মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০১১, ২৬ আশ্বিন ১৪১৮
জিয়াকে সেনাপ্রধান করা হলে শেখ মুজিব খুন হতেন না
জিয়া হত্যায় এরশাদ জড়িত, মঞ্জুরকেও সে হত্যা করে ॥ কর্নেল অলি
এনা, নিউইয়র্ক থেকে ॥ ড. কর্নেল (অব) অলি আহমেদ বীর বিক্রম নিউইয়র্ক হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানাকে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে বলেছেন যে, জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান করা হলে শেখ মুজিবুর রহমান খুন হতেন না। দীর্ঘ এ সাক্ষাতকারটি গত শুক্রবার বাজারে আসা ঠিকানায় প্রথম পাতায় গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়েছে। ঐ সাক্ষাতকারে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বছরের মধ্যেই হাসিনা সরকারের আয়ু শেষ।
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিদ্রোহের সময় জিয়াউর রহমানের সঙ্গেই ছিলেন কি না, জানতে চাইলে কর্নেল অলি বলেন, আমরা বিদ্রোহের পস্ন্যান করেছি তিনজন মিলে। সিলেটের গোলাপগঞ্জের রণকেলির লেঃ কর্নেল মুজিবুর রহমান চৌধুরী, আমি এবং মেজর জিয়াউর রহমান। বিদ্রোহ পস্ন্যান করার পেছনে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল। '৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর, আমাদের মনে হয়েছে পাকিস্তানীরা ক্ষমতা ছাড়বে না। নির্বাচনটা কিন্তু আওয়ামী লীগ বনাম জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে ছিল না। ছিল বাঙালী-অবাঙালীর মধ্যে। বিদ্রোহের পস্ন্যান সেই সময়ে বঙ্গবন্ধুকে জানিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানিয়েছিলাম। পরিষ্কারভাবেই আমরা শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবকে জানিয়েছিলাম '৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আমরা তাঁকে বলেছিলাম, আপনাকে পাকিস্তানীরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। আমাদের যুক্তি ছিল ২টি। একটা হলো, যদি শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে পাকিসত্মানী জেনারেলরা হুমকির মুখে পড়বে। আরেকটি হলো '৬৫-র পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোন নতুন সদস্যকে বাংলাদেশে আসতে দেখিনি। কিন্তু '৭০-এর নির্বাচনের পর দেখা গেল নতুন লোক আসছে। আর্টিলারী আসছে, পাঞ্জাব রেজিমেন্ট আসছে, বেলুচিস্তান রেজিমেন্ট আসছে। এগুলো আমাদের একটি পরিষ্কার বার্তা দিল যে, শক্তিপ্রয়োগ করে হলেও তারা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আরেকটি বিষয় আমাদের কাছে পরিষ্কার ছিল, ক্ষমতা হস্তান্তর না করে এর পরিবর্তে তারা কী পদক্ষেপ নিতে পারে? তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যনত্ম তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে খেলবে, এটা আমরা বুঝতে পারি। বঙ্গবন্ধুকে বলার পর উনার প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে কর্নেল অলি বলেন, 'নো, আই ডোন্ট নিড এ্যানি হেল্প'। বললেন, এক ইয়াহিয়া খানের পরিবর্তে আরেক ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতা দিতে চাই না। আমি যাই করি সমঝোতার মধ্যে দিয়ে করব। উনি ঠিকই ১৮ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যনত্ম সমঝোতার টেবিলে বসে গেলেন। আমরা নিশ্চিত ছিলাম, পাকিসত্মানীদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই তারা ক্র্যাকডাউন করবে।
