মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০১১, ২৪ আশ্বিন ১৪১৮
জুবাইদা গুলশান আরার এ্যালবামের প্রকাশনা উৎসব ট্যুরিস্ট ক্লাবে
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপরিচিত ও নন্দিত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক জুবাইদা গুলশান আরা। তবে এ পরিচয় ছাপিয়ে এবার তিনি আবির্ভূত হলেন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে। প্রকাশিত হলো তাঁর আধুনিক বাংলা গানের এ্যালবাম 'গান আমার পরশমণি।' শিল্পীর নিজের লেখা দুটি মৌলিক গানের সঙ্গে ষাটের দশক থেকে বর্তমান সময়ের ৯টি জনপ্রিয় আধুনিক বাংলা গান দিয়ে সাজানো হয়েছে এ্যালবামটি।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর ট্রেজার আইল্যান্ড টু্যরিস্ট ক্লাবে এ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আসমা আব্বাসী, মাহবুবুল হক, মফিজুল ইসলাম, ফয়জুননেসা সিদ্দিক ও মিনা আজিজ। এ ছাড়াও শিল্পীর মেয়েসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন এ প্রকাশনা উৎসবে।
শিল্পীর গান সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, গুলশান আরার লেখালেখির সঙ্গে অনেক আগে থেকেই পরিচিত ছিলাম। কিন্তু তিনি যে নিভৃতে গানের চর্চা করেন, এই এ্যালবামটি প্রকাশ না হলে সেটি জানতাম না। এই শিল্পী বাংলা সংস্কৃতির জন্য নিবেদিত মানুষ হওয়ায় তাঁর এ্যালবামটিও হবে সৃজনশীল। লেখালেখির পাশাপাশি শিল্পী এবার সুন্দর কণ্ঠস্বর দিয়ে সঙ্গীতপ্রেমীদের মাঝে অনাবিল আনন্দ ছড়িয়ে দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বক্তারা বলেন, গুলশান আরা এতো দিন নীরবে গানের চর্চা করেছেন। বিভিন্ন সময়ে কাছের মানুষদের নিয়ে নিজ বাসায় গানের আসর বসাতেন। এ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর গানের চর্চার পূর্ণতা পেল। এই শিল্পীর সুরের ধারায় বাংলা গান আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে।
এ্যালবাম সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শিল্পী বলেন, সবার ভেতরেই গান বসবাস করে। এ কারণেই অধ্যাপনায় ও সাহিত্য চর্চায় ব্যসত্ম থাকলেও গান কখনও আমাকে ছেড়ে যায়নি। আর গানের প্রতি আমার সেই ভালবাসার প্রকাশ ঘটল এ এ্যালবামের মাধ্যমে। এ্যালবামটি শ্রোতাদের ভাল লাগলে আমার শ্রম সার্থক হবে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পী জুবাইদা গুলশান আরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। গানে গানে শ্রোতাদের মনে ছড়িয়ে দেন সুরের অনুরণন। তিনি একে একে গেয়ে শোনান 'আকাশের নীল চাঁদোয়া, 'আমার নয়নে', 'একটুকু ছোঁয়া লাগে', 'দিও না দুঃখ', 'গীত গাতা হু ম্যায়' 'দিল কেয়া চিজ হ্যায়'সহ বেশ কয়েকটি গান।
'গান আমার পরশমণি' এ্যালবামটি প্রকাশ করেছে প্রযোজনা সংস্থা বাংলার গান। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন মোঃ গোলাম সারোয়ার। এ্যালবামে রয়েছে শিল্পীর নিজের লেখা দুটি মৌলিক গান 'মা যে ডাক দিয়ে যায়' ও 'দিও না দুঃখ'। পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে লেখা হয়েছে 'মা যে ডাক দিয়ে যায়' গানটি। বাকি নয়টি গানের শিরোনাম হলো 'গান আমার পরশমণি' 'ওই আকাশ প্রদীপ তারা', 'সেই বাসর নেই', 'আগে জানিনারে দয়াল', 'এরই নাম প্রেম', 'ওগো আর কিছু তো নাই', 'কি মিষ্টি কি মিষ্টি', 'ললিতা গো' ও 'ওগো অভিমানী প্রিয়'। শিল্পী এ্যালবামটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর সঙ্গীতগুরম্ন বিভূতি আলতাফ মাহমুদ, ভূষণ মুনশী, নারায়ণ চন্দ্র বসাক, ছাবেদ আলী ভূঞা ও ওসত্মাদ ফুল মোহাম্মদকে।
