মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০১১, ২৪ আশ্বিন ১৪১৮
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে উচ্চ আদালত
এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই ॥ আইন প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবির আড়ালে বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের রৰা করতে চাচ্ছে।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনাসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। সম্মিলিত তরুণ পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সভায় বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী-৩ আসনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক ব্যারিস্টার জাকির আহম্মদ ও 'আজকের সূর্যোদয়' পত্রিকার সম্পাদক খন্দকার মোজাম্মেল হক।
এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সরকার বাতিল করেনি; উচ্চ আদালত বাতিল করেছে। উচ্চ আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই এ নিয়ে আলোচনার আর কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হয়। কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার নজির নেই।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর বর্তমান বিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, যা নিয়ে সরকারী দল ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি থেকে সরে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার পরামর্শ দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির রোডমার্চ কর্মসূচী নিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রসত্ম এবং গ্রেনেড হামলাকারীদের বাঁচাতেই বিরোধী দল রোডমার্চের কর্মসূচী দিয়েছে। কর্মসূচীর নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবি বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিরোধী দলকে আলোচনা করার জন্য সংসদে আসার আহ্বান জানান কামরম্নল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রম্নয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। সংসদে আসুন, কিভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করি।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকারের আনত্মরিকতা তুলে ধরে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, একে একে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হবে। প্রয়োজনে একাধিক ট্রাইবু্যনাল গঠন করে এ সরকারের আমলেই বিচার শেষ করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ স্বচ্ছভাবে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অপর এক সমাবেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন এবং দেশকে জঙ্গীমুক্ত করতে দেশবাসীর সহায়তা চেয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরম্নল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং দেশকে জঙ্গীমুক্ত করার কাজ শুরম্ন করেছে, এ সময় সবাইকে সরকারের সঙ্গে থাকতে হবে।
এদিন মহানগর নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির এক সমাবেশে বক্তব্য দানকালে তিনি এ আহ্বান জানান। ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাল করা হলে দলিল লেখকদের চাকরি থাকবে না বলে যে গুজব চলছে তা ভিত্তিহীন বলে মনত্মব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, দলিল লেখকদের পেশা ঠিক রেখেই সরকার ভূমিব্যবস্থা ডিজিটাল করবে। এ সময় তিনি রেজিস্ট্রার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নূর আলম ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলিল লেখক সমিতির উপদেষ্টা কুমিলস্না-৬ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ আকম বাহাউদ্দিন বাহার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ সাবেক ছাত্রনেতা নজরম্নল ইসলাম বাবু এবং আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এমএ রশিদ।
সমাবেশে দলিল লেখক সমিতির পৰ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আছে দলিল নিবন্ধন ডিজিটালের নামে দলিল লেখকদের পেশাচু্যত করা যাবে না। ৫ হাজার টাকা মূল্যমানের দলিলের জন্য ৫শ' টাকা তদুর্ধে ২ শতাংশ হারে পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতীত অন্যদের দলিল লেখা থেকে বিরত রাখা, সঠিক তদনত্ম ব্যতীত দলিল লেখকদের সনদ বাতিল ও তাদের আসামি করা থেকে বিরত থাকা, দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন, উপজেলা ও জেলা কমিটির সুপারিশ ব্যতীত নতুন লাইসেন্স দেয়া থেকে বিরত থাকা, সকল ধর্মের জন্য দানপত্র নিয়ম চালু করা, উপজেলা ও জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সরকারী খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের জন্য স্থান নির্মাণ করতে হবে।