জেনারেল শফিউলস্নাহ ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সেনা প্রধান। এ নিয়ে কি জিয়াউর রহমানের মনে কোন ক্ষোভ ছিল_ জবাবে কর্নেল অলি বলেন, নো, নো। নেভার। তিনি খুশি ছিলেন কি না, জানতে চাইলে কর্নেল অলি বলেন, অবশ্যই। তবে শফিউলস্নাহকে না বানিয়ে যদি জিয়াউর রহমানকে প্রথম সেনাপ্রধান করা হতো, তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশের আর্মি হয়ত সুসংগঠিত একটি বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। গড়ে উঠতে পারত পেশাদার আর্মি হিসেবে। যা করতে পারেননি শফিউলস্নাহ। জিয়া ছিলেন শক্ত একজন মানুষ। শৃঙ্খলার ব্যাপারে কোন কম্প্রোমাইজ ছিল না তাঁর কাছে। কোরানে মানা না থাকলে হয়ত আমি এটাই বলতাম, জিয়াউর রহমান প্রথম আর্মি চীফ হলে, শেখ মুজিব হয়ত খুন হতেন না। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃতু্যর জন্য ডাইরেক্টলি জড়িত এরশাদ এবং বহির্বিশ্ব। সবাইকে মেরে কিন্তু এরশাদ ৯ বছর শাসন করল দেশ। মেজর জেনারেল মঞ্জুরকেও সে হত্যা করল। ঠা-া মাথায় ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়ে লে. এমদাদকে দিয়ে মাথার পেছনে খুলির সঙ্গে লাগিয়ে গুলি করল। মঞ্জুর তখন বার বার চিৎকার করে বলেছিল, আমাকে জেলে নিয়ে যাও। আমাকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যেওনা। এরশাদের হুকুমেই তাকে হত্যা করে এমদাদ। এরশাদ প্রথমে নির্দেশ দেয় ব্রিগেডিয়ার আজিজকে এবং আজিজ এমদাদকে বলে, মঞ্জুরকে খুন কর। সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটা বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা নয়, দুটো বৈঠক হয়েছে। ওয়ান টু ওয়ান। আমি উনার আহ্বানে গিয়েছি। আমার একটাই বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান। আজ সরকারী দলে যারা আছে তাদের সাড়ে ৮ হাজার দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করে নিল। ২৩ খুনীকে সম্পূর্ণভাবে মাফ করে দিয়ে ঘরে পাঠাল। অনেক সময় খুনীদের ফাঁসি মাফ করে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট ২৩ জনকে মাফ করে দেয়া, নজিরবিহীন। বিএনপির সময়ে ১৪ টাকার চাল হয়েছিল ২২ টাকা। প্রতিবাদ করেছিলাম। আর এখন ৫০ টাকা হয়েছে, প্রতিবাদ না করলে_ এটা হবে আরেকটি অনৈতিক কাজ। সুতরাং জনগণের পাশে আমাকে আবারও দাঁড়াতেই হবে। আওয়ামী লীগের মতো একটা বিশাল শক্তির বিরম্নদ্ধে একা যুদ্ধ করা আমার পক্ষে অসম্ভব। যেহেতু বিএনপি, বেগম জিয়া বা তাঁর সনত্মানের বিরম্নদ্ধে একটা বিরাট ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হলো- আওয়ামী লীগের সবাই মাফ পেয়ে গেল আর বিএনপির বিরম্নদ্ধে মামলা হচ্ছে_ যা আমি মানতে নারাজ। বিচার করলে সবার করতে হবে, মাফ করলে সবারই করতে হবে। বিএনপিতে ফিরছেন না শুধু আন্দোলনের সাথী হিসেবে বিএনপির পাশে রয়েছেন_ এ ব্যাপারে কর্নেল অলি বলেন, আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি দু'পক্ষ থেকেই। বিএনপিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে ৩ জনের কমিটি। আমার পক্ষ থেকেও মহাসচিব অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমের নেতৃত্বে ৩ জনের কমিটি করে দেয়া হয়েছে। বেগম জিয়া ও আমি বসে কিছু সিদ্ধানত্ম নিয়েছি, যা আমি এখনই বলতে চাই না। তবে আমরা কি করতে চাই, তার একটা প্রসত্মাব লিখিত আকারে বেগম জিয়াকে দিয়েছি। কারণ সন্দেহ অবিশ্বাস রেখে আগানো যাবে না। আমি উনাকে একটা কথাই বলেছি, আমি এটার মাধ্যমেই এই সরকারকে ভাগাতে চাই। কারণ এই সরকার জনগণের জন্য নয়।