৫০ বছরে পদার্পণ করল গ্যেটে ইনস্টিটিউট ১৯৬১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মানে এবং বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকায় যাত্রা শুরম্ন করে গ্যেটে ইনস্টিটিউট। ভিনদেশে নিজস্ব সংস্কৃতি প্রচার ও প্রসারের লৰ্যে জার্মান সরকার প্রতিষ্ঠা করে এ সংষ্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। সেই থেকে পথচলার পঞ্চাশ বছর পাড়ি দিল গ্যেটে ইনস্টিটিউট।
অর্ধশতাব্দীর আনন্দময় মুহূর্তটিকে উদ্্যাপন করতে প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করেছে ছয় দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। শনিবার থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই শাখাতেই একযোগে শুরম্ন হয় ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। এই আনন্দ আয়োজনের শিরোনাম দেয়া হয়েছে 'হ্যাভ এ লুক বিহাইন্ড দ্য সিন অব গ্যেটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ।'
উদ্বোধনী দিন থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যনত্ম ঢাকায় চলবে 'ওয়ান ডে ইন জার্মানি' ও 'ওয়াকিং ডাউন দ্য মেমোরি লেন' শীর্ষক দুটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী। উৎসবের দ্বিতীয় দিন রবিবার ঢাকা শাখার বার্লিন হলে প্রদর্শিত হবে মঞ্চনাটক 'মেটামরফসিস'। মঞ্চায়ন করবে সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার। ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামের তাভা রেস্টুরেন্ট এ্যান্ড লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে জার্মানির 'জেনস ফ্রিব' ও বাংলাদেশের 'বস্ন্যাক' ব্যান্ডের কনসার্ট। ১২ অক্টোবর ধানম-ির অঙ্ফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে থাকছে 'এ্যান আফটারনুন উইথ জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ পার্টনার স্কুলস' শীর্ষক ভাষা কোর্সের আয়োজন। সমাপনী দিন ১৩ অক্টোবর ঢাকা শাখার বার্লিন হলে থাকছে জার্মানির 'জেনস ফ্রিব' ও বাংলাদেশের 'বস্ন্যাক'-এর কনসার্ট।
বিনোদন ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরম্ন তরম্নণ সমাজকে দেশীয় বিনোদনের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ফিউশনকাইট ডটকম নামে একটি নতুন বিনোদন ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরম্ন হলো। শনিবার রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এই ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তরম্নণ প্রজন্ম ঘরে বসে সিনেমা, নাটক, ফ্যাশন শো, সঙ্গীত, চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র, রূপচর্চা, বিনোদন সাময়িকী, সংবাদপত্র, বস্নগ, স্মৃতিকথা নানা প্রকার বিনোদনের খবর জানতে পারবে।
বুধবার থেকে কলকাতায় 'বাংলাদেশী বইমেলা' পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের সাহিত্যের বইয়ের বাজার প্রসারের লৰ্যে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে কলকাতায় শুরম্ন হচ্ছে 'বাংলাদেশী বইমেলা।' কলকাতার রবীন্দ্র সদনের গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শনশালায় পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা বসবে। মেলার উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শিৰামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ও রফতানি উন্নয়ন বু্যরো যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। এ মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশের ২৯টি প্রকাশনা সংস্থা। শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ফরিদ আহমেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি মুফিদুল হক, ইপিবির সহসভাপতি জালাল আহমেদ, পরিচালক (মেলা) আখতারম্নজ্জামান।
