মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০১১, ২৬ আশ্বিন ১৪১৮
শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালায় কবিগুরুর 'শেষের কবিতা' মঞ্চস্থ
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অনন্য সৃষ্টি শেষের কবিতা। পুরো সাহিত্য জীবনে কবিগুরম্ন লিখেছেন ১৩টি উপন্যাস। এর মধ্যে ৬৭ বছর বয়সে রচনা করেছেন সর্বশেষ উপন্যাস শেষের কবিতা। কালজয়ী এই উপন্যাসের নির্যাসে আজও শিহরিত হয় প্রেমিকযুগল। উপন্যাসের প্রধান দুই চরিত্র অমিত ও লাবণ্য যেন অনন্তকালের প্রেমিক-প্রেমিকার প্রতিচ্ছবি। রবীন্দ্রনাথের এই বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাসের কাহিনীটি এখন ঠাঁই করে নিয়েছে মঞ্চনাটকেও। এর নাট্যরূপ দিয়েছেন অনন্ত হিরা। নূনা আফরোজের নির্দেশনায় ষষ্ঠ প্রযোজনা হিসেবে এটিকে মঞ্চে এনেছে নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোর। সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চায়িত হয় নাটকটি। বাংলাদেশে এটি ছিল দ্বিতীয় মঞ্চায়ন।
শিলংয়ের পাহাড়ীপথে চলছিল বিপরীতমুখী দুটি গাড়ি। হঠাৎ মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটল দুর্ঘটনা। আর এই দুর্ঘটনার সূত্র ধরে পরিচয় হয় বিলেতফেরত ব্যারিস্টার অমিত রায় ও লাবণ্যর। পাহাড়ের সবুজ অরণ্যঘেরা নির্জনতার দুর্লভ অবসরে দুজন দুজনকে দেখে মুগ্ধ। পরস্পরের চিনত্মা-চেতনার মেলবন্ধন সহজেই একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে। হৃদয়ের গহীনে সৃষ্টি হয় ভাললাগার অনুভূতি। এই ভাললাগা ও মুগ্ধতা দ্রুত গড়ায় ভালবাসার পথে। লাবণ্যর উপলব্ধিতে আসে, শুধু পাঠ্যবইয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় জীবন। সেও ভালবাসতে জানে এবং আবেগের ভেলা তাকেও ভাসাতে পারে। অন্যদিকে মেয়েদের কাছে অধরা অমিতও ধরা দেয় লাবণ্যের প্রেমের ভুবনে। চলমান প্রেমের মাঝেই দুজনের মধ্যে শুরম্ন হয় ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব। এ অবস্থায় অমিত ও লাবণ্যর ভালবাসা যখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে, তখন হঠাৎ করেই তদের বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। ঘটনা মোড় নেয় ভিন্ন পথে। অমিতের সঙ্গে তার বান্ধবী কেতকী এবং লাবণ্যের সঙ্গে বিয়ে হয় শোভন লালের। শেষ পর্যন্ত কেতকী-অমিত আর লাবণ্য-শোভন লাল কি সুখের দেখা পেয়েছিল? এভাবেই শেষ প্রশ্ন রয়ে যায়।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্র রূপায়ন করেছেন অননত্ম হিরা, নূনা আফরোজ, রামিজ রাজু, মিতালী, ইস্টের সুমী, মিথিলা, শুভেচ্ছা, আওয়াল রেজা, সরোয়ার আলম সৈকত, মাইনুল তাওহীদ, আশা জাহিদ, রিগ্যান, মনির, সীমানত্ম বিপস্নব। নেপথ্যে থেকে মঞ্চ নির্মাণে কাজ করেছেন ফয়েজ জহির, আলোকসজ্জায় তৌফিক আজীম রবিন, সঙ্গীতে রামিজ রাজু, পোশাকসজ্জায় নূনা আফরোজ, কোরিওগ্রাফিতে ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ও রূপসজ্জায় জনি সেন।
২৬ আগস্ট কলকাতার মধুসূদন মঞ্চে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। দ্বিতীয় প্রদর্শনীটি হয় শানত্মিনিকেতনে। আর দেশে ১৭ সেপ্টেম্বর এর প্রথম মঞ্চায়ন হয়।
