার্মানি, ত্রিপোলি, বাগদাদ ও মুম্বাই ফ্লাইট পরিচালনার বিমান পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
২০০৮ সালে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের ৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকার ক্রয় চুক্তি হয়। এই চুক্তির আওতায় বোয়িং ২০১১ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বিমানকে দশটি উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে। নবেম্বর মাসে আরেকটি এবং ২০১৩ সালে আরও দুটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩৩০ ইআর বিমানের বহরে যোগ হবে। বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানের ইতিহাসে এ দুটি প্রথম আধুনিক প্রজন্মের উড়োজাহাজ। নির্দিষ্ট সময়ে উড়োজাহাজ দুটি ঢাকায় এলো। এটা বিমানের জন্য বড় একটি সাফল্য। এখন বিমান সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা অনেকটাই দূর হবে।
তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিমানবহরে আধুনিক প্রজন্মের নতুন উড়োজাহাজ যোগ হলেই যে বিমানের ব্যবসা বেড়ে যাবে তা ভাবার কোন কারণ নেই। আগে বিমান ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করতে হবে। নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ চালাতে দৰ জনবল তৈরি করতে হবে। তা না হলে বিদেশী পাইলট, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার, ফার্স্ট অফিসার আর কেবিন ক্রু বেশি টাকা দিয়ে এনে ব্যবসা সফল হবে না। বিমান পরিচালনার ৰেত্রে সবার আগে প্রয়োজন দৰ 'ম্যানেজমেন্ট'। সেই মানেজমেন্ট বিমানের নেই। বিমান একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এখানে এয়ারফোর্স বা মন্ত্রণালয় থেকে কোন কর্মকর্তাকে বসিয়ে দিলে ব্যবসা হবে না। ব্যবসা করতে হলে প্রয়োজন ব্যবসায়ী লোকের। বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ যোগ হয়েছে এটা খুশির ব্যাপার। আরও উড়োজাহাজ বিমানবহরে যোগ হবে। আমরা যখন বিমান পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ছিলাম তখনই বিমানের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ২০২৯ সাল পর্যনত্ম বিমানে কিছু নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয় বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে। সেই চুক্তির কারণেই আজকের এই নতুন উড়োজাহাজ।