বক্তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদের বইয়ের একটি নির্দিষ্ট পাঠকশ্রেণী রয়েছে। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের বইয়ের অপর্যাপ্ততার কারণে পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। এ বইমেলার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করব সারাবছর যেন কলকাতার পাঠকরা আমাদের বইগুলো পেতে পারে। তাঁরা আরও বলেন, এবারের মেলায় সর্বমোট ১৫ হাজার ডলার সমমূল্যের (যা সংখ্যায় প্রায় ১০-১২ হাজার) বই ওঠানো হবে। বইগুলোর মূল্য বাংলাদেশী টাকায় যা হয়, ভারতীয় রম্নপীতেও তাই রাখা হবে। এ মেলা থেকে ক্রেতারা ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই কিনতে পারবে।
মেলা চলবে আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যনত্ম চলবে। এর মধ্যে ১৪ তারিখ একটি বিশেষ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। যাতে ভারতের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন। বইমেলায় অংশ নেয়া প্রকাশনা সংস্থাগুলো হচ্ছে_ অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, সময়, অনুপম প্রকাশনী, অন্বেষা, সাহিত্য প্রকাশ, একুশে বাংলা প্রকাশন, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, আগামী প্রকাশনী, আহমদ পাবলিশিং হাউস, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, বিদ্যা প্রকাশ, মাওলা ব্রাদার্স, শিখা প্রকাশনী, পার্ল পাবলিকেশন্স, নালন্দা, বাংলা প্রকাশ, সিসটেক পাবলিকেশন্স, বাঁধন পাবলিকেন্স, শুদ্ধস্বর, অঙ্কুর প্রকাশনী, জিনিয়াস পাবলিকেশন্স, সন্দেশ, সদর প্রকাশনী, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, প্রথমা প্রকাশন, সংঘ প্রকাশন, বিজয় ডিজিটাল ও র্যামন পাবলিশার্স।
ছায়ানটে মঞ্চস্থ পারিবারিক টানাপোড়েনের গল্প নষ্ট নীড় ॥ রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে শনিবার মঞ্চস্থ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নির্মিত নাটক 'নষ্ট নীড়'। এটি ঢাকা থিয়েটারের ৩৫তম প্রযোজনা। রুবাইয়াত আহমেদের রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।
লেখক ভূপতির অল্প বয়সী সুন্দরী স্ত্রী চারম্নলতা। তাদের বাড়িতে বসবাসকারী অনেক আশ্রিতদের একজন অমল। সম্পর্কে অমল ভূপতির দূর সম্পর্কের ভাই। সারাদিন কর্মব্যসত্ম সময় কাটে ভূপতির। অন্যদিকে অবসরে অমলের সঙ্গে পড়ালেখাসহ আড্ডা জমে ওঠে চারম্নর। বিষয়টি মাঝে থাকে নির্মল বন্ধুত্ব। কালক্রমে অমল বিখ্যাত লেখক হিসেবে পরিচিতি পায়। অমলের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের এক এ্যাডভোকেটের মেয়ের বিয়ে হয়। অমলের শ্বশুর তাকে বিলেত পাঠিয়ে দেন। অমলের এই চলে যাওয়ায় চারম্নর মনের প্রকৃত অবস্থা উন্মুক্ত হয়। স্বামী ভূপতিও বুঝতে পারেন তাঁর স্ত্রী ভেতরে অন্য একজনের জন্য ভালবাসা জন্মেছে। এভাবে নাটকের গল্পটি এগিয়ে চলে এবং নাটকের সমাপ্তি হয়।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিমুল ইউসুফ, সাজ্জাদ রাজীব, নাজমুল ইসলাম অনিক, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, খাইরুল ইসলাম পাখি ও জয়শ্রী কর।