আলোকচিত্রে জার্মানির একদিন ॥ ২০১০ সালের ৭ মে। জার্মানির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়লেন ৪৩২ জন আলোকচিত্রী। দিনভর তারা দেশটির শিল্প-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, স্থাপনা থেকে শুরম্ন করে চলমান জীবনের নানা বিষয়কে ক্যামেরাবন্দী করলেন। ক্যামেরার ফোকাসে বন্দী হলো খেলার মাঠ, বিমানবন্দর, সংসদ, ডিস্কো ক্লাব, বিদ্যালয়, গৃহকৰ। আলোকচিত্রীরা জার্মানির প্রতিনিধিত্বকারী নান্দনিক শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবন এবং সেখানকার নানা অনুষঙ্গকে ধারণ করলেন। বিষয়টা ছিল যেন অনেকটা ক্যামেরার চোখে জার্মানিকে আবিষ্কার। এই প্রয়াসের সফলতায় উদ্ভাসিত হলো জার্মান সমাজের প্রতিকৃতি। এসব ছবির মধ্যে নির্বাচিত ৫০টি ছবি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে রাজধানীর গ্যেটে ইনস্টিটিউটে। প্রদর্শনীর শিরোনাম 'জার্মানির একদিন'।
বাংলাদেশে পথ চলার ৫০ বছর পাড়ি দিয়েছে জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গ্যেটে ইনস্টিটিউট। আর এই সুবর্ণজয়নত্মী উপলৰে প্রতিষ্ঠানের ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ৮ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যনত্ম নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনেরই একটি অংশ এই ছবি প্রদর্শনী।
ইনস্টিটিউটের লাগোয়া দুই পাশের ফুটপাথ এবং ভেতরের খোলা আঙিনায় চলছে এই ছবির প্রদর্শনী। শুরম্নতেই নজর পড়ল জার্মানির ব্রান্ডেনবুর্গের একটি মহাসড়কের ছবির ওপর। নির্জন রাসত্মায় নেই কোন যানবাহন ও জনমানব। মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সড়কে ছড়িয়েছে ভোরের সি্নগ্ধতা। রাসত্মার দুই পাশজুড়ে দীপ্তিমান সবুজ পত্র-পলস্নবে আচ্ছাদিত বৃৰের সারি যেন ছড়িয়ে দেয় প্রশানত্মির আবেশ। আরেকটি আলোকচিত্রে দেখা মিলল, হাইডেনবার্গের এক গহীন বনে একাকী সেলোটি বাজিয়ে সুরের মূর্ছনা তুলেছেন এক শিল্পী। রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে শপিং মল। এ অত্যাধুনিক বহুতল শপিং মলের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা রেলের ছবিটি যেন যান্ত্রিক সভ্যতার বিস্ময় জাগিয়ে তোলে। একটি ফারনেস কারখানাকে আলো ও বর্ণ দিয়ে রূপময় করে তোলার এক অসাধারণ প্রয়াসের প্রমাণ মিলল আরেকটি আলোকচিত্রে। সঙ্গীত থেরাপি, কসাইখানা, অপেৰমাণ নৃত্যশিল্পী ইত্যাদি শিরোনামের ছবিগুলোও দর্শনার্থীর নজর কাড়ে। প্রদর্শনীর সব ছবিই রঙিন মাধ্যমে তোলা। ১৩ অক্টোবর পর্যনত্ম চলবে এ প্রদর্শনী।
শিশু সমাবেশ ও শিশুদের আনন্দ অনুষ্ঠান ॥ শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১১ উপলৰে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও পস্ন্যান বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সোমবার বিকেলে শিশু একাডেমী প্রাঙ্গণে 'শিশু সমাবেশ ও শিশুদের আনন্দ অনুষ্ঠান' আয়োজিত হয়। এতে দিনভর শিশুরা নাচ, গান, আবৃত্তি, মিনা কাটর্ুন দেখাসহ নানা আনন্দ আড্ডায় মেতে ওঠে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যারল ডি রয়, মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সালমা আলী, নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আক্তার ডলি, পস্ন্যান বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর আনোয়ার হোসেন শিকদার। সভাপতিত্ব করেন শিশু একাডেমীর পরিচালক ফালগুনী হামিদ
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সরকার শিশুদের জন্য বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দরিদ্র শিশুদের লেখাপড়ার জন্য ৫০০ শিশুকে সরকার ১৫০০ টাকা করে দিচ্ছে। সরকার দেশব্যাপী ৮৫টি শিশু পরিবার পরিচালনা করছে।
অতিথিরা পস্ন্যান বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের নারী শিশুদের ওপর তৈরি প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন। প্রতিবেদনটিতে জেন্ডার ইকুয়ালিটি অর্জনে বাবা, ভাই ও স্বামীদের ভূমিকার কথা উলেস্নখ করা হয়েছে। সবশেষে শিশুদের পরিবেশনায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।