মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০১১, ২৬ আশ্বিন ১৪১৮
চিঠি প্রত্যাহারের শর্ত গ্রামীণের, বিটিআরসির প্রত্যাখ্যান
দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে আলোচনার উদ্যোগ ব্যর্থ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে পাওনা চেয়ে পাঠানো চিঠি প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে গ্রামীণফোন। গ্রামীণের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিটিআরসি আইনী ব্যবস্থা নেবে। দুই পৰের অনড় অবস্থানের কারণে সোমবার গ্রামীণফোন ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আলোচনার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে গেছে। বিটিআরসি একটি অডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে গত ৩ অক্টোবর বিটিআরসি ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা পাওনা চেয়ে গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয়। এরপর গ্রামীণফোন সংবাদ সম্মেলন করে ওই অডিট রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র জানিয়েছে, বিটিআরসি সোমবার বৈঠকের আয়োজন করা হলেও শেষ পর্যনত্ম সব আয়োজন ভেস্তে গেছে। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টরে জনসনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল দুপুরে বিটিআরসিতে যান। বিটিআরসি থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় বসার আগে বিটিআরসির চিঠি স্থগিত রাখার শর্তের কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ বলেন, তাঁরা আলোচনায় না বসে- এড়িয়ে গেছেন। এখন কমিশন আইনী পদৰেপের দিকে আগাবে।
অডিট রিপোর্টে বিটিআরসি বলছে, ২০১১ সালের মার্চ পর্যন্ত গ্রামীণফোন (জিপি) ৩৮ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা আয় করেছে। এ হিসাবে এর ২ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা বিটিআরসির পাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এখন পাওনা রয়েছে সুদসহ ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।
বিটিআরসির চিঠি পাওয়ার পরের দিন সংবাদ সম্মেলন করে গ্রামীণফোন জানিয়েছে, যে অডিটের ওপর ভিত্তি করে গ্রামীণফোনকে সরকার ৩ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে তা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কোন মানদণ্ডে পড়ে না। এরপর বিটিআরসি ৫ অক্টোবর অডিট বিষয়ে আলোচনা করতে গ্রামীণফোনকে আহ্বান জানান।
এদিকে, ২০০৬ সালে প্রণীত শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্রসহ সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। কর্মসূচীতে প্রায় এক হাজার শ্রমিক অংশ নিয়েছে। উলেস্নখ্য, প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার।