মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০১১, ২৪ আশ্বিন ১৪১৮
কিশোরগঞ্জে ঘোষণা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ, ৮ অক্টোবর ॥ জেলার করিমগঞ্জের দেহুন্দা ইউনিয়নের ভাটিয়া গাংপাড়া গ্রামে প্রকাশ্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যা করার ঘোষণা দেয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সন্ত্রাসীরা খুন করেছে এসএসসি পরীক্ষার্থী চয়ন মিয়াকে। জুমার নামাজ পড়ার সময় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে শুক্রবার গভীর রাতে একদল সন্ত্রাসী ঘরে ঢুকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। শনিবার সকালে চয়নের মৃতু্যর সংবাদ তার স্কুলে পেঁৗছামাত্রই ক্ষোভে ফুঁসে উঠে সহপাঠী শিক্ষার্থীরা। তারা ক্লাস বর্জন করে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে এ সময় করিমগঞ্জ চামড়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও স্কুলের শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার গাংপাড়া গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে চয়ন মিয়া (১৪) ভাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষাথর্ী ছিল। সোমবার তার টেস্ট পরীক্ষা থাকার কারণে শুক্রবার গভীর রাত পর্যনত্ম জেগে সে লেখাপড়া করে। রাতে পড়ার ঘরে চয়ন একা থাকায় সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরম্নতর জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্ পরে কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর শনিবার সকালে চয়ন মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়ে।
নিহত চয়নের চাচা মাহতাব উদ্দিন জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মসজিদে একে অপরকে ধাক্কা মারা নিয়ে চয়নকে থাপ্পড় মারে একই গ্রামের খুর্শিদ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় মসজিদের মুসলিস্নদের সামনে চয়নের বাবা ফরিদ উদ্দিন বিচারের মাধ্যমে তার ছেলেকে শাসন করেন। এরপর প্রকাশ্যে মুসলিস্নদের উপস্থিতিতে চয়নকে রাতের মধ্যেই খুন করার হুমকি দেয় রিপন। তিনি আরও জানান, ওই দিন বিকেলে রিপন, তার ভাই শরীফ, আলম, হবি ও বাবা খুর্শিদ মিয়া সশস্ত্র অবস্থায় চয়নের বাড়িতে গিয়েও তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
ভাটিয়া গাংপাড়া ফকির বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নূরম্নলস্নাহ জানান, জুমার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় চয়নের সঙ্গে ধাক্কা খায় রিপন। এ নিয়ে হাতাহাতির পর চয়নের বাবা মুসলিস্নদের উপস্থিতিতে ঘটনার মীমাংসা করেন। কিন্তু এ ঘটনার বিচার রিপন মানতে নারাজ। সে চয়নকে রাতের মধ্যেই হত্যা করবে বলে জনসম্মুখে ঘোষণা দেয়।
করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আক্তারুজ্জামান জানান, হত্যাকা-ের ঘটনায় রিপনের পিতা খুরশিদ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যনত্ম থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান তিনি।