মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০১১, ২৪ আশ্বিন ১৪১৮
প্রাইমারীতে আরও ১৫ হাজার শিক্ষক ৩/৪ মাসের মধ্যে নিয়োগ
শীঘ্রই শিক্ষকপুল ॥ নিয়োগ দেয়া হবে ২০ হাজার খণ্ড কালীন শিক্ষক
বিভাষ বাড়ৈ ॥ প্রতিষ্ঠানের শিৰক-কর্মচারী সঙ্কট দ্রুত নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজ বলে মনে করে প্রাথমিক ও গণশিৰা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিৰা অধিদফতর। এ লক্ষে গত আড়াই বছরেই প্রাথমিক শিৰা সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৬০ হাজার ৭৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী। কেবল তাই নয়, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে আরও ১৫ হাজার শিৰক, যার মধ্যে পাঁচ হাজার প্রধান শিক্ষক এবং বাকি ১০ হাজার সহকারী শিৰক। শিক্ষক সঙ্কট কাটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাদান অব্যাহত রাখতে শীঘ্রই গঠন করা হচ্ছে শিক্ষক পুল। পুলের আওতায় প্রতিউপজেলায় ৪০ জন করে ৫০৩ উপজেলায় নিয়োগ দেয়া হবে ২০ হাজার খ-কালীন শিক্ষক। প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১১-১২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে শিৰক কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে এছাড়া বেরিয়ে এসেছে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের নানা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়িত হওয়া নানা কর্মকা-ের চিত্র। জনবল সঙ্কট নিরসনের বিষয়টিতে সনত্মোষ প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেছেন, মাত্র আড়াই বছরে কেবল একটি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৬১ হাজার শিৰক-কর্মচারী নিয়োগের ঘটনা বিরল। অন্য অনেক মন্ত্রণালয় মিলেও এই বিশাল জনবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনবল নিয়োগ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্ব, আত্মীকৃত এবং উন্নয়ন খাতে মোট ৬০ হাজার ৭৪০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার (প্রথম শ্রেণী) নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৪২ জন, সহকারী উপজেলা শিৰা অফিসার (দ্বিতীয় শ্রেণী) নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৫৬০ জন। প্রধান শিৰক এক হাজার ৮৫২ জন, সরকারী শিৰক সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৭০৩ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় শতভাগ শিৰার্থীর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা গেলেও তাদের সকলকে শিৰায় ধরে রাখা যাচ্ছে না। তবে সরকারের গত আড়াই বছরের নানা উদ্যোগের ফলে প্রাথমিক শিৰা থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমে ৪৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে। প্রাথমিক ও গণশিৰা মন্ত্রী ডা. আফছারম্নল আমীন বলেছেন, এখন তাঁর মন্ত্রণালয়ের বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিৰাথর্ীদের ঝরেপড়া রোধ এবং ২০১৪ সালের মধ্যে নিরৰরমুক্ত দেশ গড়া। চলতি শিৰাবর্ষে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সের বিদ্যালয় গমনোপযোগী ৯৯ দশমিক ৪৭ ভাগ শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণী পর্যনত্ম প্রাথমিক শিৰাচক্র শেষ করার আগেই ২১ ভাগ ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়ে। কিন্তু বিভিন্ন এনজিও সংস্থার জরিপে প্রাথমিক সত্মরের ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কথা বলা হচ্ছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষক সঙ্কট কাটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাদান অব্যাহত রাখতে প্রাাথমিক শিক্ষক পুল গঠনের আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। শীঘ্রই শিক্ষক পুল চালু করা হবে। এ পুলের আওতায় সারাদেশে ২০ হাজার খ-কালীন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। প্রতিউপজেলায় ৪০ জন করে ৫০৩ উপজেলায় এ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।
প্রাথমিক শিৰা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিন হাজার সহকারী প্রধান শিৰক ও ছয় হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ খালি আছে। নতুন শিৰক নিয়োগকালে আরও ২ হাজার প্রধান শিৰক ও ৬ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হবে। অবসর, চাকরি ছেড়ে দেয়া, মৃতু্যবরণ করাসহ নানা কারণে প্রতিনিয়তই শিৰকের পদ খালি হতে থাকে। প্রাথমিক ও গণশিৰা সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার জানিয়েছেন, ১০ হাজার শিৰক নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিৰা অধিদফতর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। চলতি মাসেই প্রকাশ করা হবে প্রধান শিৰক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। আমরা মানসম্মত প্রাথমিক শিৰার কথা বলি। পর্যাপ্ত শিৰক ছাড়া আমরা মানসম্মত শিৰা নিশ্চিত করতে পারব না। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গড়ে চার জন করে শিৰক রয়েছেন। সরকারী প্রাথমিক শিৰক সমিতির নেতা বিএম আসাদ উলস্নাহ সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রশংসা করলেও বললেন, প্রাথমিক সত্মরে শিৰক সঙ্কট দীর্ঘ দিনের। শিৰক নিয়োগের সিদ্ধানত্ম ইতিবাচক। তবে বাসত্মবতা হচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় এরমধ্যে নতুন অনেক শূন্য পদের সৃষ্টি হয়। ফলে শিৰক সঙ্কট থেকেই যায়। ২০১০-১১ বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ৩৭ হাজার ৬৭২ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এতে মোট শিৰকের সংখ্যা দুই লাখ ১৩ হাজার। এরমধ্যে ৫৮ শতাংশ মহিলা। মোট শিৰাথর্ীর সংখ্যা ৯৮ লাখ ৮৫ হাজার।